ঢাকা     বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ১১ ১৪৩১

বাবর ২২ গজ রাঙালেন, আজমতউল্লাহ ফিনিশ করলেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১৫, ২৩ জানুয়ারি ২০২৪   আপডেট: ১৭:২২, ২৩ জানুয়ারি ২০২৪
বাবর ২২ গজ রাঙালেন, আজমতউল্লাহ ফিনিশ করলেন

আসলেন, দেখলেন আর জয় করলেন। বাবর আজমের প্রশংসায় এর চেয়ে ভালো আর কিছু কি বলা যায়। যদি বলা যায় তাহলে সব প্রশংসা তার জন্যই বরাদ্দ।

গতকাল রাতে নিউ জিল্যান্ড থেকে লম্বা ফ্লাইট ধরে বাংলাদেশে এসেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। বিপিএলে খেলাতে তাকে উড়িয়ে এনেছে রংপুর রাইডার্স। প্রথম ম্যাচে হারায় রংপুর ছিল চাপে। তার উপরে সাকিব আল হাসানও নেই। চোখের চিকিৎসা করাতে ছুটেছেন সিঙ্গাপুর। দলে বাবর যোগ দেওয়ায় নির্ভার ছিল রংপুর। তার হাত ধরেই এবারের বিপিএলে প্রথম জয় দেখল ২০১৯ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

লো স্কোরিং ম্যাচে উত্তাপ ছড়াল। রোমাঞ্চের তৈরি হলো।  শেষ পর্যন্ত বাবরের ব্যাট কথা বললো রংপুরের হয়ে। তাতে সিলেট স্ট্রাইকার্সকে হারিয়ে রংপুর উড়াল বিজয়ের পতাকা।

মিরপুর শের-ই-বাংলায় দিনের ম্যাচে আবারও রান হলো না। উইকেট যে খরাপ কিংবা লো স্কোরিং সেই দোহাই দেওয়ারও সুযোগ নেই। স্কিলের যে ঘাটতি রয়েছে তা ফুটে উঠেছে বাবর বাদে বাকিদের ব্যাটে। সিলেট স্ট্রাইকার্স আগে ব্যাটিং করে ৮ উইকেটে ১২০ রান করে। জবাবে রংপুর ১৮.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।

রংপুরের জয়ের নায়ক বাবর আজম। ৪৯ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৫৬ রানের ইনিংস খেলে গড়ে দিয়েছেন ব্যবধান। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৯ রান তুলতে ৬ উইকেট হারায় রংপুর। শ্রীলঙ্কার তরুণ লেগ স্পিনার দুশন হেমন্ত নিজের প্রথম ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন। শামীম, নবী ও মাহেদীকে এলবিডব্লিউ করে ড্রেসিংরুমের পথ দেখান হেমন্ত। এর আগে রনি, ব্রেন্ডন কিং ও সোহান হতাশ করে ফেরেন।

ছয় ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে রংপুর তখন প্রবল চাপে। লক্ষ্যে পৌঁছতে তাদের প্রয়োজন ছিল একটি জুটি। বাবর দায়িত্ব নিলেন নিজের কাঁধে। তাকে সঙ্গ ছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। উইকেটের চারিপাশে শট খেলে বাবর রান তোলেন অনায়েসে। থিতু হয়ে আজমতউল্লাহ উড়তে থাকেন। তাতে জয় চলে আসে অনায়েসে। ৬৮ বলে তাদের অবিচ্ছিন্ন ৮৬ রানের জুটি রংপুরকে দেয় প্রথম জয়ের স্বাদ। বাবরের সঙ্গে অপরাজিত থাকা আজমতউল্লাহ  ৩৫ বলে ৪৭ রান করেন ২ চার ও ৩ ছক্কায়। ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন এই আফগান অলরাউন্ডার।

এর আগের রংপুরের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে সিলেটের ব্যাটিং ছিল ছন্নছাড়া। দলের সাত ব্যাটসম্যানই পৌঁছতে পারেননি দুই অঙ্কে। সর্বোচ্চ ৩৭ করে রান করেছেন বেনি হাওয়েল ও বেন কাটিং। তাদের দুজনের শেষের ঝড়েই যা রান হয়েছে। নয়তো একটা সময়ে মনে হচ্ছিল সিলেট এক’শও করতে পারবে না। শান্ত ১৪ রানে ফেরেন ড্রেসিংরুমে। মাশরাফি নিজের ভুলে রান আউট হন ৬ রানে। মিথুনের ব্যাট থেকে আসে ৫ রান।

এছাড়া ইয়াসির ৯ ও জাকির করেন ১ রান। ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে বোলাররা লড়াই করেছিল। কিন্তু মিরপুরের ২২ গজের লড়াইয়ে টসই গড়ে দিচ্ছে ম্যাচের ভাগ্য। টানা সপ্তম ম্যাচে টস যারা জিতেছে আগে ফিল্ডিং নিয়ে তারাই ম্যাচ জিতে নিচ্ছে। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না।

ইয়াসিন/আমিনুল

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়