ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪৩৩ || ১৮ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

থানার ভেতর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধর, ৩ পুলিশ ক্লোজড

রংপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৫১, ৪ জুন ২০২৬   আপডেট: ০৯:৫২, ৪ জুন ২০২৬
থানার ভেতর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধর, ৩ পুলিশ ক্লোজড

রংপুরে থানার ভেতরে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রাকিবুল ইসলামকে (সাদা শার্ট পরিহিত) মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার ভেতরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।

বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টার দিকে হওয়া এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে। পাশাপাশি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

আরো পড়ুন:

মারধরের শিকার রাকিবুল ইসলাম রাকিব রংপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব। তার অভিযোগ, থানায় একটি পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার জন্য গেলে ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন।

ক্লোজড পুলিশ সদস্যরা হলেন- নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদ রানা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরীর সিও বাজার এলাকার এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পরে ওই যুগলকে উদ্ধার করে থানায় আনা হলে তাদের পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসার জন্য কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা থানায় যান। সেখানে এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।

রাকিবুল ইসলাম দাবি করেন, থানার ভেতরে এক পুলিশ সদস্য ওই যুগলকে মারধর করছিলেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হন এবং গায়ে হাত তোলেন। এতে তিনি আহত হন। 

এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। পরে আহত রাকিবকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান। তার দাবি, উদ্ধার হওয়া যুগলের দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করেছিল। আহত নেতার শরীরে আঘাতের বিষয়ে তিনি ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন।

ঘটনার পর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদ রানাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

ঢাকা/আমিরুল/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়