ঢাকা     মঙ্গলবার   ২১ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪৩১

একযুগ পার করলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নানান প্রত্যাশা তাদের!

জয়নাল আবেদীন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২১, ১৫ মার্চ ২০২৩   আপডেট: ২২:২৮, ১৫ মার্চ ২০২৩
একযুগ পার করলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নানান প্রত্যাশা তাদের!

লুৎফুন নেছা স্মৃতি, আয়শা সিদ্দিকা উর্মি, মো. মিরান হোসেন, অনামিকা আক্তার (ঘড়ির কাটার দিকে)

একযুগ পার করলো দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। একযুগ পার হলেও আছে নানান সংকট। ১২ বছরেও কাটিয়ে উঠতে পারেনি সেই সংকটগুলো। সেশনজট থেকে শুরু করে আবাসিক সংকট, পরিবহন সংকট, শ্রেণিকক্ষ সংকট রয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে।

১২ বছরের এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আরো কিছু প্রয়োজন অনুভব করছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিজ ক্যাম্পাসের প্রতি প্রত্যাশা থাকা। সেই জায়গা থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তির চেয়ে প্রত্যাশা অনেক বেশি। সংকট কাটানো ও প্রত্যাশার ঝুলি নিয়ে শিক্ষার্থীদের কথা তুলে ধরেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন

‘সেশনজট নিরসনে ইউনিভার্সিটি রুল চালু করা হোক’
২০১১ সালে সদ্য প্রতিষ্ঠিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৩ সালে এসে এক যুগের মহিরুহ। দক্ষিণ বাংলার সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠ আমার মতো হাজারো শিক্ষার্থীর আবেগ-জড়ানো দুচোখের স্বপ্ন। এক এক ঋতুতে প্রাকৃতিকভাবে এক এক রূপে আপন মনে সেজে ওঠে এ বিশ্ববিদ্যালয়। নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর অর্জনের কমতি নেই। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা গুগল, বিসিএস, দুর্নীতি দমন কমিশন, এনএসআইসহ দেশ এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব অর্জন আমাদের গর্বিত করে, আবার অন্যদিকে প্রত্যাশার জায়গাও রয়েছে যেগুলো আমাদের হতাশ করে। এক যুগ অতিবাহিত করেও শ্রেণিকক্ষ আর আবাসন সংকটে ভুগছে শিক্ষার্থীরা। পিছিয়ে আছে নানাবিধ গবেষণার দিক থেকে। কয়েকটি ডিপার্টমেন্টে সেশনজট কিছুটা নিরসন হলেও, সেশনজটের কবলে আছে বাকি ডিপার্টমেন্টগুলো। 

আমাদের প্রত্যাশা সেশনজট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের জন্য ‘ইউনিভার্সিটি রুল’ চালু করা হোক। যাতে করে সব ডিপার্টমেন্টে একসঙ্গে ক্লাস শুরু, একসঙ্গে পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং পরীক্ষার এক মাসের মধ্যে রেজাল্ট প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের নিয়ে উন্মুক্ত সেমিনারের আয়োজন করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারবে। সর্বোপরি, বিশ্ববিদ্যালয় হোক আমাদের মানসিক প্রশান্তি এবং সৃজনশীলতা বিকাশের জায়গা। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
- লুৎফুন নেছা স্মৃতি, শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ।

‘প্রাপ্তির তুলনায় অপ্রাপ্তিটাই যেন বেশি’
দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। নানা প্রতিবন্ধকতার পথ পেরিয়ে এ বছর ১৩তম বর্ষে পদার্পণ করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনের কাছ থেকে প্রাপ্তির তুলনায় অপ্রাপ্তিটাই যেন বেশি শিক্ষার্থীদের মাঝে। অপর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আবাসিক ভবনের সংকট, হলগুলোতে নিম্নমানের খাবার, সেশনজট, পরিবহন সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২৫টি বিভাগ রয়েছে। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে পাঠদানের জন্য নেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ। পাশাপাশি অনেক বিভাগে রয়েছে শিক্ষক সংকট। যার ফলে পাঠদান কার্যক্রম যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো জড়িয়ে পড়ছে সেশনজটের অশুভ চক্রে। আবাসিক হল সংকটের কথা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায়ই শোনা যায়। প্রতিবছর যে হারে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে, সেই হারে বাড়ছে না আবাসিক ভবনের সংখ্যা। ফলে দূর থেকে আগত কিংবা গরীব শিক্ষার্থীরা হলের সুবিধা থেকে ক্রমাগত বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়াও হলগুলোতে নিম্নমানের খাবার নিয়ে রয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম হতাশা। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের যাতায়াতের জন্য নেই পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা। তাই ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়েই চলতে হয় বাসগুলোকে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহনে যেসব বাস যুক্ত রয়েছে, তার বেশিরভাগই লক্কর-ঝক্কর। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার খবর শোনা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব সমস্যা রয়েছে, আশা করি, সেগুলো সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুতই পদক্ষেপ নিবে। সব সমস্যা কাটিয়ে একঝাঁক মেধাবী শিক্ষার্থীদের শেষ গন্তব্যস্থল হোক বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-এটাই কামনা করি।
- আয়শা সিদ্দিকা উর্মি, শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ।

