ঢাকা     রোববার   ১৬ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ২ ১৪৩১

প্রবেশপত্রে বড় বোনের নাম, পরীক্ষা দেওয়া হলো না প্রমিতার

শরীয়তপুর সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৮, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  
প্রবেশপত্রে বড় বোনের নাম, পরীক্ষা দেওয়া হলো না প্রমিতার

শরীয়তপুরের নড়িয়াতে শিক্ষকদের ভুলে প্রবেশপত্রে বড় বোনের নাম চলে আসায় পরীক্ষায় বসতে পারেননি প্রমিতা বাছার (১৮) নামের এক মাধ্যমিক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। বিষয়টি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে আগামী বছর ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষার সব ব্যয়ভার বহন করার কথা জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।  শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বিঝারি ইউনিয়নের কান্দাপাড়া এলাকায় ভুক্তভোগী বাড়িতে গিয়ে এতথ্য জানা যায়।

প্রমিতা বাছার ওই এলাকার মৃত সন্তোষ বাছার ও মনিকা রানী বাছারের মেয়ে। তিনি বিঝারি ইউনিয়নের পঞ্চপল্লী গুরুরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। 

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ১২ বছর আগে দুই মেয়েকে (প্রমিতা বাছার ও পূর্ণিমা বাছার) সন্তোষ বাছার হৃদরোগে মারা যান। মা মনিকা রানী বাছার শত কষ্টের মধ্যেও দুই মেয়েকে শিক্ষিত করতে পঞ্চপল্লী গুরুরাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। মেয়েরাও ঠিকভাবে পড়ালেখা করছিলেন। গত বছর ওই বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিলো বড় বোন পূর্ণিমা বাছারের। তবে, পারিবারিক একটি সমস্যার কারণে পরীক্ষায় বসতে পারেনি পূর্ণিমা। এ বছর একই বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিলো ছোট বোন প্রমিতা বাছারের। সেভাবে পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণও করেছিলেন প্রমিতা। নিয়ম অনুযায়ী যথা সময়ে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিয়ে করেছিলেন পরীক্ষার ফরমপূরণ। রেজিস্ট্রেশনে প্রমিতার নাম ও রোল নম্বর ঠিকঠাক আসলেও প্রবেশপত্রে চলে আসে বড় বোনের নাম। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে পরীক্ষায় বসা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বস্ত করা হয় প্রতিমাকে। গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষা কেন্দ্র মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজে উপস্থিত হলে অন্যজনের প্রবেশপত্র হওয়ায় তাকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন কেন্দ্রের নিরীক্ষক। পরে নিরুপায় হয়ে কাঁদতে কাঁদতে শিক্ষকের কাছে গেলেও মেলেনি কোনো আশার আলো। পরে বাধ্য হয়ে বাড়িতে চলে আসেন প্রমিতা। 

প্রমিতা বলেন, আমার বাবা মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে মা পড়ালেখা করাচ্ছেন আমাদের। এ বছর পরীক্ষায় পাশ করে কলেজে ভর্তি হওয়ার আশা ছিলো আমার। কিন্তু, স্কুলের স্যারদের ভুলের কারণে আমি পরীক্ষায় বসতে পারলাম না। আমি এ ব্যাপারে স্যারকে জানালে তারা আমার হাতে প্রবেশপত্র দিয়ে চলে যান। তারা আমাকে আগামী বছর পরীক্ষায় বসতে বলেছেন।

প্রমিতার মা মনিকা রাণী বাছার বলেন, শত কষ্টের মধ্যেও মেয়েদের পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছি। রেজিস্ট্রেশন কার্ডে প্রমিতার নাম ঠিকঠাক আসলেও প্রবেশপত্রে স্যারেরা বড় বোনের নাম দিয়েছেন। নাম আর রোল নম্বর দুইটাই ভুল। আমার মেয়েটার জীবনটাই এলোমেলো করে দিলো স্কুলের স্যারেরা। আমরা গরিব মানুষ, তাই তাদের কাছে বলেও লাভ হয়নি।

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক গৌতম দাস রাইজিংবিডিকে বলেন, দুই বোনের নাম কাছাকাছি হওয়ায় এই ভুলটি হয়েছে। আমি বিষয়টি শেষ সময়ে জানতে পেরেছি। যদি দুই দিন সময়ও পেতাম, তাহলে শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে বিষয়টির সমাধান করতাম। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকরা মিলে আগামী এক বছর তার পড়ালেখার সব ভার বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যাতে ওই শিক্ষার্থী আগামি বছর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। 

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামসুন নাহার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। প্রবেশপত্রের বিষয়টি সম্পূর্ণ স্কুল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস দেখে থাকেন। বিষয়টি আগে জানতে পারলে ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় বসার ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করতে পারতাম।

সাইফুল/মাসুদ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