ঢাকা     সোমবার   ১৫ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ২ ১৪৩১

‘নির্বাচনের যে স্ট্যান্ডার্ড তৈরি হয়েছে, তার নিচে নামতে চাই না’

রাজশাহী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৩০, ২ এপ্রিল ২০২৪   আপডেট: ১৬:৩৮, ২ এপ্রিল ২০২৪
‘নির্বাচনের যে স্ট্যান্ডার্ড তৈরি হয়েছে, তার নিচে নামতে চাই না’

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) রাশেদা সুলতানা বলেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে যে স্ট্যান্ডার্ড তৈরি হয়েছে, তার নিচে আমরা আর নামতে চাই না, বরং আরো উপরে উঠতে চাই। আসছে উপজেলা নির্বাচনে ভোটাররা আসবেন। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিতভাবে প্রয়োগ করবেন এবং বাইরে গিয়ে যাতে তারা বলতে পারেন, আমার ভোটটা আমি দিয়েছি। এই ভোটের অধিকার নিশ্চিত করাটাই নির্বাচন কমিশনার দায়িত্ব। সেই পরিবেশ তৈরি করাও নির্বাচন কমিশনেরই দায়িত্ব।’

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আসার পরে আমরা মনে করেছি, যতগুলো ভোট দেশে হবে তার সব অবাধ ও সুষ্ঠু করব। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি নির্বাচন কমিশনের পক্ষে একা সম্ভব নয়। কাজ করতে হবে সব বাহিনীকে নিয়ে। সব বাহিনীকে এক সঙ্গে একধারায় নিয়ে যাওয়াটাই এখন নির্বাচন কমিশনের প্রধান কাজ। যাতে কাজগুলো তারা সুষ্ঠুভাবে করতে পারেন। সমন্বয় ছাড়া কখনো এরকম মহাযোগ্য করা সম্ভব নয়।’

নির্বাচনের বিধিবিধান পরিবর্তন হচ্ছে জানিয়ে রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘জামানতের ক্ষেত্রেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য জামানত দিতে হবে এক লাখ টাকা। অনেকেরই প্রশ্ন এটা বৃদ্ধি কেন করা হলো। এটা অনেক আগের মত, ২০-৩০ বছর আগের। ২০-৩০ বছর আগে যেটা প্রচলন ছিল সেটা এখনো থাকবে এটা বাস্তবসম্মত না। আমরা কিন্তু এই বাস্তবতা মেনে এই জামানত বৃদ্ধি করেছি। আমরা আর একটু বিষয় সংশোধন করেছি। আগে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর আড়াইশো জন ভোটারের স্বাক্ষর লাগতো। আমরা এটা সংশোধন করেছি। কারণ এটা সাংবিধান সাংঘর্ষিক। একটা ভোটার আগে থেকেই একজনের পক্ষে হয়ে যাবে,  মানুষ  জেনে যাবে তিনি তার পক্ষের লোক। এটা ভোটারের গোপনীয়তা থাকে না। তাই আমরা এটা তুলে ফেলেছি। চেক ক্রমে আমরা আস্তে আস্তে সব নির্বাচনে বিধি-বিধানগুলো তুলে ফেলব।’

ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইভিএম দিয়ে সব নির্বাচন করতে পারলে আমরা খুশি হতাম। তবে সক্ষমতা নেই। এখন যে ভালো ইভিএমগুলো আছে সেগুলো আমরা ইলেকশনে কাজে লাগাতে চেয়েছি। সেক্ষেত্রে প্রতি বিভাগের ক্ষেত্রে দুটি করে জেলায় ইভিএম-এ ইলেকশন পাচ্ছি। রাজশাহী বিভাগের মধ্যে আমরা সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় ইভিএমএ নির্বাচন করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেখানে ইভিএমে নির্বাচন হবে সেখানে সব পর্যায়ে ইভিএম হবে। আর যেগুলো ব্যালট হবে সেখানে সব পর্যায়ে ব্যালাটে হবে।’

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীরের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ফয়সাল মাহমুদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হেমায়েতুল ইসলাম ও রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কেয়া/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়