‘আবাসিক হল নির্মাণ জরুরি’
বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানের ভান্ডার। যেখানে পড়া প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন থাকে। ঠিক তেমনি একটি বিশ্ববিদ্যালয় হলো, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। যা দীর্ঘ ১২ বছর অতিক্রম করে ১৩ বছরে পদার্পণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি থাকার জন্য পরিবেশ সুন্দর হয়, তাহলে প্রতিটি শিক্ষার্থী ভালোভাবে লেখাপড়া করে দেশের জন্য কিছু করতে পারে। আমাদের মতো প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা থাকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকার। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি ছাত্রী হল এবং দুটি ছাত্র হল আছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর তুলনায় খুবই কম। আবার প্রতিটি রুমে থাকতে হয় ৮ জন করে, যেখানে ৪ জন করে থাকার কথা। অনেক ছাত্র-ছাত্রী আছে যাদের বাইরে থাকার মতো আর্থিক সামর্থ নেই, তারপরও তারা বাধ্য হয়ে বাইরে থাকে। তাই আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো আবাসিক হল দরকার। যেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা থেকে তাদের পড়াশোনা ভালোভাবে চালাতে পারবে। আবাসিক হল সংকট যদি দূর না হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের সমস্যার সীমা থাকবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে অনেক আবাসিক এলাকা রয়েছে, কিন্তু সেখানে তুলনামূলকভাবে ঘর ভাড়া অনেক বেশি। এছাড়াও আরো অনেক সমস্যা রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মোকাবেলা করতে হয়। তাই, আবাসিক সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজর দেওয়া দরকার বলে মনে করছি।
- মো. মিরান হোসেন, শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। 

‘সেশনজট নিরসন বর্তমান সময়ের দাবি’
প্রত্যেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর হওয়ায় পছন্দের তালিকায় থাকে অনেক শিক্ষার্থীর। ৫০ একরে বিস্তৃত এই ক্যাম্পাসটি গত ২২ ফেব্রুয়ারি এক যুগ পার করে। বছরের পর বছর যাচ্ছে, কিন্তু ক্যাম্পাসের কোনো উন্নতি হচ্ছে না। ২৫টি বিভাগ চালু হলেও, নেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ। মনে হয়, ক্লাস করা যেন যুদ্ধ করার মতো। কারণ, বিভাগের ক্লাসরুম সংকটে রুমে শিডিউলে মেলেনা। দেখা যায়, পাঠদানের নির্দিষ্ট সময় চলে যায়, তাও পাঠদান চলছে অন্য ব্যাচের। তখন অপেক্ষা করতে হয়। এগুলো হওয়ার কারণ হচ্ছে, পর্যাপ্ত ক্লাসরুম না থাকা। সম্প্রতি নতুন বিভাগগুলোরই ব্যাচ বেড়েছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। শিডিউল মেনে ক্লাস নিতে পারেননা শিক্ষকরা। এভাবে চলছে প্রতিনিয়ত। তাতে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি সময় অপচয় হচ্ছে।এজন্য দরকার নতুন একাডেমিক ভবন। এছাড়া অনেক বিভাগের নিত্যদিনের সমস্যার মধ্যে সঙ্গী হয়ে আছে সেশনজট।এই জটে অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশার কথা শেয়ার করেন। যেখানে অনার্স শেষ করতে সময় লাগে ৪ বছর, সেখানে ৭ বছরেও পারছে না তা শেষ করতে। তাই, নির্দিষ্ট সময়ে অনার্স শেষ করা এখন সময়ের দাবি। বর্তমান সময়ে নানা কর্মক্ষেত্র ও অর্জনের দিকে ব্যাপক আলোচিত বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। তাই, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার আগ্রহ বাড়ছে। কিন্তু ভর্তি হওয়ার পরে যে সংকটগুলো প্রত্যক্ষভাবে সম্মুখীন হচ্ছে, তা নিরসন করা অত্যাবশ্যক। বিশেষ করে, সেশনজট নিরসন বর্তমান সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
- অনামিকা আক্তার, শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ।

/ফিরোজ/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়