ঢাকা     শনিবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১১ ১৪৩০

তালা-চাবিতে জীবন-সংগ্রামের ৫০ বছর

মাসুম লুমেন, গাইবান্ধা  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪৬, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩   আপডেট: ১৩:৩২, ৯ জানুয়ারি ২০২৪

সেই ১৯৭১ সাল। মুক্তিযুদ্ধের সময়। রামু মিয়ার বয়স তখন ১২ বছর। যুদ্ধের অনেক কিছু বলতে পারেন এখনও। তৎকালীন গাইবান্ধা জেলার সবার সুপরিচিত তালা-চাবির মেকার বাবা ভোলা মেকারের হাত ধরে দোকানে আসা। বাবার কাছেই তালা-চাবি তৈরির কাজে হাতেখড়ি। সেই থেকে আজ অবধি প্রায় শত বছর ধরে চলছে তাদের এই পৈত্রিক ব্যবসা।

ব্যবহার এবং কাজের দক্ষতার কারণে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন ভোলা মেকার। স্বাধীনতা পূর্ব সময়ে তার দোকান ছিল গাইবান্ধা শহরের পার্ক মোডে। বাবার মৃত্যুর পর তিনিও পার্ক মোড়েই বসতেন। পৌরসভার নোটিশের কারণে বর্তমানে শহরের শনি মন্দির সড়কের মহিলা কলেজের প্রাচীরঘেঁষা ড্রেনের উপর টঙ তৈরি করে সেখানে ব্যবসা করছেন।

সরেজমিন গিয়ে কথা হয় রামু মেকারের সঙ্গে। রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, ‘সাত মেয়ে ও এক ছেলে আমার সংসারে। স্ত্রী গৃহিণী। আগে প্রতিটি বাড়িতে নরমাল তালা-চাবির ব্যবহার ছিল। এই কাজের লোক কম থাকায় আমার কদর ছিল। এখন অনেক ডিজিটাল তালা বের হয়েছে। তাই কমে গেছে এ সব সাধারণ তালার কাজ। নষ্ট তালা ঠিক করার পাশাপাশি চাবি হারিয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষকে নতুন চাবি তৈরি করে দেই।’

এভাবে প্রায় ৫০ বছর ধরে তালা-চাবির কাজ করছেন রামু মিয়া। আগে প্রতিদিন তালা-চাবির কাজ করে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা আয় হতো। বর্তমানে আয় কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটানা কাজ করে আয় হয় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে এত বড় পরিবারের ব্যয়ভার মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। 

সমস্যাভেদে একটি তালা ঠিক করতে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা নেন। আর প্রতিটি নকল চাবি তৈরি করে ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকা নেন।

তালার সমস্যা নিয়ে রামু মিয়ার দোকানে এসেছেন ষাটোর্ধ্ব মোসলেম উদ্দিন। রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, রামুর বাপও খুব ভালো মেকার ছিল। রামুও ভালো কাজ করে। নরম-সরম ব্যবহার। কারও সঙ্গে উচ্চ্যবাচ্চ্য কথা বলে না। গাইবান্ধায় হাতে গোনা কয়েক জন মেকারের মধ্যে রামুর কাজের হাত ভালো। 

মোটরসাইকেলের চাবি ভেঙে অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েন বেসরকারি চাকরিজীবী সিহাব সরকার। তিনি বলেন, ‘চাবি ভেঙে যাওয়ায় ভ্যানে করে মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছি। আমি জানি, রামু মিয়ার কাছে এলে ৫ মিনিটেই নতুন চাবি তৈরি করে দিতে পারবেন। তাই এখানে আসা।’

শহরতলীর পুলবন্দি এলাকা থেকে দুটি নষ্ট তালা ঠিক করতে এসেছেন নাসির মুন্সি। তিনি জানান, গত ৫ বছর ধরে তিনি বাসায় নতুন তালা কেনেননি। সমস্যা হলেই রামু মেকার ঠিক করে দেন। আজও দুটি তালা ঠিক করতে এসেছেন। রামু মেকার তালা ঠিক করলে অনেক দিন সেটা সচল থাকে বলেও জানান তিনি।
 

/বকুল/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়