ঢাকা     বুধবার   ২৯ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪৩১

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বই বিনিময় উৎসব

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:১৩, ১৬ এপ্রিল ২০২৪   আপডেট: ২১:১৪, ১৬ এপ্রিল ২০২৪
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বই বিনিময় উৎসব

বই বিনিময় উৎসব।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে বই বিনিময় উৎসব।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের শিমুলতলায় বই প্রেমীদের জন্য এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই উৎসবের আয়োজন করেছে গ্রন্থ অলি নামে একটি বইপ্রেমী সংগঠন।

আয়োজকরা বলছেন, একবার পড়া হয়ে গেলে অনেকের কাছে বই পুরোনো হয়ে যায়। কখনোবা তা পড়ে থাকে বইয়ের তাকে। এভাবে ফেলে না রেখে একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করলে বই পড়ার পরিধি বেড়ে যায়। এমন চিন্তা থেকেই বই বিনিময় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের বাতেন খাঁ মোড়ের বাসিন্দা মাইসা সারাফ। তার বাড়িতে থাকা ৯টি বই দিয়ে নতুন বই সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, বই বিনিময় উৎসবের কথা জানতে পেরে এখানে এসেছি। অনেক বিখ্যাত লেখকের বই আছে। যে বইগুলো আমি পড়েছি, সেগুলোর বিনিময়ে অন্য বই নেওয়া যাচ্ছে। আমি শুধু বিষয়ভিত্তিক বইগুলো সংগ্রহ করেছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পারমিতা দাস বই বিনিময় উৎসবে এসে বলেন, লেখক ওবায়েদ হকের ‘একটি শাড়ি এবং কামরাঙ্গার বোমা ও অন্যান্য’ বইটি দিয়ে আর একটি বই সংগ্রহ করেছি। বই বিনিময়ের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। পুরনো বই পরিবর্তন করার এমন সুযোগ পেয়ে অনেক ভালো লাগছে।

আরেক শিক্ষার্থী সানজিদা ইসলাম বলেন, জীবন থেকে নেওয়া ছোট-বড় অভিজ্ঞতা ভাবনা ও অনুভূতি নিয়ে আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব’র লেখা ‘শেষরাত্রির গল্পগুলো’ বইটি দিয়ে লেখক রৌদ্রময়ীর’র ‘মেঘ রোদ্দুর বৃষ্টি’ বইটি নিয়েছি।

নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী মিলে এই উৎসবের আয়োজন করে। তাদেরই একজন মোসা. আলিমা খাতুন বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বই প্রেমীদের জন্য এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে একশ'র বেশি বই আছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা একটি বই দিয়ে আরকেটি বই সংগ্রহ করতে পারছেন। 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীরা বই পড়তে আগ্রহী নন। তারা অধিকাংশ সময় ব্যয় করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয়। এই বাজে আসক্তি দূর করতে আমরা বইকে তাদের কাছে সহজেই পৌঁছে দিতে চাই।

আয়োজকদের আরেকজন সুরাইয়া ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ আমাদের অনেক সহপাঠীকে এই উৎসবে ডাকা হয়েছিলো। তাদের অনেকেই এসে বই পরিবর্তন করে নিয়ে গেছে। আগামীতে আরও বড়-পরিসরে এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রথমবারে মনঃপুত সাড়া না পাওয়া গেলেও আগামী দিনে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী এই বই বিনিময় উৎসবের আয়োজকরা।

শিয়াম/ফয়সাল

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়