ঢাকা     শুক্রবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

চিনির দাম বৃদ্ধি: চায়ের কাপে পানি কম!

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪১, ১ ডিসেম্বর ২০২৩   আপডেট: ২০:৪৫, ১ ডিসেম্বর ২০২৩
চিনির দাম বৃদ্ধি: চায়ের কাপে পানি কম!

রবিউল ইসলামের চায়ের দোকান

রবিউল ইসলাম চা বিক্রেতা। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা পত্রবিতানে তার চায়ের দোকান। রবিউল ইসলাম প্রায় ১৫ বছর ধরে পান, পাউরুটি, বিস্কুট, কলাসহ নানা ধরনের খাবার বিক্রি করছেন। তার দোকানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চা পান করতে অনেকে ভিড় করেন। তবে উপকরণের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বিক্রিতে ভাটা পড়েছে। চিনি, আদা, লবঙ্গ, দুধসহ পানি কম দিয়ে চা বিক্রি করছেন। মানুষ আগের মতো চা পান না করায় চা বিক্রিতে লাভ হচ্ছে না বলে জানান রবিউল ইসলাম।

অথচ সুপেয় পানির পরই চা বেশি পান করা পানীয়। উপমহাদেশে চা পানের ঐতিহ্য বহু পুরনো। তবে চা পাতার গুঁড়া, চিনি, আদা, মসলা ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে কাপে পানীয় চায়ের পরিমাণ অর্ধেকে নেমেছে। চা পান করা মানুষের সংখ্যাও কমেছে বলে জানান মিরপুর উপজেলা মোড়ের চা বিক্রেতা জিয়াউর রহমান জিয়া। তাঁর ভাষ্য, এখন দুধ চা প্রতি কাপ ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা এক বছর আগে ছিল ৬ থেকে ৮ টাকা। ৩ টাকার রঙ বা আদা চা এখন ৫ থেকে ৬ টাকা। আগে গড়ে প্রতিদিন ১২০ কাপ চা বিক্রি করতেন। এখন বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭০ কাপ। 

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শত শত চা স্টল রয়েছে। দোকানিরা চা বিক্রি করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি গুঁড়া পাতা ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক বছর আগে ছিল ৩২০ টাকা। প্যাকেটজাত গুটি বা দানাদার চা পাতা ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আগে ছিল ৩৬০-৩৯০ টাকা। ৭০ টাকার ৭৫টির টি ব্যাগের বক্স বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। আদা ২২০ টাকা কেজি হলেও ছয় মাস আগে ছিল ৯০-৯৫ টাকা। লবঙ্গ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার টাকায়, আগে ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। প্রতি মণ খড়ি (লাকড়ি) ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ২০০ থেকে ২২০ টাকা। ৮৫০ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩৫০ টাকায়। বেশি বেড়েছে চিনির দাম।

শুক্রবার কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ১৩৮ টাকায়। এক বছর আগেও ৭৫ থেকে ৮০ টাকা ছিল। দাম বাড়লেও আগের মতো চা পান করেন বলে জানান সদরপুরের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম নিলু। তবে খরচ বেড়েছে।

আমলা বাজারের সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, আগে দিনে চার থেকে পাঁচ কাপ চা পান করতেন। দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন দু-তিন কাপ পান করেন।

মিরপুর বাজারের লিয়াকত আলী বলেন, আগে যিনি দিনে পাঁচ কাপ চা পান করতেন। এখন দুই বা তিন কাপ পান করছেন। খরচ বাঁচাতে দোকানিরা চিনি ও পানির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।

আমলা বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক খাঁন বলেন, উপকণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রেতারাও প্রতি কাপ চায়ের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।

মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, যৌক্তিক দামের বেশি নিলে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

কাঞ্চন/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়