ঢাকা     শনিবার   ১৫ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ১ ১৪৩১

বগুড়ায় ডিমের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন ঘাটতি নাকি কৃত্রিম সংকট?

এনাম আহমেদ, বগুড়া || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:২৯, ১৯ মে ২০২৪   আপডেট: ১৬:৩৮, ১৯ মে ২০২৪
বগুড়ায় ডিমের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন ঘাটতি নাকি কৃত্রিম সংকট?

বগুড়ার ডিমের আড়ত

গত কয়েকদিন ধরেই অস্থির বগুড়ার ডিমের বাজার। খুচরা বাজারে ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ৪৮ টাকায়। অবৈধভাবে মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ডিমের দাম বাড়ানো হচ্ছে এমন অভিযোগের আঙ্গুল উঠছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ীদের দিকে। ইতোমধ্যে বগুড়ার কয়েকটি কোল্ড স্টোরেজে মজুত রাখা ৬ লাখেরও বেশি ডিম পেয়েছে প্রশাসন। অবৈধভাবে মজুতের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কোল্ড স্টোরেজ এবং ডিম ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মজুত ডিম দ্রুত বিক্রির নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে বলা হচ্ছে, অতি মুনাফার লোভেই ডিম এভাবে কোল্ড স্টোরেজগুলোতে মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে, যাতে বেশি দামে বিক্রি করা যায়। এদিকে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানি এবং খামার থেকে তারা পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিম পাচ্ছেন না। যে ডিমগুলো কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ আছে সেগুলো রমজান মাসে সংরক্ষণ করা। ওই সময় ডিমের সরবরাহ অনেক থাকায় এবং বিক্রি কম হওয়ায় সংরক্ষণে বাধ্য হয়েছিলেন তারা। এখন ওই ডিমগুলোই বাজারে আসছে। সংরক্ষণ করা ডিমগুলো শেষ হয়ে গেলে ডিমের বাজার দর আরো বাড়তে পারে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রামে সরবরাহ করাকেও বগুড়ায় ডিমের ঘাটতি এবং দামের উর্ধ্বগতির কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, গত ১৫ মে বগুড়ার কাহালু উপজেলার আফরিন কোল্ড স্টোরেজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ লাখ ডিম অবৈধ মজুত অবস্থায় পায় প্রশাসন। সেসময় প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ১৮ মে বগুড়া সদরের নুনগোলা ইউনিয়নের ঘোরাধাপ এলাকার সাথী হিমাগার ইউনিট-২ এবং শাজাহানপুর উপজেলার ফাতেমা সাইদুর নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজারের মতো ডিম পায়। সাথী হিমাগারের ম্যানেজারকে ২০ হাজার টাকা এবং ফাতেমা সাইদুর হিমাগারে সংরক্ষণ করা ৩০ হাজার ডিমের মালিক ডিম ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে প্রশাসন।

আরও পড়ুন: আবারও অভিযান: কোল্ড স্টোরেজে মজুত ছিল লক্ষাধিক ডিম

সরেজমিনে বগুড়া শহরের ডিমের বাজার, আড়তের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বগুড়ায় কাজী ফার্ম, নারিশ, নাবিল, ভিআইপি, সিপি বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানি ডিম সরবরাহকারী, স্থানীয় খামারী ব্যবসায়ীদের কাছে ডিম সরবরাহ করে থাকে। ডিম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম কাজী ফার্ম। কাজী ফার্মই ডিমের বাজারের হর্তাকর্তা। তারাই ডিমের দর বেধে দেয়। কোন প্রতিষ্ঠানে কতগুলো ডিম যাবে, কোথায় ডিম সরবরাহ করা হবে এটা নির্ধারণ করে দেয়। গত ক’দিন ধরে কাজী ফার্মের কাছ থেকে আড়তদার এবং পাইকাররা প্রতি পিস ডিম কিনছেন ৯ টাকা ৬১ পয়সা দরে। ওই দামে কিনলেও সব খরচ মিলে ডিমের দাম পড়ে যায় প্রতি পিস ১০ টাকা ৭০ পয়সা করে। 

রোববার বগুড়ার আড়তগুলোতে স্ট্যান্ডার্ড সাইজের লাল ডিমের দাম ছিলো ১০ টাকা ৮০ পয়সা প্রতি পিস, সাদা ডিম ১০ টাকা ৫০ পয়সা আর মাঝারি সাইজের লাল ডিমের দাম ছিলো ৯ টাকা ৪০ পয়সা। আড়তগুলোতে লাল ডিম সব সময়ই দুই সাইজের দুই দামে বিক্রি করা হয়। খুচরা ব্যবসায়ীরা দুই সাইজের ডিম দুই দামে কিনলেও ক্রেতাদের কাছে বিক্রির সময় ডিমগুলো একত্রে মিশিয়ে স্ট্যান্ডার্ড সাইজের দামেই বিক্রি করে থাকেন।

