ঢাকা     রোববার   ০৩ মার্চ ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১৯ ১৪৩০

কোরবানির পশু জবেহ এবং মাংস বণ্টনের বিধান

মাওলানা মুনীরুল ইসলাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৩১, ১০ জুলাই ২০২২   আপডেট: ১২:৪৩, ১০ জুলাই ২০২২
কোরবানির পশু জবেহ এবং মাংস বণ্টনের বিধান

কোরবানির পশু জবেহ করার নিয়ম হলো, পশুর মাথা দক্ষিণ দিকে এবং পা পশ্চিম দিকে রেখে কেবলামুখি করে শুইয়ে পূর্ব দিক থেকে চেপে ধরে তারপর কোরবানি করতে হবে। কোরবানি করার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে, সিনার উপরিভাগ এবং কণ্ঠনালীর মাঝামাঝি স্থানে যেন জবেহ করা হয়।

গলায় চারটি রগ রয়েছে, এর মধ্যে গলার সামনের দিকে দুটি,  খাদ্যনালী ও শ্বাসনালী এবং দুপাশে দুটি রক্তনালী। এ চারটির মধ্যে খাদ্যনালী, শ্বাসনালী এবং দুটি রক্তনালীর মধ্যে একটি অবশ্যই কাটতে হবে। নিজের কোরবানি নিজের হাতে করা উত্তম। আরবি নিয়ত জানা না থাকলে জবেহ করার সময় শুধু ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে কোরবানি করলেও শুদ্ধ হবে। কারণ নিয়ত অন্তরের ব্যাপার।

১. কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশু কোরবানি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। দান করা যাবে না, বিক্রি করা যাবে না। তবে কোরবানি ভালোভাবে আদায় করার জন্য পরিবর্তন করে এর চেয়ে উত্তম পশুর ব্যবস্থা করা যাবে। 
২. পশুর মালিক ইন্তেকাল করলে, এ কোরবানি বাস্তবায়ন করা তার উত্তরাধিকারীদের দায়িত্ব। 
৩. এ পশু দ্বারা কোনো ধরনের উপকার ভোগ করা যাবে না। যেমন দুধ বিক্রি করা, কৃষিকাজে ব্যবহার করা, সওয়ারি হিসেবে ব্যবহার করা ইত্যাদি। কোরবানির জন্তুর পশমও বিক্রি করা যাবে না। পশম তার শরীর থেকে আলাদা করে ফেললে দান করে দিতে হবে। ইচ্ছা করলে নিজের কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে।
৪. কোরবানিদাতার অযত্ন-অবহেলায় যদি পশুটি দোষযুক্ত হয়ে পড়ে, চুরি হয়ে যায় অথবা হারিয়ে যায়, তাহলে তার কর্তব্য হবে অনুরূপ বা তার চেয়ে ভালো একটি পশু ক্রয় করা। আর যদি স্বাভাবিকভাবেই কোনো কারণে দোষত্রুটির সৃষ্টি হয়, তাহলে এটা কোরবানি করলেই চলবে।
৫. কোরবানির পশু হারিয়ে গেলে অথবা চুরি হয়ে গেলে এমতাবস্থায় কোরবানিদাতার ওপর পূর্ব থেকেই কোরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকলে, সে কোরবানির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবে। আর যদি পূর্ব থেকে ওয়াজিব না থাকে, তাহলে চুরি হয়ে গেলে বা মরে গেলে অথবা হারিয়ে গেলে তাকে আবার পশু কিনে কোরবানি আদায় করতে হবে।

কোরবানির গোশতের বিধান

১. কোরবানির পশুর গোশত তিন ভাগ করা উত্তম। এক ভাগ নিজের জন্য, এক ভাগ গরিব-মিসকিনের জন্য, আর এক ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর জন্য। তবে এভাবে বণ্টন করা ওয়াজিব নয়, মুস্তাহাব বা উত্তম। কোরবানিদাতা যদি সম্পূর্ণ গোশত নিজে রেখে দেয়, এতেও কোরবানির কোনো সমস্যা হবে না, তবে তা উত্তম নয়।
২. গোশত বা চামড়া কসাই বা জবেহকারীকে বিনিময়স্বরূপ দেওয়া যাবে না, যদি কেউ দিয়ে থাকে তাহলে তার মূল্য দান করে দিবে। তবে ন্যায্য পারিশ্রমিক দেওয়ার পর হাদিয়া বা উপহার হিসেবে দেওয়া যাবে। 
৩. শরিকদের মাঝে গোশত মেপে বণ্টন করতে হবে। তবে অনুমান করে বণ্টন করলে ক্ষুর, পায়া ইত্যাদি সবার ভাগে গেলে তাও শুদ্ধ হবে।

কোরবানির চামড়ার বিধান

১. কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবহারের উপযুক্ত করে কোরবানিদাতা নিজেও ব্যবহার করতে পারবে। তবে বিক্রি করলে পুরো মূল্য দান করে দিতে হবে। দানের ক্ষেত্রে গরিব আত্মীয়-স্বজনকে প্রাধান্য দেওয়া উত্তম। আর যে সব ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গরিব ও এতিম ছাত্রদের ভরণ-পোষণ করা হয় এবং ইসলামী শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়, সেখানে চামড়ার মূল্য দান করলে অধিক সওয়াবের আশা করা যায়। কারণ এতে একদিকে গরিব-এতিমদের সাহায্য করা হয়, অপরদিকে ইসলামী শিক্ষার সহযোগিতা করা হয়। 
২. পশুর দেহ থেকে চামড়া আলাদা করার আগে তা বিক্রি করা জায়েয নয়।
৩. কোরবানির চামড়া পাওয়ার প্রকৃত দাবিদার তারাই, যারা জাকাত-ফেতরা ও দান-সদকা ভোগ করতে পারে। তাই কোরবানির চামড়া বিক্রি করার পর এর মূল্য দিয়ে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা যাবে না। তেমনিভাবে মসজিদ, মাদরাসা, হাসপাতাল ইত্যাদির মেরামত কিংবা নির্মাণেও তা ব্যয় করা যাবে না।

সূত্র : ফাতওয়া আলমগীরী, ফাতওয়া শামী, ইমদাদুল ফাতওয়া প্রভৃতি

/তারা/ 

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়