ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৮ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪৩১

এসপি’র বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

রাজশাহী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:১৮, ২৪ এপ্রিল ২০২৪   আপডেট: ২১:১৯, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
এসপি’র বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের এসপি’র বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন।

টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে (পিটিসি) পুলিশ সুপারের (এসপি) বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট নির্মাণের পর জমির মালিকের সঙ্গে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) এ অভিযোগে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমির মালিকপক্ষ।

তাদের অভিযোগ, জমিতে ভবন নির্মাণের পর ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে তাদের হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও হুমকি দিচ্ছেন এসপি।

পুলিশ সুপারের নাম আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী। তার বাড়ি রাজশাহী নগরীর হেতেম খাঁ এলাকায়। তিনি বর্তমানে টাঙ্গাইল পিটিসিতে পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে বুধবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেন জমির মালিকপক্ষ। তাদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জামির মালিক মো. ইয়াসিন আলী ও বুশরা খান।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বুশরা খান। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ইয়াসিন আলী।

তারা বলেন, চুক্তি মোতাবেক বালিয়াপুকুর দেবীসিংপাড়ায় তাদের জমিতে আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী ফ্ল্যাট নির্মাণ করেন। চুক্তি অনুযায়ী আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে তার অংশ হতে ১৫ শতাংশ মালিকপক্ষকে ছেড়ে দেবেন। কিন্তু তিনি পুলিশ সুপারের পরিচয় দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করেন। শুরুতে আমরা জানতাম না যে তিনি পুলিশ। একপর্যায়ে তিনি নিজেই রাজশাহী সিটি করপোরেশনে একটি অভিযোগ করেন। সিটি করপোরেশনের ৫ জন কাউন্সিলর বিষয়টি তদন্ত করে উভয়পক্ষকে ১৪টি ফ্ল্যাট ও গ্যারেজের অংশ সমান করে ভাগ করে দেন। গত ৩০ মার্চ সিটি করপোরেশন থেকে এই রায় দেওয়া হয়। এরপর গত ৪ এপ্রিল বিনা কারণে এসপি তাদের ছয়তলায় তিনটি ফ্ল্যাটের ওপর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারা জারি করান এবং পুলিশের মাধ্যমে তাদের দখলকৃত ফ্ল্যাটে স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেন। আবার নিজেই ১৪৪ ধারার ভঙ্গ করে  ছয়তলার একটি ফ্ল্যাটে নওগাঁর কিছু লোক এনে ঢুকিয়েছেন। সিটি করপোরেশনের সমঝোতা অনুযায়ী পুলিশ সুপারের কাছে তিন তলার একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করার যে মৌখিক কথা হয়েছিল তা বাতিল হয়ে যায়। তারপরেও পুলিশ সুপারের লোকজন জোর করে গত ১৬ এপ্রিল ওই ফ্ল্যাটের দখল নিতে এসেছিলেন। তার লোকজন আমাদের উপরে চড়াও হয়।

এ ব্যাপারে তারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলেও পুলিশ সুপারের প্রভাবে তাদের পক্ষে পুলিশ আসে না। পরে পুলিশ সুপারের পক্ষেই পুলিশ তাদের হুমকি-ধামকি দিয়ে ওই ফ্ল্যাটে তালা লাগিয়ে দিয়েছে।

এসপি আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী বলেন, আমি এই সমস্যা নিয়ে আদালতে মামলা করেছি। সালিস মানার প্রশ্নই ওঠে না। জমির মালিকপক্ষই আমার লোকজনের উপরে হামলা করেছে, তাই আমি মামলা করেছি।

তিনি আরও বলেন, ১৪টি নয়, আমি ১৭টি ফ্ল্যাট পাব। সিটি করপোরেশনের সালিস আমি মানবো না। কারণ এ বিষয়ে আমি আদালতে মামলা করেছি। মামলা চলমান থাকলে তা নিয়ে সালিস হতে পারে না। তাছাড়া সিটি করপোরেশনের সালিস প্রভাবিত করার জন্য তারা কাউন্সিলর মাহাতাব হোসেন চৌধুরীকে ঢুকিয়েছে; এ বিষয়ে আমার আপত্তি ছিল। তাছাড়াও রায়ে পাঁচজনের মধ্যে দুইজন কাউন্সিলর সই করেননি।

তিন তলার ফ্ল্যাট দখলের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমার সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটটি বিক্রির ব্যাপারে মৌখিক চুক্তি হয়েছিল। আমি ১৭ লাখ টাকার চেক দিয়েছি। তারা চেক ফেরত দিয়ে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৬ এপ্রিল জমির মালিকপক্ষই আমার বোনের উপরে হামলা করেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। এসব অভিযোগে আমি নগরীর বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেছি।

ছয়তলার ফ্ল্যাটে লোক ঢুকানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, ওটা আমার নিজের ফ্ল্যাট। আমি তো লোক তুলবই।

কেয়া/ফয়সাল

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়