বগুড়া জেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলায় ৩৭০টি ডিম উৎপাদনকারী মুরগির খামার রয়েছে। প্রতিদিন ডিম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১০ লাখ ৬৪ হাজার ১৯টি। সেখানে উৎপাদন হচ্ছে ২২ লাখ ১৮ হাজার ৬০০টি ডিম।

আরও পড়ুন: হিমাগা‌রে মজুত ছি‌ল ৫ লাখ ডিম

বগুড়া সদরের এরুলিয়া এলাকার খামারি এসএস পোল্ট্রি ফার্মের প্রোপ্রাইটর মো. শামসুল আলম জানান, ঈদের আগে তার খামার থেকে ডিম উৎপাদন হতো ১০ থেকে ১২ হাজার। বয়স হয়ে যাওয়ায় তিনি ঈদের আগে ৭ হাজার পিস মুরগি বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন তার খামারে রয়েছে ১৩ হাজারের বেশি মুরগি। এর মধ্যে ৬ হাজার পিস মুরগী ডিম দিচ্ছে। যা থেকে গড়ে প্রতিদিন ৫ হাজারের মতো ডিম সংগ্রহ করা যায়। বাকি মুরগি আগামী দেড় থেকে ২ মাসের মধ্যে ডিম দিতে শুরু করবে। তখন ডিমের উৎপাদন আরো বাড়বে। 

তিনি আরও জানান, সব খরচ বাদ দিয়ে একটা ডিম উৎপাদনে ১০ টাকার মতো খরচ হয়। তিনি লোকাল বাজারে ডিম বিক্রি করেন। আজকে ১০ টাকা ৯০ পয়সায় ১১ পিস ডিম বিক্রি করেছেন। 

ডিমের আড়তদার প্রতিষ্ঠান সেলিম এন্টারপ্রাইজের পরিচালক সেলিম রহমান বলেন, গত রমজানে ডিমের দাম ছিলো কম। এবার প্রচণ্ড গরমের কারণে অনেক মুরগি মারা গেছে। এছাড়া, ওই সময় মুরগির বাজারও উর্ধ্বমুখী ছিলো। ফলে খামারিরা অনেক মুরগি বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে ডিমের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে এখন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একারণেই এখন ডিমের বাজারের অবস্থা এমন। রমজানে ডিমের হালি ছিলো ৩৬ টাকা থেকে ৩৮ টাকা। বর্তমান বাজারে ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। 

ডিমের উৎপাদন ঘাটতি হচ্ছে আপনি জানলেন কিভাবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি আগে প্রতিদিন ডিম পেতাম ১ লাখ থেকে দেড় লাখ। সেখানে এখন বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে পাচ্ছি ৫০ হাজার পিস ডিম। 

এমনও হতে পারে কোম্পানিগুলো ডিম আটকে রেখে আপনাদের কম করে দিচ্ছে এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোম্পানি আটকে রাখলে সেটা তো আমরা জানবো না। কোম্পানি যদি আমাদের বলে আজকে আমরা এই কয়টা ডিম দেবো, আমাদের সেই কয়টা ডিমই নিতে হয়। কোম্পানি আগে নিয়ে আসতো ৪ গাড়ি ডিম এখন নিয়ে আসছে তিন গাড়ি। 

ডিমের মজুত সম্পর্কে জানতে চাইলে সেলিম রহমান বলেন, ডিম শুধুমাত্র রমজানে মজুত করা হয়। কারণ ওই সময় ডিম বিক্রি কম হয়। মজুত না করলে ডিম নষ্ট হয়ে যায়। ওই মজুত ডিমগুলোই এখন বিক্রি হচ্ছে। মজুত শেষ হয়ে গেলে ডিমের দাম আরও বাড়বে। 

সেলিম এন্টারপ্রাইজের পরিচালক প্রোপ্রাইটর জহুরুল ইসলাম বলেন, রমজানে ডিমের সরবরাহ প্রচুর ছিলো। রমজান মাসে হোটেল, বেকারি, স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিলো। ওই সময় মানুষ ডিম কম খান। যেকারণে তখন ডিমের দাম কম ছিলো। এখন তো সবকিছু খোলা। বেকারি, হোটেল, বাসা বাড়িতে সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে নানা মুখরোচক খাবার তৈরিতে সবখানেই ডিমের প্রয়োজন পড়ছে। এছাড়া, বাজারে মাছ-মাংস ও আলুসহ সব কিছুর দাম বেশি। যে কারণে বিকল্প খাবার হিসেবে ডিমের ওপর চাপ পড়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ডিমের ব্যবসা করে আমাদের শতকরা ১০ টাকা লাভ আসে। যখন ডিমের সরবরাহ ভালো ছিলো তখন বেশি পরিমাণ বিক্রি করতাম। যে কারণে লাভ বেশি ছিলো। এখন মাল বিক্রি করছি কম। ফলে লাভের পরিমাণও কমে গেছে।

