ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ১২ ১৪৩১

প্রস্তুত মেরাদিয়া পশুর হাট: ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি

নুরুজ্জামান তানিম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৮, ২৪ জুন ২০২৩   আপডেট: ২০:১৮, ২৪ জুন ২০২৩
প্রস্তুত মেরাদিয়া পশুর হাট: ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি

আগামী ২৯ জুন (বৃহস্পতিবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর পশুর হাটগুলোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২৫ জুন) থেকে হাটগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে পশু বেচাকেনা শুরু হবে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার ঐতিহ্যবাহী মেরাদিয়া পশুর হাটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। হাসিল ঘর, কন্ট্রোল রুম, পশু চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনসহ সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে হাট কর্তৃপক্ষ।

গত বৃহস্পতিবার (২২ জুন) মেরাদিয়া হাটে পশুবোঝাই ট্রাক আসতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে হাটে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, রাজবাড়ি, মেহেরপুর, যশোর, ঝিনাইদহ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, নওগাঁ, সাভারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা কোরবানির পশু নিয়ে এ হাটে আসছেন। এই কয়দিনে কোরবানির পশুতে হাটটি জমে উঠেছে। এখন ক্রেতার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন বেপারি।

হাট কর্তৃপক্ষের দাবি, রোববার থেকে বেচাকেনায় জমে উঠবে মেরাদিয়া পশুর হাট। তবে এখনও হাটে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি। দর্শনার্থীরা পশুর দর দাম করছেন ঠিকই, কিন্তু কম কিনছেন বলে জানিয়েছেন ব্যাপারীরা। ক্রেতারা বলছেন, গতবারের তুলনায় এবার পশুর দাম একটু বেশি। গোখাদ্যের দাম বাড়ায় পশুর দাম এবার কিছুটা বাড়তি চাচ্ছেন ব্যাপারীরা।

শনিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া পশুর হাট সরেজমিন ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে।

মেরাদিয়া পশুর হাটে ছোট সাইজের গরু ৭০ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। মাঝারি সাইজের গরু ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে। এছাড়া বড় সাইজের গরুর ৪ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার গাংনি থেকে মেরাদিয়া হাটে গরু এনেছেন মো. তৌহিদুল ইসলামসহ তার সহযোগীরা। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, এবারের কোরবানি ঈদ উপলক্ষে হাটে তাদের মাঝারি থেকে বড় সাইজের ২০০টি গরু আসবে। ইতোমধ্যে ১৫০টি গরু এসেছে। এখন পর্যন্ত একটি গরু বিক্রি হয়নি। ক্রেতারা খালি গরু দেখে যাচ্ছেন। আর যারা দাম বলছেন, তা চাওয়া দামের চেয়ে অনেক কম। ২২ মণ ওজনের একটি গরুর দাম চেয়েছি ৬ লাখ টাকা। কিন্তু ক্রেতারা বলেছে আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকা। বর্তমান গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকা কেজি হলে ২২ মণ এক গরুর দাম আসবে ৭ লাখ টাকার উপরে। গতবারের চেয়ে এ বছরে গোখাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। তাই পশুর দাম কিছুটা বাড়তি চাওয়া হচ্ছে।

সাভারের পূবাইলে নিজস্ব ফার্ম ওবায়েদ এগ্রো থেকে ১৯টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন মো. আরমান। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, প্রতি বছর এ হাটে আমরা গরু নিয়ে আছি। এবারও আমাদের ফার্মের গরু নিয়ে এসেছি। আমাদের গরুর সাইজ বড়। গতবার ১৬টি এনেছিলাম। বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। আশা করি, এবারও বিক্রি হবে। তবে এবার দাম কিছুটা বাড়তি। গরুর দাম ৬ লাখ চেয়েছি। সে অনুযায়ী ক্রেতারা দাম অনেক কম বলছেন। তারা যে দাম বলছেন, তা গত এক বছরের গরুর খাবারের দামের সমান।

কুষ্টিয়া থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারী বানাই বাবলু রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এবার কোরবানি ঈদ উপলক্ষে হাটে ১১টি গরু এনেছি। ছোট থেকে মাঝারি সাইজের গরু আনা হয়েছে। এগুলোর দাম ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। এখনও কোনও গরু বিক্রি হয়নি। ক্রেতাদের সঙ্গে দামাদামি চলছে।

মেরাদিয়া হাটের ইজারাদার আওরঙ্গজেব টিটু রাইজিংবিডিকে বলেন, ২৫ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাটে পশু বেচা-বিক্রি শুরু হবে। কোরবানির হাটের প্রস্তুতি শেষ বললেই চলে। ইতোমধ্যে হাটে পশুতে ভরে গেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে হাট শুরু হলেই কেনাবেচা বাড়বে।

এদিকে কুরবানি ঈদের আগে এক লাখ গরু আমদানির সুপারিশ করেছে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। গত বৃহস্পতিবার (২২ জুন) ঈদকে সামনে রেখে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া জানান, দেশের বাজারে গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতের কলকাতায় গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৬০ রুপিতে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৪৫ টাকা। ভারতে চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি হওয়ায় দাম কম। 

অন্যদিকে, বাংলাদেশে উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেশি বলে এখানে গরুর মাংসের দাম বেশি। মাঝারি আয়ের সংসারগুলোতে মাঝে-মধ্যে গরুর মাংস খাওয়া এখন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় আসছে কোরবানি ঈদে ভোক্তাদের কম দামে মাংস খাওয়াতে ভারত থেকে অন্তত এক লাখ গরু আমদানির সুপারিশ করছি। তাহলে বাংলাদেশের বাজারে গরুর দাম কমবে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৪ জুন) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, এ বছর কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ১ কোটি ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৩৯টি। এর মধ্যে কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার। সে হিসেবে এবার ২১ লাখ ৪১ হাজার ৫৯৪টি পশু উদ্বৃত্ত আছে।

ঢাকা/এনএইচ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়