ঢাকা     শুক্রবার   ০১ মার্চ ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১৭ ১৪৩০

কুমিল্লায় ছড়িয়ে পড়ছে নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল

রুবেল মজুমদার, কুমিল্লা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:২৯, ১২ নভেম্বর ২০২৩   আপডেট: ১৮:১০, ১২ নভেম্বর ২০২৩
কুমিল্লায় ছড়িয়ে পড়ছে নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল

ব্যথানাশক ট্যাবলেট ট্যাপেন্টাডলকে ২০২০ সালে ‌‌‘খ’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য ঘোষণা করে সরকার। এই ট্যাবলেট দেশের ফার্সেসিগুলোতে বিক্রি বন্ধের নির্দেশনাও আসে প্রশাসেনের পক্ষ থেকে। এর ফলে কিছুদিন নাগালের বাইরে থাকলেও সম্প্রতি এ মাদকের ব্যবহার বেড়েছে কুমিল্লা জুড়ে। কুমিল্লা মহানগর ও বিভিন্ন উপজেলায় এখন এই ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বল্প দামের হওয়ায় শহর থেকে গ্রামগঞ্জে এটি ছড়িয়ে পড়ছে।

সম্প্রতি কুমিল্লার মাদকসেবীদের কাছে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের চাহিদা ও জোগান বাড়ছে। অন্য মাদকের চেয়ে সহজলভ্য এবং দাম কম হওয়ায় মাদকসেবীদের কাছে এই মাদকের চাহিদা বাড়ছে বলে মনে করছেন কুমিল্লা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা।

রোববার (১২ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে ২৫ হাজার পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট নিয়ে কুমিল্লা আসার সময় দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এর ঠিক তিনদিন আগেই গত ৯ নভেম্বর কুমিল্লা সদর দক্ষিণ শ্রীপুর ও দক্ষিণ রামপুর এলাকায় বিশেষ অভিযানে ২৫ হাজার ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এছাড়া, গত মাসে ডিবি ও পুলিশে যৌথ অভিযানে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ১২ হাজার পিস ট্যাপেন্টাডলসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করে।

সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ এই ট্যাবলেটগুলো ভারতের দুটি কোম্পানি থেকে কুমিল্লার বিভন্ন সীমান্ত হয়ে দেশে আসে। এরপরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চলে যায় ঢাকাসহ সারাদেশে। 

নগরীর বাগিচাগাও এলাকার ৩৯ বছর বয়সী মো.ফাহিম খন্দকার (ছন্দনাম) বলেন, ট্যাপেন্টাডল ওষুধটির কোনো স্বাদ নেই। কিন্তু, ইয়াবা ও হেরোইন যখন হাতের কাছে পাওয়া না যায়, তখন এটিই হয়ে ওঠে অনেকের নেশা করার ভরসা।

নেশার জগত থেকে ফিরে আসা এই যুবক আরও বলেন, ধনী-গরিব সব শ্রেণির লোকজন এটা সেবন করেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের যেসব ছেলে-মেয়েরা মাদক সেবনে আশক্ত তারাই এই ট্যাবলেট বেশি সেবন করেন। তাদের কাছে এটা ইয়াবার বিকল্প।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মোহাম্মাদ আলমগীর খান বলেন, জব্দের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি এই নিষিদ্ধ ওষুধ মাদক হিসেবে গ্রহণ করছেন মাদকসেবীরা। তাই এ ট্যাবলেটের যোগানদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাতে হবে প্রশাসনকে। কুমিল্লা মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। 

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি রাজেশ বড়ুয়া বলেন, সরকার এই ট্যাবলেটটি নিষিদ্ধের পর থেকে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কুমিল্লা শহরে কোনো ওষুধ ফার্মেসিতে ট্যাবলেটটি বিক্রির খবর পেলেই আমরা অভিযান চালাচ্ছি। 

কুমিল্লা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান বলেন, সম্প্রাতি কুমিল্লায় নিষিদ্ধ এ ট্যাবলেটি মাদক আসক্তদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আমরা জেলাজুড়ে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়