মেসার্স শেফা এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর শহিদুল ইসলাম বলেন, ডিমের সরবরাহ কম। এই কারণেই দাম বেশি। আগে প্রতিদিন ২ লাখের বেশি ডিম বিক্রি করতাম। এখন ৫০ থেকে ৭০ হাজার পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে। ডিমই সংগ্রহ করতে পারছি না। এখন শুধু কাজী ফার্মের ডিম পাচ্ছি। নাবিল ফার্মের নাম গত একমাসেও আমার খাতায় ওঠেনি। ডিম কম পাওয়ায় পার্টিদের ফোন ধরাই বন্ধ করে দিয়েছি। 

কী ব্যবস্থা নিলে বগুড়ার ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজী ফার্মের ডিমের রেট ৯ টাকা ৬১ পয়সা। অন্যান্য কোম্পানিও যদি একই রাখে সেক্ষেত্রে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আবার এরকম ডিমের সংকট থাকবে না যদি প্রতিটি জেলার ডিম প্রতিটি জেলাতেই থাকে। বগুড়ার ডিম যদি ঢাকা-চট্টগ্রামে যায় তাহলে তো সংকট দেখা দেবেই। উত্তরবঙ্গের ডিম যদি ওদিকে না যায় তাহলে বগুড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে। আমার প্রতিষ্ঠান থেকে ডিমগুলো বগুড়া জেলার ভেতরেই সরবরাহ করা হয়।

এই ব্যবসায়ী বলেন, যখন ডিম বেশি পাওয়া যেত তখন ১টা ডিমে সর্বোচ্চ ১০ পয়সা লাভ থাকতো। এখন ডিমের সরবরাহ কম থাকায় কাজী ফার্মের ডিমের উপর ৫০ পয়সা লাভ করতে হচ্ছে। কারণ আমাদেরও তো ব্যবসা করতে হবে। আমাদের লোকজন আছে। ক্যারিং খরচ আছে।

বগুড়া ডিম ঘর-এর প্রোপ্রাইটর রতন মন্ডল বলেন, তিনি কাজী ফার্ম থেকে গত কয়েকদিন ধরেই প্রতি পিস ডিম ৯ টাকা ৬১ পয়সায় কিনছেন। তবে ডিমের পরিমাণ কম। আগে দিনে গড়ে তিনি ৪ হাজার ডিম বিক্রি করতেন। এখন সংকটের কারণে ২ হাজার পিস ডিম পাচ্ছেন। ডিম ওই দামে কিনলেও সব খরচ মিলে পড়ে যায় প্রতি পিস ডিম ১০ টাকা ৭০ পয়সা। 

তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রামের যদি ডিম না যায় তাহলে ডিমের দাম স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।

কাজী ফার্মের বগুড়ার ম্যানেজার মাহবুব বলেন, সরকার নির্ধারিত রেট ফলো করে বগুড়ায় ৩ থেকে ৪ লাখ ডিম প্রতিদিন সেল করা হয়। আজকেও আমরা ৩ লাখের ওপর ডিম সেল করেছি।

সিপি বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড এর বগুড়া ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা কোনো ডিম বিক্রি করি না।  আমরা লোকাল খামারিদের নিয়ে কাজ করি। খামারিদের সঙ্গে আমাদের কন্ট্রাক্ট হলো- আমরা রেডি মুরগি দিই আর ওরা আমাদের কাছ থেকে খাদ্য নেয়। এই খাদ্যের পরিবর্তে ওরা ডিম বিক্রি করে আমাদের টাকা দেয়। 

তিনি বলেন, জেলায় ৫০টির মতো খামারি আমাদের সাথে কন্ট্রাকে কাজ করছেন। লোকাল খামারিরা আজকে হয়তো ১০ টাকা ৮০ পয়সা দরে প্রতি পিস ডিম বিক্রি করছেন।

বগুড়া জেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোছা. নাছরীন পারভীন বলেন, জেলায় ডিমের উৎপাদন ঘাটতি নেই। বগুড়ায় উৎপাদিত ডিম অন্যান্য জেলাতেও পাঠানো হয়। ডিলার আড়ৎদাররা ডিম কম পাচ্ছে এর কারণ হতে পারে হয়তো বগুড়ার বাইরে ডিম বেশি পাঠানো হচ্ছে। 

