ঢাকা     শনিবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১১ ১৪৩০

নবান্ন উৎসবে নারীরা সেজেছে হলুদ শাড়িতে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:০৫, ১ ডিসেম্বর ২০২৩  
নবান্ন উৎসবে নারীরা সেজেছে হলুদ শাড়িতে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাবুরঘোন গ্রামের নারীরা নবান্ন উৎসবে হলুদ শাড়িতে সেজেছেন। প্রায় একযুগ ধরে এভাবে নেচে-গেয়ে নবান্ন উৎসব উদযাপন করে আসছেন তারা।


শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) দিনভর নবান্ন উৎসবের আয়োজন করা হয় স্থানীয় এক নারী শিক্ষিকা মমতাজের বাড়িতে।
নবান্ন উৎসবের দিনে নারীরা নতুন চালের ভাত, আটা দিয়ে হরেক রকমের পিঠাপুলি, পায়েস-ক্ষির, নতুন আলুর সঙ্গে ডিম রান্না করে। গোটা বাড়ির বারান্দা জুড়ে দফায় দফায় চলে জমপেশ খাইদাই। খাওয়া শেষে বসে গানের আসর। জোয়ান বুড়ো সবাই খালি গলায় গান গায়। গানের ছন্দে হাততালি আর উপস্থিত সকলেই গানে মেলায় কণ্ঠ। তখনই জমে যায় গানের আসর। এভাবেই শেষ হয় দিনব্যাপী নবান্ন উৎসব।

উৎসবে আসা কোমলমতি শিশুরা জানায়, তারা তাদের পাঠ্য বইয়ে নবান্ন উৎসবের কথা পড়েছে। তাদের অনেকেই দেখেনি নবান্ন উৎসব। প্রথমবারের মতো তারা এ অনুষ্ঠানে যোগদান করতে পেরে খুবই উৎফুল্ল।

ছোটদের আনন্দ মুহূর্ত দেখে বড়রাও তাদের ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে খোশগল্পে মেতে ওঠেন। নবান্নের উৎসবে আসা শাপলা নামে এক নারী বলেন, গ্রামাঞ্চলের মানুষ বাংলা ঐতিহ্যকে ধরে রাখে। বাবুরঘোন গ্রামের নারীদের আয়োজনে প্রতিবছরেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের দিন সকাল থেকে গ্রামের মেয়েরা সাজগোজ করে নবান্নের উৎসবে যোগ দেন।

নেচে গেয়ে সকলেই নতুন ধান ভাঙে, যাতায় আটা পিষে। গৃহিণীরা মেয়েলী গীত গেয়ে পিঠাপুলি বানায়। এবার আট-দশ রকমের পিঠাপুলি বানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানে হলুদ শাড়ি পড়ে যোগ দিতে আসার বিষয়টাও খুব ভালো লেগেছে।
অনুষ্ঠানে এক পোয়া চাল, ডিম আর আলু কেনার জন্য সামান্য কিছু টাকা করে চাঁদা তোলা হয়েছে। এতে অংশ নেন শতাধিক নারী। অনুষ্ঠানে গ্রাম বাংলার আঞ্চলিক সংস্কৃতিকে স্মরণ করা হয় বলে জানান অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক মমতাজ বেগম।


মমতাজ বেগম বলেন, আমরা টানা একযুগ ধরে পিঠাপুলির নবান্ন উৎসব উদযাপন করে আসছি গ্রামবাসীদের নিয়ে। আজকের দিনটির জন্য এসব এলাকার গৃহিণীরা অপেক্ষা করে গোটা বছর। প্রতি বছরই পিঠাপুলি দিয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভিন্ন কিছু করার ইচ্ছা থেকে নতুন চালের ভাত, নতুন আলু দিয়ে ডিম রান্না করে পোষালুর (চড়ুইভাতির) আয়োজন করা হয়েছে। আলু দিয়ে ডিম রান্না বড় কিছু না হলেও গ্রামের সবাই এতে খুব আনন্দিত হয়।

গৃহিণীদের আয়োজিত নবান্ন উৎসবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কালচারাল অফিসার ফারুক রহমান ফয়সল। বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ অনুষ্ঠানের আয়োজকদের সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, নগরায়ন আর কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নবান্নের মতো অনেক উৎসব। গৃহিণীরা তাদের নিজ উদ্যোগে প্রতি বছরের নবান্ন উৎসব আয়োজন করে থাকে। যার ফলে গ্রামের নারীরা একটা দিন আনন্দ উৎসবে কাটায়।


বাবুরঘোন গ্রামের মতো প্রতিটি গ্রামে এমন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে মানুষের প্রতি মানুষের বাড়বে সৌহার্দ্য এবং প্রীতি বন্ধন আরও জোরালো হবে বলে জানান জেলা কালচারাল কর্মকর্তা।

শিয়াম/ফয়সাল

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়