ঢাকা     সোমবার   ২৯ মে ২০২৩ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪৩০

তফসিল ঘোষণার আগেই গাজীপুরে নির্বাচনী হাওয়া

রেজাউল করিম, গাজীপুর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৫৫, ২৯ মার্চ ২০২৩   আপডেট: ১৪:৫৯, ২৯ মার্চ ২০২৩
তফসিল ঘোষণার আগেই গাজীপুরে নির্বাচনী হাওয়া

দেশের সর্ববৃহৎ সিটি করপোরেশন গাজীপুর। এই সিটি করপোরেশনে আগামী জুন মাসে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এমন আভাস পেয়েই মাঠে নেমে পড়েছেন মেয়র পদ প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে নির্বাচনের মাঠ ঠিক করতে কাজ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের নেতারা। তবে মাঠে বা কথায় কোথাও নেই বিএনপি। 

ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণার আগেই  আ. লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ও সমর্থকরা ব্যানার, পোস্টার, বিলবোর্ডে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেয়র নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিচ্ছেন। তাছাড়া মেয়র পদে জাতীয় পার্টির গাজীপুর মহানগর সভাপতি ও সাবেক সেক্রেটারি এম এম নিয়াজ উদ্দিনের প্রার্থীতা অনেকটা নিশ্চিত। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।

জেলা নিবার্চন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এই সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী মেয়দ শেষ  হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে নিবার্চন অনুষ্ঠানের বাধ্যকতা রয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী নিবার্চন কমিশনকে আগামী ১১ মার্চ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ সিটির নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলীয় কোন্দলের কারণে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নিবার্চনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমতউল্লাহ খান পরাজিত হন। ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক এমএ মান্নান। পরবর্তীতে দলীয় কোন্দল এড়িয়ে ২০১৮ সালের জুনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নিবার্চনে বিরাট ব্যাবধানে আওয়ামী লীগের মো. জাহাঙ্গীর আলম জয়লাভ করেন। কিন্তু নিবার্চন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আবারও আওয়ামী লীগে বিভাজনও স্পষ্ট হচ্ছে। বিতর্কিত মন্তব্যের অডিও ফাঁস ও ভাইরাল হলে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত এবং দল থেকে বহিষ্কৃত হন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। 

সম্প্রতি বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলেও মেয়র পদ ফিরে পাননি জাহাঙ্গীর আলম। মহানগর আওয়ামী লীগে জাহাঙ্গীর আলমের রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। 

কিছুদিন আগে দল জাহাঙ্গীর আলমকে ক্ষমা করে দিয়েছে। এরপর থেকে তার কর্মী সমর্থকরা মেয়র নির্বাচনে চালাচ্ছেন ব্যাপক প্রচরণা। এদিকে, গত একবছর ধরে মেয়র প্রার্থী হয়ে মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান। দলীয়ভাবে তারও রয়েছে জনপ্রিয়তা।

প্রভাবশালী এই দুই জন ছাড়াও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মন্ডল, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামসহ ৮-১০ জন প্রার্থী চালাচ্ছে জোর  প্রচারনা। এসব নেতাদের  কর্মী-সমর্থকরাও আলাদা আলাদা প্রচারণা চালাতে শুরু করেছেন। এতে এক আওয়ামী লীগের ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখা গেছে। 

অপরদিকে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি এমএম নিয়াজ উদ্দিন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে নিবার্চন করার ঘোষণা দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্নমহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তবে নিবার্চনী মাঠে নেই বিএনপির কোনো প্রার্থী।

গাজীপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়,  নগরীর প্রধান সড়ক, বিভিন্ন ভবন ও গলিতে পোস্টার সাঁটিয়ে ভোটার ও নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন প্রার্থীরা। ডিজিটাল ব্যানার ও পোস্টারে স্থানীয় বাসিন্দাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের প্রার্থীতা ঘোষণা করছেন। এছাড়াও জানাজায়  ও সামাজিক অনুষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থীতা ঘোষণা করছেন অনেক প্রার্থী।  

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি  আজমত উল্লাহ খান বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন খুবই সন্নিকটে। আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা না হলেও নির্বাচন অফিস সূত্রে এটি স্পষ্ট। আপনারা জানেন আমার স্থানীয় সরকার বিভাগে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। গাজীপুর নগরীর মানুষ আমাকে চায়, দলীয় লোক আমাকে চায়। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচরণা চলছে। আমি দল থেকে মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন চাইবো। আশা করি দল আমাকে নমিনেশন দেবে।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সব পেশার মানুষ আমার সঙ্গে রয়েছে। নগরবাসী আমাকে ভালোবাসেন। তাদের ইচ্ছার মূল্য দিতে আগামী নিবার্চনে অংশ নিতে প্রার্থী হতে দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সোনার বাংলা বিনির্মাণে অতীতের মত কাজ করে যাবো।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, আমি শূন্য হাতে এই সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। সেই সিটি করপোরেশন এখন স্বচ্ছ ও সুন্দর হয়েছে। সামনে নির্বাচন  প্রধানমন্ত্রী যাকে নমিনেশন দেবেন আমরা তার হয়েই কাজ করবো।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী এমএম নিয়াজ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের দাম বদ্ধি, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ নানা কারণে মানুষ অতিষ্ঠ। যার ফলে গাজীপুরবাসী জাতীয় পার্টিকে ভোট দেবে। আমরা সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। 

গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও গত নিবার্চনে বিএনপির প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিষয়ে দল আমাদের এখনো কিছু জানায়নি। এবিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। যার ফলে নির্বাচন প্রচরণা বা অংশগ্রহণ করার প্রশ্নই আসে না। তবে দল নির্বাচন করতে চাইলে আমি নিশ্চিত প্রার্থী হবো। 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পীর সাহেব চরমোনাই মনোনীত মেয়র প্রার্থী মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। নিরপেক্ষ প্রশাসন ও নির্বাচন চাই। যাতে এই সিটি কর্পোরেশন মানুষ ভোট সঠিকভাবে প্রদান করতে পারেন। 

রেজাউল/ মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়