ঢাকা     সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৬ ১৪২৯

চরম দুর্ভোগে রাজশাহীর যাত্রীরা

রাজশাহী সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৫৯, ২ ডিসেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৯:৩৫, ২ ডিসেম্বর ২০২২

রাজশাহী বিভাগে দুদিন ধরে বাস ধর্মঘটের কারণে এমনিতেই দুর্ভোগে ছিলেন মানুষজন। এর সঙ্গে সিএনজি অটোরিকশা ও থ্রিহুইলার ধর্মঘট শুরু হওয়ায় দুর্ভোগ এবার চরমে পৌঁছেছে। জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় মানুষজনকে বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

গত বুধবার থেকেই বিভিন্ন দাবিতে রাজশাহী বিভাগে চলছে বাস ধর্মঘট। শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে শুরু হয়েছে সিএনজি অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলার ধর্মঘটও। 

সাধারণ মানুষের ধারণা, শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘট চালিয়ে নেবেন এ খাত সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার সকালে নগরীর শিরোইল ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কারিগারি কর্মকর্তা সোহেল চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন হাসপাতাল-ক্লিনিকে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করে। রাজশাহীর বেসরকারি আমানা হাসপাতালের একটি যন্ত্রের সমস্যার কারণে জরুরিভাবে ডাকা হয়েছে আমাকে। রাতেই আমি ট্রাকের সামনের সিটে বসে রাজশাহী আসি। কাজ শেষ করে এবার ফেরার পালা। কিন্তু গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ফিরবো কিভাবে তা বুঝে উঠতে পারছি না।’

নগরীর সাগরপাড়া এলাকার মাইক্রোস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, এখানে ৭-৮ জন যাত্রী একত্রিত হয়ে গাড়ি ভাড়া করার চেষ্টা করছেন। তাদের মধ্যে একজন আমিনুল হক। 
আমিনুল হক বলেন, ‘সাধারণ বাস বন্ধ থাকলেও বিআরটিসির বাস চলবে এমনটি ভেবেছিলাম। তাই বিআরটিসি কাউন্টারে যাই। কিন্তু বিআরটিসির বাসও বন্ধ। বাধ্য হয়ে মাইক্রোবাস ভাড়া করতে হচ্ছে।’ বিআরটিসির বাস কেন বন্ধ রয়েছে সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বিআরটিসির কাউন্টারের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্মঘটের সময় গাড়ির কোনো নিরাপত্তা নেই। আমাদের গাড়িও যদি রাস্তায় ভাঙচুর করা হয়, তাহলে দায় নেবে কে? সরকারি সম্পদ তো নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। সে জন্যই গাড়ি আপাতত বন্ধ রয়েছে।’

দুপুরে নগরীর রেলগেট এলাকায় কথা হয় মোহনপুরের কেশরহাটের বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সকালে সিএনজি অটোরিকশায় করে জরুরি প্রয়োজনে শহরে এসেছিলাম। দুপুরে কাজ শেষে ফেরার পথে জানতে পারলাম সিএনজি ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এখন বাড়ি যাওয়া নিয়ে বেকায়দায় পড়েছি।’

রাজশাহী জেলা মিশুক-সিএনজি মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আহসান হাবিব বলেন, ‘দুই দফা দাবিতে আমরা ধর্মঘট শুরু করেছি। দাবি দুটি হলো- সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে বাস মালিকরা যাতে আমাদের বাধা দেওয়া বন্ধ করেন এবং বিআরটিএ’র হয়রানি বন্ধ করা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।’

বিভাগীয় পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সাফকাত মঞ্জুর বলেন, ‘দুদিন হয়ে গেল ১১ দফা দাবিতে আমরা ধর্মঘট করছি। আমাদের দাবির বিষয়ে প্রশাসন কোনো আলোচনা করেনি। বিভাগীয় কমিশনার যদি এখনই আমাদের সঙ্গে বসে দাবি মেনে নেন, তাহলে এখনই ধর্মঘট তুলে নেব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ধর্মঘট চলবেই।’

শিরিন সুলতানা/ মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়