ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২০ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৬ ১৪৩১

জাল দলিল তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার এক

লালমনিরহাট সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:০৬, ২০ মে ২০২৪  
জাল দলিল তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার এক

লালমনিরহাটে জাল দলিল তৈরির অভিযোগে মহুবর রহমানকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। সোমবার (২০ মে) সকালে সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের মধুরাম গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন সময়ে একাধিক জমির দলিল জাল করার বিষয়টি তিনি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন সিআইডির লালমনিরহাট জেলার সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল হাই সরকার।

সিআইডি ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, মুহুবর রহমান প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের রেকর্ডভুক্ত সাড়ে তিন শতাংশ জমি গত বছর ২৬ নভেম্বরে অনলাইনে ১১০/৯৪ নম্বর দলিল মূলে সদর উপজেলা ভূমি অফিসে নিজের নামে খারিজের জন্য আবেদন করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তোফাজ্জল হোসেন উক্ত দলিলটির জাবেদা সাব-রেজিষ্টার অফিস থেকে উত্তোলন করে দেখতে পান ওই দলিলটি মহুবর রহমানের নামের দলিল নয়, বরং তা মো. জহর উদ্দিন নামে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়েছে। একইসঙ্গে তোফাজ্জল হোসেন দলিলের জাবেদা পর্যালোচনা করে জানতে পারেন মহুবর রহমান দলিলটির নম্বর ব্যবহার করে জালিয়াতি ও প্রতারণামূলক ভাবে হুবহু আরেকটি দলিল তৈরি করে নামজারীর জন্য আবেদন করেছেন। 

বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তোফাজ্জল হোসেন জাল দলিল তৈরির অভিযোগে গতকাল রোববার লালমনিরহাট সদর থানায় মামলা করেন এবং সিআইডির সহায়তা চান। সিআইডির লালমনিরহাটের কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মাঠে নামেন। আজ সোমবার সকালে মহুবর রহমানকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন তারা। এসময় মহুবর রহমানের কাছ থেকে ওই জাল দলিলটি উদ্ধার করে সিআইডি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক জাল দলিল তৈরির বিষয়টি মহুবর রহমান স্বীকার করেন।

অভিযোগ উঠেছে, জাল দলিলের মাধ্যমে মহুবর রহমান প্রতিবেশি মোহাম্মদ লিটন, লাভলু মিয়া ও আব্দুস সালামসহ অনেকের জমি দখল করেছেন। মহুবর রহমানের দলিল জাল করার অপকর্মে কারণে অতিষ্ঠ এলাকার অনেকে।

অভিযুক্তের প্রতিবেশী লাভলু মিয়া বলেন, আমার এবং আমার জ্যঠাতো ভাইয়ের ৬১ শতাংশ জমি জাল দলিল দেখিয়ে নিজের নামে খারিজ করার আবেদন করেছিলেন মহুবর রহমান। এসিল্যান্ড জাল দলিলের বিষয়টি জানতে পেরে খারিজ আটকে দেন। এরপর আবারও আমাদের আরও একটি জমি তার নামে খারিজ প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে ধরা পড়ে যে, দলিলের নম্বর ঠিক থাকলেও দলিলটি মহুবরের না। পরে আমরা জানতে পেরে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি।

অপর প্রতিবেশী আব্দুস সালাম বলেন, আমার পৈতৃক জমি জাল দলিল দেখিয়ে দখল করেছে মহুবর রহমান। আমার ছেলে সরকারি চাকরি করে বিধায় মামলা করতে নিষেধ করেছে। সেই জমি অবৈধভাবে ভোগ করে আসছেন মহুবর রহমান। তার কারণে এলাকার অনেকেই অতিষ্ঠ।

মোহাম্মদ লিটন বলেন, মহুবর রহমানের প্রথম জালিয়াতি ধরা পড়ে খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী আছে, যাদের সহায়তায় তিনি এলাকার অনেকের জমি দখল করেছেন। শুধু তাই নয়, তিস্তার চরের জমিও মহুবর রহমান বিভিন্ন ব্যক্তির জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখল করেছেন। তার এসব অপকর্মে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ।

সিআইডি লালমনিরহাট অফিসের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল হাই সরকার বলেন, মহুবর রহমান একাধিক জাল দলিলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে জাল দলিলের একটি মামলা বিচারাধীন। আমরা তাকে গ্রেপ্তারের পর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জাল দলিলও উদ্ধার করেছি। আসামিকে ইতোমধ্যেই আদালতে পাঠিয়েছি। এই ঘটনায় কারা জড়িত আছেন তা জানতে আদালতের কাছে মহুবর রহমানকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।

জামাল/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়