তাপপ্রবাহের কারণে খামার থেকে মুরগি মারা গেছে এমন কথা মাঠ পর্যায়ে থেকে উঠে এসেছে এরকম কোনো তথ্য আপনাদের কাছে আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুরগি মারা গেছে এমন কোনো তথ্য নেই।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়ার সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, ডিমের বাজার নিয়ে আমাদের কাছে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে, আজ-কালের মধ্যে নির্দেশনা আসলে আমরা হয়তো পরশু থেকে যে কোল্ড স্টোরেজগুলোতে ডিম সংরক্ষণ করে রাখে সেগুলোতে নজরদারি করবো।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বগুড়ার মাঠ ও বাজার পরিদর্শক মো. আবু তাহের বলেন, অতি মুনাফার লোভে কোল্ড স্টোরেজগুলোতে অবৈধভাবে ডিম মজুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রশাসন গত কয়েকদিন অভিযান চালিয়ে তিনটি কোল্ড স্টোরেজ থেকে ৬ লাখের বেশি ডিম মজুত অবস্থায় পেয়েছে। এভাবে মজুতের ফলে ডিমের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

বগুড়ার সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মমতা হক বলেন, বগুড়া জেলায় প্রতিদিন ডিমের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ। এই ডিম সবগুলোই বগুড়ায় উৎপাদন হয় না। বগুড়ার পাশের জেলা লালমনিরহাট গাইবান্ধা থেকে ডিম আসে। এরপরেও ডিমের ঘাটতি সব সময় থাকে। কাজী ফার্ম বগুড়ার ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। ওরা বগুড়া থেকে ডিম আবার বগুড়ার বাইরে পাঠিয়ে দেয়। বগুড়াতে সবগুলো দেয় না এটা একটা সমস্যা আছে। নতুন কিছু নয়, এটা সব সময় চলে।  

তিনি আরও বলেন, তবে রমজান মাসে  ডিমের সরবরাহ অনেক বেড়ে গিয়েছিলো। ওই সময় ব্যবসায়ী যারা তারা আমাদের বলেছিলেন, ১৫ দিনের জন্য ডিম কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করে রাখতে চাচ্ছে, ডিম বিক্রি হচ্ছে না। বিক্রি না হলে ডিম পচে যেতে পারে। তারা ১৫ দিনের জন্য রাখার পর হয়তো থার্ডপার্টি ডিমগুলো নিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। যখন ছাড়ার কথা ছিলো তখন ছাড়েনি। এই কোল্ডস্টোরেজগুলো তো আবার ডিমের জন্য বিশেষায়িতও না। এই ডিম যখন বাজারে ছাড়ছে তারা তখন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কৃত্রিম সংকট প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা বলেন, মূল ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে কাজী ফার্ম। লোকাল যেসকল খামারি আছেন তারা হয়তো কিছুটা কম দামেও দিতে চায়। কিন্তু কাজী ফার্ম সকালে একটা দাম নির্ধারণ করে দেয়। ওরা বলে বিডিং, কিন্তু বিডিং বলতে যেটা বোঝায় সেটা তারা ফলো করে না। কাজী ফার্ম, সিপি বাংলাদেশ লিমিডেট এরাই নির্ধারণ করে কত দাম, কাকে কতগুলো ডিম দেবে। দেখা যাচ্ছে, অনেক আড়তদার আছেন যাদের কেনার ক্ষমতা অনেক কিন্তু, তাকে দিচ্ছে না। সিপি বাংলাদেশ লিমিটেডের ম্যানেজারের সাথে কথা হয়েছে, তিনি জানিয়েছেন তারা ডিম বিক্রি করে না, তারা দামও নির্ধারণ করে না আপনি তাদের কথা বলছেন, তারা তো কাজী ফার্মের বাইরে কিছু করে না। সিপিকে আমরা বলেছিলাম কাজীকে আমরা অফ রাখবো। কাজীর ওখানে আমাদের মোবাইল কোর্টও গিয়েছিলো।

কাহালুর আফরিন কোল্ড স্টোরেজে যে ৫ লাখ ডিম মজুত ছিলো সেই ডিম ৭ দিনের মধ্যে বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো, সেগুলো বিক্রি হচ্ছে কীনা জানতে চাইলে মমতা হক বলেন, তাদের সাথে আমাদের নিয়মিত কথা হচ্ছে। তারা বিক্রি করছেন। তারা পারলে তো সেদিনই সব বিক্রি করে দেন। আমরা দুই দিন পর গিয়ে দেখবো তারা কতো পিস ডিম বিক্রি করেছেন।

মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়