ঢাকা     বুধবার   ১৭ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ৪ ১৪৩১

বিডিআর বিদ্রোহ হত্যাকাণ্ড

বিস্ফোরক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি স্বজনদের

পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:১৬, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  
বিস্ফোরক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি স্বজনদের

২০০৯ সালে ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া তিনটি মামলার দু'টি নিষ্পত্তি হলেও; ১৫ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি বিস্ফোরক মামলা। আর এতে দুশ্চিন্তা আর নিদারুণ কষ্টে দিন পার করছেন স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পাবনা জেলা প্রশাসকের কাছে বিস্ফোরক মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী তিনটি পরিবারের সদস্যরা। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে তাদের মুক্তির দাবি স্বজনদের।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কারাগারে থাকা হারুন অর রশিদের ভাই শফি আহমেদ, মোকাররম হোসাইনের ভাই রফিকুল ইসলাম ও রজব আলির ছেলে শরিফুর রহমান। তারা তিনজন আলাদাভাবে তিনটি দরখাস্ত জমা দেন।

এদের মধ্যে হারুন অর রশিদের বাড়ি বেড়া উপজেলার কাশিনাথপুরে, মোকাররমের বাড়ি সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলার গয়েশবাড়িতে এবং রজব আলির বাড়ি ভাঙ্গুড়া উপজেলায়।

লিখিত আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। ইতোমধ্যে আমাদের স্বজনরা বিডিআর আইনের সাজা ভোগ শেষ করেছে। ফৌজদারি আইনে হত্যা মামলা হতে কেউ খালাস পেয়েছেন, আবার অনেকে হত্যা মামলায় ফৌজদারি আইনে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ভোগ শেষ করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, ১৫ বছর যাবৎ শুধু বিস্ফোরক মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবং সাংবিধfনিক অধিকার থাকা সত্ত্বেও জামিন না পাওয়ায় আমাদের স্বজনদের আমরা ফিরে পাচ্ছি না।

আবেদনপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি কারাগারে থাকায় আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকায় আমাদের স্বজনরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় রয়েছে।
হত্যা মামলাটির ২ বছর ১১ মাসে সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে রায় দেওয়া হয়। কিন্তু বিস্ফোরক মামলাটির বয়স ১৫ বছর হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নাই। আমরা বারবার বিস্ফোরক মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নিম্ন আদালতে আবেদন করলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

বিডিআর বিদ্রোহ মামলার আসামি মোকাররম হোসেনের ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, মামলাটি উচ্চ আদালতে পরিচালনার জন্য আমরা আর্থিকভাবে অক্ষম বিধায় পুরোপুরিভাবে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারছি না এবং আর্থিক অভাব অনটনের কারণে আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারছি না।

রজব আলির ছেলে শরিফুর রহমান বলেন, শুধু বিস্ফোরক মামলার কারণে ১৫ বছরের অধিক সময় ধরে আমাদের স্বজনেরা কারাভোগ করছে। সাংবিধানিক অধিকার থাকা সত্ত্বেও জামিনে মুক্তি বা মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে না। বিস্ফোরক মামলাটি অতি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানাই।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক মুহা. আসাদুজ্জামান বলেন, বিডিআর বিদ্রোহ মামলার ৩ জন আসামির স্বজনরা প্রধানমন্ত্রী বরাবর আমার দপ্তরে লিখিত আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। আমরা আবেদনপত্রগুলো ঢাকায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করবো।

শাহীন/ফয়সাল

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়