ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ৯ ১৪৩০

তিন বছরেও হয়নি সেতু, বিপাকে স্থানীয় ও পর্যটকরা

মওলা সুজন, নোয়াখালী || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৪৩, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩   আপডেট: ১০:৫৮, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩
তিন বছরেও হয়নি সেতু, বিপাকে স্থানীয় ও পর্যটকরা

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া। এই উপজেলার নিঝুমদ্বীপে জোয়ারের প্রভাবে গত তিন বছর আগে ছোয়াখালী সেতুটি ভেঙে যায়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। সেই সঙ্গে বিপাকে পড়ছেন নিঝুম দ্বীপ বেড়াতে আসা পর্যটকরাও। 

তিন বছর আগে ভেঙে যাওয়া সেতুটির পাশে সাময়িক চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এখন সেটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে প্রতিদিনের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নিঝুম দ্বীপে ঘুরতে আসা পর্যটক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের ছোয়াখালী বাজার সংলগ্ন সেতুটি ৪ নম্বর ওয়ার্ড ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থল। এই সেতু পার হয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার বাসিন্দা উপজেলা সদরে যাতায়াত করতেন। কিন্তু সেতু ভেঙে যাওয়ার ৩ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়নি। এতে স্থানীয়দের ভোগান্তির শেষ নেই। বিকল্প কাঠের সেতু নির্মাণ করা হলেও সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের সুদৃষ্টির অভাব আর অবহেলার কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 

তছলিম নামে স্থানীয় একজন বলেন, তিন বছর আগে সেতুটি ভেঙে গেছে। এখনো নির্মাণ করা হয়নি। এপাশ থেকে ওপাশ যাতায়াত করা কঠিন। মালামাল আনা নেওয়া করা যায়না। বিকল্প কাঠের সেতুও ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আফসার নামে সিএনজি অটোরিকশা চালক বলেন,  যাত্রী নিয়ে কাঠের সেতুটি পার হওয়া যায় না। যাত্রী নামিয়ে দিয়ে খালি গাড়ি পার করতে হয়। তারপরও ভয় কাজ করে। কখন গাড়িসহ নিচে পড়ে যাই। কিছুদিন আগে দুর্ঘটনা ঘটেছে। আল্লাহ রক্ষা করেছেন বলে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

শামীম নামের অপর একজন বলেন, বিকল্প কাঠের সেতু নির্মাণ করা হলেও ভারি মালামাল আনা নেওয়া করা যায় না। পর্যটক আসুক বা অন্য যেই আসুক সেতুর গোড়ায় নেমে হেটে যেতে হয় তাকে। শুনেছি ব্রিজটি হবে কিন্তু এখনো হচ্ছে না। পর্যটকরা একবার আসলে দ্বিতীয়বার আর আসতে চান না।

নিঝুম দ্বীপে ঘুরতে আসা পর্যটক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পরের বার আসবো কিনা বলা যায় না। সেতু নেই, সড়কের বেহাল অবস্থা। দ্বীপের যোগাযোগের যে অবস্থা, তাতে কেউ একবার আসলে পরের বার আসবেন এটা বলা কঠিন। 

নিঝুমদ্বীপ স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, সেতু না থাকায় আমাদের আসা যাওয়া করতে অসুবিধা হয়। দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ হলে উপকার হবে।

মাজাহার  নামে আরেক পর্যটক বলেন, মেঘনা নদী বেস্টিত নিঝুম দ্বীপ প্রাকৃতিকভাবে খুবই সুন্দর। ঘুরতে আসার মতো চমৎকার জায়গা। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। দ্বীপকে আর্কষণীয় করতে রাস্তাঘাট, ব্রিজের দিকে নজর দিতে হবে প্রশাসনকে।  

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আফছার দিনাজ বলেন, নিঝুম দ্বীপের ছোয়াখালী সেতু অতিরিক্ত স্রোতের কারণে ভেঙে গেছে। আমাদের সংসদ সদস্যের মাধ্যমে এখানে ব্রিজ নির্মাণের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। অতিদ্রুত এটির টেন্ডার হবে। ব্রিজ নির্মাণ হলে নিঝুমদ্বীবাসীর যেমন ভালো হবে, তেমনি পর্যটকদেরও ভোগান্তি কম হবে।

হাতিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ লিটন বলেন, নিঝুম দ্বীপের চারদিকে মেঘনা নদী। বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারে পানি প্রবেশ করে রাস্তাঘাটের ব্যাপকভাবে ক্ষতি হয়। গত তিন বছর আগে ছোয়াখালী সেতু ভেঙে গেছে। মানুষ আপাতত কাঠের সেতুতে চলাচল করছে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানিয়েছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন।

হাতিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, ৩৯ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণের জন্য আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ছোয়াখালী সেতুটি টেন্ডার পর্যায়ে আছে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি আমরা ওয়ার্ক অর্ডার পাবো।

মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়