ঢাকা     শুক্রবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১১ ১৪৩০

ভাষার মাসে শিক্ষার্থীদের ভাবনা 

মো. রকি বাবু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৫৫, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩  
ভাষার মাসে শিক্ষার্থীদের ভাবনা 

চলছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। বাংলার অকুতোভয় কিছু তরুণ ১৯৫২ সালের এ মাসে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করতে তাদের বুকের তাজা রক্ত উজাড় করে দিয়েছিলেন। দামাল ছেলেদের সেই আত্মত্যাগের ফলেই আজ আমরা স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারছি সুমধুর বাংলা ভাষা।

ফেব্রুয়ারি মাস আসলেই পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে আমরা ভাষা শহীদদের স্মরণ করে থাকি। এবারের ভাষার মাসে শহীদদের স্মরণে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন মো. রকি বাবু।

মো.রিয়াদুল ইসলাম 
তৃতীয় বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ

ভাষা শব্দটি আক্ষরিক বিবেচনায় ছোট একটি শব্দ হলেও এর তাৎপর্য অমূল্য। বাঙালির ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আরও ইতিহাস সমৃদ্ধ। মাতৃভাষার প্রতি কতটা আবেগ ও ভালোবাসা থাকলে নিজের শরীরের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে ছিনিয়ে আনতে পারে তার প্রমাণ বাংলার ভাষা শহীদরা। তাই ফেব্রুয়ারি এলেই সকলে মেতে ওঠে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে; উজ্জীবিত হয় প্রাণের চেতনায়। বায়ান্নের বাংলাকে টিকিয়ে রাখার লড়াইটি শুধু আত্মত্যাগের ঘটনা নয় এটি আমাদের বাকস্বাধীনতা লাভের দিন; এই দিনের ত্যাগের মাধ্যমেই আমরা লাভ করি মায়ের ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করার স্বাধীনতা। বাংলা শুধু একটি ভাষা নয়, এর সঙ্গে জড়িত আছে আবেগ, অনুভূতি, সংগ্রাম। তবে এই চেতনা শুধু ভাষার মাসেই ধারণ করলে চলবে না, মনে-প্রাণে লালন পালন করতে হবে। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে সচেষ্ট থাকতে হবে। বাঁচাতে হবে বাংলা ভাষাকে বিকৃত হওয়া থেকে। তাহলেই পরিতৃপ্ত হবে শহীদরা, ব্যর্থ হবে না তাদের আত্মত্যাগ, বাংলা ভাষা পাবে প্রাপ্য সম্মান।

আব্দুল্লাহ আল নোমান
চতুর্থ বর্ষ, শিক্ষা প্রশাসন বিভাগ

১৯৫২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে এক রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলা ভাষার অধিকার সংরক্ষিত হয়। ফেব্রুয়ারি মাস এলেই মনে পড়ে যায় ভাষা আন্দোলনে শহীদ হওয়া অকুতোভয় বীরদের কথা, যারা ভাষার জন্য নিজেদের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছেন। দুঃখের বিষয়, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পেরিয়ে এলেও মাতৃভাষাকে এখনও আমরা সঠিকভাবে চর্চা করতে পারি না। ইংরেজি আর বাংলার মিশ্রণে বাংলা ভাষার নিজস্ব সৌন্দর্য হারাতে চলছে। তাই সঠিকভাবে বাংলা শিক্ষণে এখনই সময় এসেছে ভাষাকে সঠিকভাবে চর্চা করার।

মো.ইমাম হোসাইন মিয়াজী
চতুর্থ বর্ষ, অনুজীববিজ্ঞান বিভাগ

ফেব্রুয়ারি বাঙালির ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল মাস। বায়ান্নের এ মাসেই বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা নিজের মায়ের ভাষাকে রক্ষা করার জন্য আন্দোলন করে বুকের তাজা রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করে। পৃথিবীতে অন্য কোনো ভাষার জন্য রক্ত দিতে হয়নি। একমাত্র বাঙালিরাই রক্ত দিয়ে নিজের মাতৃভাষাকে রক্ষা করতে পেরেছে।  যা পৃথিবীর বুকে অন্যতম ভাষা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে ইউনেস্কো বাংলা ভাষাকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা’ এবং ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ২১শে ফেব্রুয়ারিতে আমরা ভাষা শহীদদের অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে থাকি। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করি। ভাষা দিবস পালন করাটাই সব কিছু নয়। আমাদের উচিত ভাষার ব্যবহারের প্রতি যত্নশীল হওয়া। আমাদের ভাষা যেন হিংসাত্মক না হয়, আক্রমণাত্নক না হয়। আমাদের ভাষা যেন কাউকে কষ্ট না দেয়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মো.নিয়াজ উদ্দীন
দ্বিতীয় বর্ষ, কৃষি বিভাগ

ভাষার মাস! কথাটা শুনলেই যেন বুকটা গর্বে ভরে যায়। কারণ, এই ভাষায় জন্যে আমাদের দামাল ভাইয়েরা তাদের প্রাণ উৎসর্গ করে দিয়েছিল। তাদের প্রাণের বিনিময়ে আজ সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বাধীন ভাষা বাংলা ভাষা। কিন্তু এখনও আমাদের ভাষাকে আমরা যথাযথ সম্মানের সঙ্গে ব্যবহার করতে পারছি না। যে ভাষার জন্য এতো আত্মত্যাগ, এতো আন্দোলন, এতো দৌরাত্ম্য সে ভাষাকেই আমরা আজ অবহেলা করছি, বিকৃত করছি। দিনে দিনে আমরা ঝুঁকে পড়ছি বিদেশি ভাষার প্রতি। অথচ, একমাত্র বাংলা ভাষা ছাড়া বিশ্বের আর কোনো রাষ্ট্র তাদের মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দেয়নি। আমরা দিয়েছি, রক্ষা করেছি মাতৃভাষা। তাই আমাদের উচিত বাংলার শহীদদের সম্মানে, মাতৃভাষার সম্মানে সর্বাবস্থায় বাংলা ভাষা ব্যবহার করা। তাহলেই আবার বিশ্বের বুকে বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ ভাষা হিসেবে দাঁড় করাতে পারব।

/ফিরোজ/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়