ঢাকা     সোমবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১৩ ১৪৩০

হিলি বন্দরের অভ্যন্তরীণ সড়কের বেহাল দশা

মোসলেম উদ্দিন, দিনাজপুর  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:১৬, ২০ জানুয়ারি ২০২৩   আপডেট: ১২:২৬, ২০ জানুয়ারি ২০২৩
হিলি বন্দরের অভ্যন্তরীণ সড়কের বেহাল দশা

দিনাজপুরের হিলিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্থলবন্দরের অবস্থান। এই বন্দর থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব পেয়ে থাকে। কিন্তু এই বন্দরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর বেহাল দশা হওয়ায় আমদানি-রপ্তানিকৃত মালামাল লোড-আনলোডে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় ট্রাক চালক থেকে শুরু করে শ্রমিকদের। এছাড়াও পর্যাপ্ত ছাউনি বা সেড না থাকায় বর্ষা মৌসুমে ট্রাকে থাকা অনেক মালামাল বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হন আমদানিকারকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হিলি স্থলবন্দর অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো কাঁচা অবস্থায় রয়েছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে বন্দর অভ্যন্তরে প্রচুর ধুলার সৃষ্টি হয়। এতে করে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে সেখানে কাজ করা শ্রমিক ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের। বর্ষা মৌসুমে অল্প পানিতে রাস্তাগুলোয় এক হাঁটু সমান কাদা জমে। তাতে আবার পণ্যবাহী ট্রাকগুলো নিয়ে চলাচল করতে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন চালকরা। ফলে মালামাল লোড আনলোডে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। 

এদিকে, বন্দরের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত সেড না থাকায় খোলা আকাশের নিচেই ভারত ও বাংলাদেশের ট্রাক থেকে চলে পণ্য লোড-আনলোড। অনেক সময় বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয় ভারত থেকে আমদানি করা মালামাল।

ভারতীয় চারজন ট্রাকচালক অভিযোগ করে রাইজিংবিডিকে বলেন, এই বন্দরে আমাদের অনেক সমস্যা নিয়ে চলাচল করতে হয়। রাস্তাগুলো পাকা না হওয়ায় প্রচুর ধুলা হয়। আমরা এখানে রান্নাবান্না করে খাওয়া দাওয়া করি। ধুলার কারণে খুব সমস্যা হয়। বিভিন্ন অসুখ হয়ে থাকে। বর্ষার সময়ও কাদা তৈরি হয়। কাদায় ট্রাক চালানো খুবই কষ্টের। এই বন্দরের পানির ব্যবস্থা ভালো নেই, পানিতে আয়রন। আবার পর্যাপ্ত সেডও নেই। যার কারণে বর্ষা মৌসুমে গাড়ি থেকে মাল আনলোডে ব্যাপক বিপাকে পড়তে হয়।

বাংলাদেশের দুইজন ট্রাকচালক বলেন, বন্দরের ভেতর সড়কগুলোর খুবই খারাপ অবস্থা। আমাদের গাড়ি চালাতে অনেক অসুবিধা হয়।’

হিলির পৌর মেয়র ও সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জামিল হোসেন চলন্ত বলেন, ‘হিলি বন্দর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় প্রচুর ধুলার সৃষ্টি হয়। বর্ষার সময় সৃষ্টি হয় কাদার। দ্রুত সময়ে মধ্যে যদি সড়কগুলো পাকা করা হয় তাহলে  সমস্যা থাকবে না। আমি যথাযথ বন্দর কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে সুদৃষ্টি কামনা করছি। তারা যেন এই বন্দরের সমস্যাগুলো সমাধান করেন।’

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন বলেন, ‘এই বন্দরের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগুলো ব্যাপক সমস্যায় জর্জরিত। এখানে অনেক অনিয়ম-দুর্নীতি চলে। ব্যবসায়ীরা সঠিকভাবে ব্যবসা করতে পারছেন না। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো পাকা কিংবা ঢালাই না হওয়ায় পণ্য খালাস করতে সময় লাগে। ফলে আমদানি কারকদের বাড়তি টাকা খরচ হয়।’ 

হিলি পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক অশিত কুমার শ্যানাল বলেন, ‘আমরা বন্দর অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছি। হিলি ফোরল্যান্ড সড়কের কাজ শেষ হলে আমাদের কাজ শুরু করবো। আপাতত যাতে সড়কে ধুলা বালি না হয় সেজন্য বন্দর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে পানি দেওয়া হচ্ছে।’

মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়