ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৬ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ৩ ১৪৩১

আম গাছে মুকুল কম, ফলন নিয়ে চিন্তায় চাষিরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৩৫, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  
আম গাছে মুকুল কম, ফলন নিয়ে চিন্তায় চাষিরা

প্রচণ্ড শীতের কারণে এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছোট আম গাছগুলোতে মুকুল আসলেও বড় গাছগুলোর ডগায় মুকুলের পরিবর্তে বের হয়েছে ছোট কচি পাতা। ফলে জেলার চাষিরা আমের আশানুরূপ আমের ফলন নিয়ে রয়েছেন চিন্তায়। কৃষি সম্প্রসারণের কর্মকর্তারা বলছেন, গরমের প্রভাব আরেকটু বাড়লে আরও কিছু গাছে মুকুল আসতে পারে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার ৩৭ হাজার ৬০৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ৭৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৩টি আম গাছ রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে আমগাছ রয়েছে ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৭০৫টি, শিবগঞ্জ উপজেলায় ২০ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ২৩ লাখ ৩২ হাজার ৮২৫টি, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৪ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৬৫০টি, নাচোল উপজেলায় ৪ হাজার ৩৩১ হেক্টর জমিতে ২৯ লাখ ৮ হাজার ৮৫০টি ও ভোলাহাট উপজেলায় ৩ হাজার ৬৬৩ হেক্টর জমিতে ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৫টি আমগাছ রয়েছে।

আম বাগান মালিকরা বলছেন, গতবারের তুলনায় এবার আম বাগানগুলোয় মুকুলের পরিমাণ খুব কম। আবহাওয়া পরিবর্তনে মুকুল কম হয়েছে। আগামীতে আবহাওয়া ভালো থাকলে গাছে আরও বেশি পরিমাণে মুকুল আসতে পারে বলে ধারণা তাদের।

বাগানি মুনজের আলম মানিক বলেন, গতবছর প্রায় শতভাগ গাছে মুকুল ফুটে আম হয়েছিল। এবার আমের জন্য অফ ইয়ার আর আবহাওয়ার কারণে মুকুল কম। এবার কিন্তু খুবই কম। এখনও আশানুরূপ মুকুল আসেনি। প্রাকৃতিকভাবে এমন হয়েছে। আমাদের এ বিষয়টি মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

অপর বাগানি ইসমাইল খান শামীম বলেন, আমগাছে এবার মুকুল অনেক দেরিতে এসেছে। মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আমের মুকুল আসতে পারে। এতে আম সংগ্রহ ১০-১৫ দিন আরও পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. পলাশ সরকার বলেন, গাছের বয়স নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে আম উৎপাদনের সক্ষমতা কমে যায়। এবার আম উৎপাদনে জন্য অফ ইয়ার বা কম ফলনের বছর। এছাড়া, শীতের প্রভাব দীর্ঘদিন থাকায় গাছে আমের মুকুলের পরিমাণ কম। নতুন যেসব বাগান সৃজন হয়েছে, সে গুলোয় মুকুল এসেছে। 

তিনি আরও বলেন, গরমের প্রভাব আরেকটু বাড়লে আরও কিছু গাছে আমের মুকুল আসতে পারে। কিন্তু, যেটি আসবে তা ফলনে প্রভাব পড়বে অর্থাৎ সময়ের মধ্যে যে মুকুলটা বের হয়, সেটায় যে পরিমাণ আম উৎপাদন হওয়ার কথা সেটি দেরি হবে। তখন দেখা যাবে অনেক রকমের আম প্রায় একসঙ্গে পাকবে। এতে আমগুলো বাজারজাতে সমস্যা হতে পারে বা চাষিরা কম দাম পেতে পারেন। 

মেহেদী/মাসুদ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়