ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২০ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৬ ১৪৩১

বাগেরহাটে পানির জন্য বাঁধ কাটলেন কয়েক শ মানুষ

বাগেরহাট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:০১, ১৩ মার্চ ২০২৪  
বাগেরহাটে পানির জন্য বাঁধ কাটলেন কয়েক শ মানুষ

বাগেরহাটের কচুয়ার বাধাল, রাড়িপাড়া, গোপালপুর এবং মোরেলগঞ্জের বনগ্রাম ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি গ্রাম পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। খননের জন্য মোরেলগঞ্জের বিষখালি নদীতে বাঁধ দেওয়ার কারণে পানি প্রবেশ করতে না পারায় ওইসব এলাকার খাল ও পুকুরের পানি শুকিয়ে গেছে। পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মাছ ও ধান চাষিসহ স্থানীয়রা। প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে চলা এই পানি সংকট নিরসনে ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি তাদের।

বুধবার (১৩ মার্চ) দুপুরে কচুয়ার বাধাল, গোপালপুর, মোরেলগঞ্জের বনগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শত শত নারী পুরুষ এক হয়ে বলেশ্বর এবং বিষখালী নদীর সংযোগস্থল কচুয়া উপজেলা অংশে দেওয়া বাধ কাটতে শুরু করেন। স্থানীয় বাধাল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নকিব ফয়সাল অহিদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইলিয়াস আলী, স্থানীয় ইউপি সদস্যরা এই কাজে অংশ নেন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় বিকেল ৩টার দিকে বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ স্বাভাবিক করতে সক্ষম হন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা সুজন শেখ বলেন, দেড়-দুই মাস ধরে শুধু বাঁধ কেটে পানি ঢুকানোর আশ্বাস দেয় ঠিকাদারের লোকজন। কিন্তু বাঁধও কাটে না, পানিও ঢুকায় না। আবার কাজ শেষ হওয়ারও লক্ষণ নেই। আমরা বাধ্য হয়ে সবাই মিলে বাঁধ কাটতে এসেছিলাম।

বাঁধ কাটতে আসা রুকাইয়া আক্তার বলেন, ‌‘ধানে কাঁচা থোর আসছে। এখন যদি পানি না দিতে পারি তাইলে তো ধান হবে না। বাড়িতে রান্না ও গোসলের পানিও পর্যাপ্ত নেই। বাধ্য হয়ে সবাই মিলে বাঁধ কাটতে আসছি।’

রসুল শেখ নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘প্রায় তিন মাস ধরে পানির কষ্টে ভুগছিলাম। এখন পানি ঢুকতেছে। আশাকরি আল্লাহ আমাদের ওপর রহমত করবেন। ধান ও মাছ ভালো হবে।’

বাঁধাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইলিয়াস আলী বলেন, ‘পানির জন্য পুরো এলাকায় হাহাকার লেগে গেছিল। নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধ মিলে শত শত মানুষ এসেছে। যে যেভাবে পেরেছে বাঁধ কেটেছে। এখন পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাবে।’

এদিকে হঠাৎ করে বাঁধ কেটে দেওয়ায় বিষখালি নদীর খনন কাজে কিছুটা সমস্যা হবে জানিয়েছেন বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মাদ আল-বিরুনী। তিনি বলেন, ‘বাঁধ কাটার বিষয়টি জানতাম না। পরে জেনেছি। হঠাৎ করে বাঁধটি কাটায় খনন কাজে খুব সমস্যা হবে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা দূরহ হবে।’

বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ ও কচুয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মৃত প্রায় বিষখালি নদীর ২৩.৩৭ কিলোমিটার খননের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে খনন শুরু হয়। নির্বিঘ্নে খনন কাজ সম্পন্ন করতে তখন থেকেই বিষখালী নদীর বাধাল, পূর্ববিষখালীসহ কয়েকটি জায়গায় একাধিক বাঁধ দেওয়া হয়।

শহিদুল/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়