ঢাকা     শুক্রবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

বিধি ভঙ্গ করে ভোটারদের দ্বারে 

‘আড়াই ঘণ্টার এমপি ছিলাম, এইবার পুরোপুরি হতে চাই’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:১১, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩   আপডেট: ১২:৩৫, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩
‘আড়াই ঘণ্টার এমপি ছিলাম, এইবার পুরোপুরি হতে চাই’

নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন করে নৌকা প্রতীকের জন্য ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মো. শাহজাহান আলম সাজু এম.পি। ১৫ নভেম্বর উপ-নির্বাচনে জয়ী হওয়া শাহজাহান আলম এবার আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী।

উপ-নির্বাচনে শাহজাহান আলমের জয়ের মাধ্যমে ৫০ বছর পর এ আসনটি ফিরে পায় আওয়ামী লীগ।

শাহজাহান আলম তার প্রচারণার বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করছেন। বুধবার পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায় এক বৃদ্ধকে তিনি বলছেন, ‘আড়াই ঘণ্টার এমপি ছিলাম। এইবার যাতে পুরোপুরি হতে পারি দোয়া কইরেন।’ ভিডিওটির এর আগের অংশে দেখা যায় তিনি এক ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতার সঙ্গে গলা মিলিয়ে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহবান জানান।

দলীয় সিদ্ধান্তে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিস্কার হন দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা উকিল আব্দুস সাত্তার। আওয়ামী লীগ ‘সমর্থন’ নিয়ে তিনি আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উকিল আব্দুস সাত্তারের মৃত্যুর পর হওয়া সংসদ সদস্য উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান আলম জয় লাভ করেন। গত ১৫ নভেম্বর বিকেলে তিনি শপথ নেন। শপথের আড়াই ঘণ্টা পরই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শেষ হওয়ায় তাতে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়নি 
শাহজাহান আলমের। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল থেকে তিনি আবারও মনোনয়ন পান। তবে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাঈনুদ্দিন মঈন প্রার্থী হওয়ায় শাহজাহান আলমকে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। আসনটিতে আরো একাধিক শক্ত প্রার্থী রয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসারে প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণা শুরু করার নিয়ম থাকলেও বেশ আগেভাগেই নেমে পড়েছেন শাহজাহান আলম। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকেই তিনি বিশেষ করে সরাইল উপজেলায় দেদারছে ঘুরে বেড়িয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইছেন। এসব প্রচারণার ভিডিও ও স্থির ছবি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের আইডি থেকেই পোস্ট করছেন।

এসব পোস্ট থেকে দেখা যায়, তিনি বৃহস্পতিবার সরাইল উপজেলার চুন্টা ও লোপাড়ায় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের ফেসবুক লাইভও তিনি করেন যা পরে কেটে দেওয়া হয়। এছাড়া তিনি বুধবার 
সরাইলের আঁখিতারা গ্রামে হেঁটে হেঁটে নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় ফেসবুক লাইভ করেন। এর আগে তিনি সরাইলের ইসলামাবাদ, বাড়িউড়া, কুচনি, বুড্ডা গ্রামে গণসংযোগ করেন, যেটিকে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় হিসেবে ফেসবুকে উল্লেখ করেছেন। চারদিন আগে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত যৌথ কর্মীসভায় ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যব্ধভাবে নৌকার পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শাহজাহান আলম সাজু বলেন, ‘কোনো প্রচারণার জন্য নয়, একজন এমপি হিসেবে আমি এলাকায় গিয়েছি। শুধু শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। কিভাবে ভোটার বাড়ানো যায় এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। যেটুকু দেখেছি উপ-নির্বাচনের চেয়ে এ নির্বাচনকে নিয়ে মানুষের বেশি আগ্রহ।’ 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে শপথ নেওয়ার পর আড়াই ঘণ্টা আমার ক্ষমতা ছিলো। এখন তো আর নাই। ওই অর্থেই কথাটা বলেছি।

মাইনুদ্দীন রুবেল/টিপু

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়