ঢাকা     শুক্রবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২০ ১৪২৯

প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন আজ, উৎসবের আমেজ

কক্সবাজার প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:০৫, ৭ ডিসেম্বর ২০২২   আপডেট: ০৯:১০, ৭ ডিসেম্বর ২০২২
প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন আজ, উৎসবের আমেজ

প্রায় সাড়ে ৫ বছর পর পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এ জনসভাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেছেন। 

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তজার্তিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে নতুন কিছুর আশায় বুক বেঁধেছেন জেলাবাসী। সরকারের ১৪ বছরে কক্সবাজারে বাস্তবায়নাধীন সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার ৭২টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রস্তুত গোটা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ।

এছাড়া, বঙ্গবন্ধুকন্যার কাছে কক্সবাজারবাসী আরও কিছু প্রত্যাশা করেন। কক্সবাজার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কক্সবাজার মেডিক‌্যাল কলেজে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সংযুক্তিকরণ, কক্সবাজারের সাথে মহেশখালী উপজেলার সংযোগ সেতু ও বাখঁকালী নদীর তলদেশ দিয়ে ট্যানেল নির্মাণ, কুতুবদিয়া-মগনামার মধ্যে ফেরি সার্ভিস চালুকরণ, কক্সবাজার পর্যটন গবেষণা ইনস্টিটিউট, চার লেনের মেরিন ড্রাইভ সড়ক, ছয় লেনের কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহসড়ক, কক্সবাজার সিটি করপোরেশন, কক্সবাজার সিটি কলেজকে সরকারিকরণ, ঝিনুক ব্যবসার সাথে জড়িত উচ্ছেদকৃত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও স্থায়ী আধুনিক ঝিনুক মার্কেট নির্মাণসহ নানা দাবি স্থানীয়দের।

সর্বস্তরের মানুষের দাবি, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটারের রেললাইন সম্প্রসারণ ও কক্সবাজারে ঝিনুক আকৃতির আইকনিক রেলস্টেশন নির্মাণ, সাগরের পানি ছুঁয়ে সুপরিসর বিমান ওঠানামার জন্য কক্সবাজার বিমানবন্দরে দেশের দীর্ঘ (১০ হাজার ৭০০ ফুট দৈঘের্যর) রানওয়ে সম্প্রসারণ যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা এবং মানুষের জীবনযাত্রায় উন্নয়ন ঘটেছে। এ উন্নয়ন ও দিন বদলের নেতৃত্ব দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বরণ করতে এবং তার মুখে আগামীর বার্তা শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কক্সবাজারবাসী। এবার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের বাকি চাওয়া-পাওয়া পূরণ করবেন, এমনই প্রত্যাশা সবার।

আজ সকাল সাড়ে ১০টায় উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আয়োজিত নৌশক্তি প্রদর্শন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মহড়ায় বাংলাদেশসহ ২৮ দেশের ৪৩টি যুদ্ধজাহাজ, ২টি বিএন এমপিএ, ৪টি বিএন হেলিকপ্টার অংশ নিচ্ছে। ইতিমধ্যে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজকরা।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সূত্র মতে, মহড়ায় বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, থাইল্যান্ড, চীন, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়ার জাহাজসহ প্রায় ২৮টি দেশের নৌ-কমান্ডার, যুদ্ধ জাহাজ অংশ নেবে।

এছাড়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, মিশর, নাইজেরিয়া, সুদান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, তিমুর-লেস্তে থেকে নৌ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। মহড়ায় ইরান, ওমান, ফিলিস্তিন ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়া, আজ জেলায় ২৯ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি। ১ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। একইসঙ্গে ৫৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কার্যালয় উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনযোগ্য প্রকল্পের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। 

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে জনসভায় জেলার ৯ উপজেলা, ৪ পৌরসভাসহ জেলার ৭১টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে অন্তত ৫ লাখ লোকের সমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। 

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে শত শত তোরণ নির্মাণ, দলীয় নেতা-কর্মীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো কক্সবাজার শহর। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেও নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য তোরণ।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে কক্সবাজারে। শুধু জনসভার মাঠ নয়, লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠবে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, বাহারছড়ার মুক্তিযোদ্ধা চত্বর, হলিডের মোড়, শহীদ স্মরণী এলাকা, কলাতলীর হোটেল মোটেল জোন হয়ে কলাতলীর ডলফিন মোড় পর্যন্ত। এজন্য পুরো এলাকাজুড়ে দুই শতাধিক মাইকের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ৪ স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এজন্য পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও সার্বিকভাবে কাজ করছে।

তারেকুর রহমান/ইভা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়