ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৫ মার্চ ২০২৪ ||  ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

নবজাতক বিক্রির অভিযোগের পর হাসপাতালে রোগী ভর্তি বন্ধের নির্দেশ

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৩১, ২৬ মে ২০২৩   আপডেট: ২২:২৬, ২৬ মে ২০২৩
নবজাতক বিক্রির অভিযোগের পর হাসপাতালে রোগী ভর্তি বন্ধের নির্দেশ

গাজীপুরের শ্রীপুরে নবজাতক বিক্রি করে হাসপাতালের বিল নেওয়ার অভিযোগ উঠে নিউ এশিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের একটি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডিতে ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নবজাতককে বিক্রির অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়।

এরপর তাৎক্ষণিক এ ঘটনার তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. খাইরুজ্জামান। সেই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ভ্রমমাণ আদালত।

এদিকে, ঘটনাটি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ওই হাসপাতালের কর্মকর্তারা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার ভুক্তভোগী নারী হলেন প্রিয়া আক্তার (২২)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার মালিডাঙ্গা গ্রামের মো. রাসেল মিয়ার স্ত্রী। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার শ্রীপুর গ্রামের কাপাসিয়া সড়কের পাশে বাবুল সরকারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। অভিযুক্ত হাসপাতালের মালিকের নাম জাহাঙ্গীর আলম।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক আল মামুন বলেন, ‘নবজাতক বিক্রির খবর শুনে ইউএনও স্যারের নির্দেশনায় ওই হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নবজাতকের বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, ‘গাজীপুরের সিভিল সার্জনের নির্দেশে ইতিমধ্যে ক্লিনিকের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আমরা ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। শনিবার এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ক্লিনিকের সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পরপরই প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নবজাতককে কোথায় বিক্রি করা হয়েছে, তার সন্ধান দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ 

গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. খাইরুজ্জামানবলেন, ‘গণমাধ্যমে নবজাতক বিক্রির সংবাদটি আমার নজরে আসে। পরে তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্লিনিকের কাগজপত্র ঠিক না থাকলে হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত রোববার প্রিয়া আক্তার নামে এক অন্তঃসত্ত্বা প্রসব ব্যথা নিয়ে শ্রীপুর চৌরাস্তার নিউ এশিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। তার স্বামী একজন দিনমজুর। সেখানে জাহাঙ্গীর আলম নামে একজন নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দেন।

তিনি জানান, প্রসূতিকে দ্রুত সিজার না করলে মা-সন্তান দুজনেরই সমস্যা হবে। অপারেশন করতে ১৫-১৬ হাজার টাকা লাগবে। হাসপাতালের খরচ দিতে না পারায় এই দম্পতির কাছ থেকে তাদের সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যাশিশুকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির হাতে তুলে দেন। পরে প্রসূতিকে ১৪ হাজার টাকা হাতে দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেন। এরপর ভুক্তভোগী নারী তার নবজাতকের সন্ধান চাইলে, নবজাতকের সন্ধান না দিয়ে হাসপাতাল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

রফিক/কেআই

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়