ঢাকা     শনিবার   ২০ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ৫ ১৪৩১

অনিশ্চয়তার দোলাচল কাটিয়ে মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তায় সাফল্যের রসদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম থেকে || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২৬, ২৬ মার্চ ২০২৩   আপডেট: ১৫:৫৪, ২৬ মার্চ ২০২৩
অনিশ্চয়তার দোলাচল কাটিয়ে মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তায় সাফল্যের রসদ

পারফর্ম না করলে বাদ পড়তেই হবে। তবে জায়গা হারানোর ভয় নিয়ে নিশ্চিতভাবেই সফল হওয়া যায় না। সফল হতে হলে হতে হয় নির্ভীক, অকুতোভয়। নিজের ভেতরে সেই সাহসিকতা যোগানোর জন্য প্রয়োজন হয় মানসিক শক্তি। শাস্ত্রের ভাষায়, যাকে বলা হচ্ছে মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তা।

নামকরা সফল উদ্যোক্তা ও বেস্ট সেলিং লেখক টনি রবিন্স বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের সাফল্যের পেছনে তার মানসিকতার কৃতিত্ব ৮০%।’ নিজের লিখা বইয়ে রবিন্স বুঝাতে চেয়েছেন, মানসিকভাবে ফিট থাকা মানুষের জীবনে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে যতটা চাপের মুহূর্তে একজন সফলতার জন্য লড়াই করে।

বাংলাদেশ দলের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে টনি রবিন্সের বই পড়েছেন কিনা জানা নেই, তবে তার ভাবনা মিলে যাচ্ছে আমেরিকার লেখকের সঙ্গে। দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মাস দেড়েক হলো। মাঠের পারফরম্যান্সে বোঝা যাচ্ছে স্বল্প এ সময়েই কাজ গুছিয়ে এনেছেন শ্রীলঙ্কান কোচ।

২০১৪ সালে প্রথম মেয়াদে যোগদানের সময় হাথুরুসিংহের নিজের প্রমাণেরও অনেক কিছু ছিল। মাঠের ক্রিকেটে বাংলাদেশের খোলনলচে পাল্টে দিয়ে বাক বদলের নায়ক হয়ে উঠেন তিনি। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে কেমন করবেন তা নিয়ে ছিল অনেক জল্পনা-কল্পনা।

শুরুটা একদমই মন্দ হয়নি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতে ৩-০ সমীকরণে। পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষের সিরিজেও। যেখানে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জেতে স্বাগতিকরা। এবার টি-টোয়েন্টির পালা। এই সিরিজও দাপটের সঙ্গে জিততে চান হাথুরুসিংহে।

মাঠের ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্সের সঙ্গে ক্রিকেটারদের শারীরিক ভাষাতেও পরিবর্তন টের পাওয়া যাচ্ছে। আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের সঙ্গে আগ্রাসী মনোভাব ফুটে উঠেছে স্পষ্ট। সঙ্গে তারুণ্যের জয়গানে বাজছে নতুন সুর। স্বল্প সময়েই হাথুরুসিংহের ছোঁয়ায় পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট। কী করেছেন জানতে চাওয়া হয়েছিল তার কাছেই। শুরুর প্রশ্নে খুব বেশি কিছু বলতে আগ্রহী হলেন না ৫৬ বছর বয়সী কোচ।

‘আমি মনে করি না কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। তারা একই দক্ষতার, একই খেলোয়াড়। শুধুমাত্র ড্রেসিংরুমের ভেতরের আবহ কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। সঙ্গে আমরা যেভাবে কথা বলি এবং যা নিয়ে কথা বলতে চাই তার পরিবর্তন এসেছে। আমি এই দলটার ভেতরে মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তায় নিয়ে আসতে চেষ্টা করেছি। তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি তারা ব্যর্থ হোক বা ভালো করুক তাদের গুরুত্ব আমাদের কাছে রয়েছে। তাদের স্কিলের সামর্থ্যের কারণে তারা আমাদের কাছে মূল্যবান এবং যেজন্য আমাদের কাছে তারা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আমি মনে করি কোনো কিছুর পরিবর্তন হয়নি। আমি জানি না আগে কী হয়েছে তবে তাদের স্কিল একই আছে।’

