ঢাকা     সোমবার   ২২ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ৯ ১৪৩১

তত্ত্বাবধায়কের মৃত্যুর ৪৮ ঘণ্টা না পেরোতেই পিকনিকে চিকিৎসকরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৩১, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   আপডেট: ২০:০৪, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
তত্ত্বাবধায়কের মৃত্যুর ৪৮ ঘণ্টা না পেরোতেই পিকনিকে চিকিৎসকরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামানের মৃত্যুর ৪৮ ঘণ্টা না পেরোতেই পিকনিকে গেছেন ৩৫ জন চিকিৎসক। তাদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের অন্তত ২৫ জন চিকিৎসক রয়েছেন। 

এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ওয়াহিদুজ্জামান কর্তব্যরত অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর ৪৮ ঘণ্টা না পেরোতেই শোকাবহ পরিবেশে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট চিকিৎসকদের একটি দল তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মঙ্গলবার সকালে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার পুটিজুরি পাহাড়ে অবস্থিত পাঁচতারকা মানের দ্য প্যালেস রিসোর্টের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। বিকেলে তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরো ১০ জন চিকিৎসক ও তাদের পরিবার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক বলেন, ‘আমাদের তত্ত্বাবধায়ক স্যারের মৃত্যুর ৪৮ ঘণ্টা না পেরোতেই পিকনিকের আয়োজন কোনো অবস্থাতেই সঠিক হয়নি। এখানে মানবতা, বিবেক, বোধের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার তাদের ফিরে আসার কথা রয়েছে।

পড়ুন- নিজ চেম্বারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ডা. ওয়াহিদুজ্জামান

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন স্টাফ জানান, এবার চিকিৎসকরা অনেকটা চুপিসারে পিকনিকে গেছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক চিকিৎসক জানান, স্যার যেদিন মারা যান সেদিনও ওই চিকিৎসকরা স্যারের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে ঝামেলা করেন। স্যার নীতিতে অটল ছিলেন। কোনো প্রকার আপোষ করেননি। তার মতো একজন চিকিৎসকের অকালে বিদায় নেওয়া বর্তমানে শুধু চিকিৎসক সমাজ নয়, দেশেরও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চাকরিরত হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) রানা নূরুস সামস ও ফায়েজুর রহমানকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে আরএমও ফাইজুর রহমান বলেন, আমি ও ডা. রানা নূরুস সামস বদলির আদেশ পেয়েছি। আমরা এখন ঢাকায় আছি। পিকনিকের বিষয়টি আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুন নূর বলেন, একসঙ্গে এতো চিকিৎসক পিকনিকে যাওয়ায় রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এভাবে পিকনিকে যাওয়া সঠিক হয়নি। এছাড়া হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে না উঠতেই ২ দিনের মাথায় এ ধরনের পিকনিকের আয়োজন নিঃসন্দেহে অমানবিক। হাসপাতালের তত্ত্বাববধায়ক একজন ভালো মানুষ ছিলেন এবং সদর হাসপাতালে তিনি আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন। চিকিৎসক সমাজের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা মৃত্যুর রেশ না কাটতেই এ ধরনের আনন্দ ফুর্তির আয়োজনটি সাধারণ মানুষ আশা করেননি।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং জেলা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু সাঈদ বলেন, মঙ্গলবার বিএমএর পূর্ব নির্ধারিত পিকনিক ছিল। অনেক আগেই রিসোর্ট ভাড়া নিয়েছিলাম। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ওয়াহীদুজ্জামান মারা যাওয়ায় বিএমএর পিকনিক স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন,  রিসোর্টে চিকিৎসকদের নামে রুম বুকিং ছিল। বিএমএ পিকনিক বন্ধ করায় অনেক চিকিৎসক পরিবার-পরিজন নিয়ে নিজ উদ্যোগে সেখানে গিয়েছে। এর সঙ্গে বিএমএর কোনো যোগসূত্র নেই।

এ ব্যাপারে দ্য প্যালেস রিসোর্টের সুপারভাইজারের সঙ্গে মোবাইল ফােনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিন বেলা খাবারসহ এ রিসোর্টের এক দিনের ভাড়া ২১ হাজার টাকা। বুকিং দিতে হলে আগেই দিতে হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া চিকিৎসকদের পিকনিকের জন্য এই হোটেলে বেশ কিছু রুম বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি অপরাগতা প্রকাশ করেন।

মাইনুদ্দীন রুবেল/ফিরোজ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়