ঢাকা     শুক্রবার   ১২ এপ্রিল ২০২৪ ||  চৈত্র ৩০ ১৪৩০

ট্রাক চাপায় বন কর্মকর্তা নিহত: চালকের শাস্তি দাবিতে মানববন্ধন

কক্সবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:১৩, ২ এপ্রিল ২০২৪  
ট্রাক চাপায় বন কর্মকর্তা নিহত: চালকের শাস্তি দাবিতে মানববন্ধন

কক্সবাজারের উখিয়ায় মাটিভর্তি ডাম্পার ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে নিহত হয় দৌছড়ি বিট কর্মকর্তা সাজ্জাদুজ্জামান সজল। এ ঘটনায় ডাম্পার চালকের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে কক্সবাজার বন-বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার শহরের শহীদ সরণি সড়কের বন-বিভাগ কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসুচি পালন করা হয়। এ সময় বক্তারা দাবি জানান, উখিয়ার সংরক্ষিত বনের পাহাড় কেটে মাটি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। তাদের সাহস দেখে অবাক হবার মতো। আজকে সাজ্জাদ, কালকে আপনি, পরশু আরেকজন। এভাবে চলতে দেয়া যেতে পারে না। পাহাড় খেকো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

মানববন্ধন উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার দক্ষিণ বন-বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সারোয়ার আলম, উত্তর বন বিভাগের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাট্রিজের সভাপতি আবু মুর্শেদ চৌধুরী খোকা, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল ইসলাম, চ্যানেল আইয়ের কক্সবাজার প্রতিনিধি সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু, বন বিভাগের উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী শফিউল আলমসহ বন বিভাগ সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (৩১ মার্চ) ভোরে সাড়ে ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হরিণমারা এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি পাচার করছিল একদল বনদস্যু। খবরে পেয়ে বনবিভাগের দোছড়ি বিটের কর্মকর্তা সাজ্জাদুজ্জামানসহ কয়েকজন বনকর্মী ঘটনাস্থলে যান।

এ সময় তিনিসহ মোটরসাইকেল আরোহী দুইজনকে পাচারকারীদের মাটিভর্তি ডাম্পার ট্রাক চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে সাজ্জাদুজ্জামানের মৃত্যু হয় এবং মোহাম্মদ আলী নামের এক বনরক্ষী আহত হন।

নিহত মো. সাজ্জাদুজ্জামান (৩০) কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের উখিয়া রেঞ্জের দোছড়ি বনবিটের বিট কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি মুন্সিগঞ্জের গজরিয়া উপজেলার মোহাম্মদ শাহজাহানের ছেলে।

রোববার (৩১ মার্চ) রাত ১২টার পর বনবিভাগের উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম হরিণমারা এলাকার মোহাম্মদ কাশেমের ছেলে ও ডাম্পার ট্রাকের চালক মো. বাপ্পী (২৩), একই এলাকার সুলতান আহম্মদের ছেলে ছৈয়দ আলম ওরফে কানা ছৈয়দ (৪০) ও তার ছেলে মো. তারেক (২০), রাজাপালং ইউনিয়নের তুতুরবিল এলাকার নুরুল আলম মাইজ্জার ছেলে হেলাল উদ্দিন (২৭), হরিণমারা এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে ছৈয়দ করিম (৩৫), একই এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে আনোয়ার ইসলাম (৩৫), আব্দুর রহিমের ছেলে শাহ আলম (৩৫), হিজলিয়া এলাকার ঠান্ডা মিয়ার ছেলে বাবুল (৫০), একই এলাকার ফরিদ আলম ওরফে ফরিদ ড্রাইভারের ছেলে রুবেল (২৪) এবং হরিণমারা এলাকার শাহ আলমের ছেলে কামাল উদ্দিন ড্রাইভার (৩৯)।

তারেকুর/বকুল

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়