পরবর্তীতে হাথুরুসিংহের কাছে আরও খোলাখুলিভাবে জানতে চাইলে কথার ঝাঁপি খুলে দেন।

‘একটি শব্দে আমি পুরো কথার সমাপ্তি টানতে পারি, মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তা। এটা খুব বড় শব্দ। এর পেছনে অনেক কিছু কাজ করে যেটা হয়তো বোঝার উপায় থাকে না। এর পিছনে অনেক কিছু রয়েছে যেমন, আপনি যদি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে পারেন যেখানে খেলোয়াড়রা ফলাফলের বিষয়ে চিন্তা না করে, প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে চিন্তা না করে তাদের সেরাটা করতে পারে।’

‘শুধু কোচই নয়, শুধু নির্বাচকই নয়, এমনকি তাদের সমবয়সীদের থেকেও, যদি তারা নিজেদের চেষ্টায় উন্মুখ থাকতে পারে এবং যদি তারা ব্যর্থ হয় তাতেও কোনো সমস্যা নেই। তারা কিন্তু একই খেলোয়াড় যাদেরকে আমরা বিশ্বাস করি। আমি মনে করি শুধুমাত্র এখানেই পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের ভেতরেও এমন পরিবর্তনটা এসেছে। কিছু কিছু কোচরা আমাকে বলেছে, খেলোয়াড়দের ভেতরে এখানেই বড় পরিবর্তন এসেছে। যেটা আমি নিজ থেকে তৈরি করতে চাচ্ছিলাম।’

‘আমি নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, আমরা যদি এমন পরিবেশ তৈরি করি তাহলে তারা নিজেদের সেরাটা দিতে পারবে। যদি কিছুদিন তাদের পারফরম্যান্স ভালো নাও হয়তো তাহলেও বলবো সব ঠিকঠাক আছে।’

আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার যে মানসিকতা তা হাথুরুসিংহের প্রথম মেয়াদেই শুরু হয়েছিল। যা এখনো বাংলাদেশ ক্রিকেটের ব্র্যান্ড। সেই ব্র্যান্ডের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে অনিশ্চিয়তার দোলাচাল কাটিয়ে মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তা পাওয়া। যা নতুন কিংবা পুরোনো যেকোনো ক্রিকেটারের জন্যই বাড়তি পাওয়া।

দল থেকে বাদ পড়ার ভয় না থাকলে মাঠের ক্রিকেটটা রোমাঞ্চকরই হওয়ার কথা। যা নতুন যুগের শুরুও বলা যায়। যদিও এই কথায় আপত্তি আছে তার। সঙ্গে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার ব‌্যাখাও দিয়েছেন হাথুরুসিংহে, ‘আমি নতুন যুগ দেখি না। সামনেও আমরা এভাবেই খেলতে চাই। আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে চাই। আগ্রাসী ক্রিকেট মানে এই নয় যে আমরা গেলাম আর জোরে জোরে মারলাম। সবদিক থেকেই আগ্রাসী হয়ে ওঠা। দল নির্বাচন, ফিল্ড সাজানো, আমাদের শরীরী ভাষা, ফিল্ডিং, ব্যাটিং। কৌশলগত দিক দিয়েও আগ্রাসী হব, ফল কী হবে, তা নিয়ে ভাবব না। নিজেদের সেরাটাই খেলতে চাই। যখনই আমরা এমন আগ্রাসী ক্রিকেট খেলি, মুক্তভাবে খেলেছি—এ দল তখনই ভালো করেছে।’

ইয়াসিন/আমিনুল

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়