ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৮ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ৫ ১৪৩১

ঢাবির হল থেকে অপহৃত দুই ব্যক্তি উদ্ধার 

ঢাবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৩৪, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  
ঢাবির হল থেকে অপহৃত দুই ব্যক্তি উদ্ধার 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল থেকে তিনদিন ধরে অপহৃত থাকা দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৯টার দিকে শাহবাগ থানা পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম হলের ৫৪৪ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের উদ্ধার করে। অপহৃতরা হলেন আব্দুল জলিল ও হেফাজ উদ্দিন।

জানা যায়, ব্যবসার জন্য শাহাবুদ্দিনের থেকে টাকা ধার নেন আব্দুল জলিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত না দিয়ে গড়িমশি করেন তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহাবুদ্দিন বেশ কয়েকজনকে নিয়ে হাতিরঝিলের হাজিপাড়া বাসা থেকে তাকে অপহরণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা হেফাজকেও তুলে আনা হয়।

তাদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে ও পরে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ৫৪৪ নম্বর কক্ষে আটকে রাখা হয়। গত বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) থেকে সেখানে তারা আটকা ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়, এ ঘটনায় শাহাবুদ্দিনসহ ঢাবির তিন শিক্ষার্থী জড়িত ছিলেন। শিক্ষার্থীরা হলেন- ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার প্রাক্তন উপ-দপ্তর সম্পাদক ও ফিন্যান্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবুল হাসান সাইদি, ছাত্রলীগের মুহসীন হল শাখার প্রচার উপ-সম্পাদক মোনতাছির হোসাইন এবং একই হলের ত্রাণ ও দুর্যোগ উপ-সম্পাদক আল শাহরিয়ার মাহমুদ তানসেন। 

ভুক্তভোগী জলিল বলেন, ‘শাহাবুদ্দিন আমার কাছে ৩৫ লাখ টাকা পান। কিন্তু মাঝখানে তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১০-১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আমাকে বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে বাসা থেকে তুলে আনেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়েছে। গত তিনদিন ধরে আমাকে হলে আটকে রাখা হয়েছে।’

অভিযুক্তদের বিষয়ে হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হুসেন বলেন, ‘তারা যে এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমরা জানতাম না। যখন কমিটিতে পদ পেয়েছে, তখন তারা এ ধরনের কোনো কাজে জড়িত ছিল না। এখন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করে। অপরাধ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরাও ছাত্রলীগ থেকে ব্যবস্থা নেব। তাদের দায় ছাত্রলীগ নেবে না।

সার্বিক বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মাকসুদুর রহমান বলেন, আমরা প্রথমে পুলিশের কাছ থেকে জেনেছি যে  মুহসীন হলে চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় আমাদের কয়েকজন ছাত্রের সহযোগিতায় একজনকে তুলে আনা হয়েছে। টাকা আদায়ের উদ্দেশে তাকে মারধরও করা হয়েছে। ভুক্তভোগী, আমাদের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশের বিবৃতি থেকে ঘটনার খুঁটিনাটি  জানতে পেরেছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আইন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে । বিশ্ববিদ্যালয় এ ধরনের অপরাধমূলক কাজে অবশ্যই ছাড়হীন উপায়ে পদক্ষেপ নিবে । ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাতিরঝিল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা আগে থেকেই একটি জিডি করে রেখেছিলেন। সেটার ভিত্তিতে এখন মামলা হবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বিধি রয়েছে, তা প্রয়োগ করে হল প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

হাতিরঝিল থানার তদন্ত অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর আসাদ রাইজিংবিডিকে বলেন, ভুক্তভোগী আব্দুল জলিল গত বছর জুনের ১২ তারিখে চিনির ব্যবসা মারফত অভিযুক্ত আসামি শাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা ধার নেন।মূলত সেই টাকা দিতে দেরি হওয়ায় শাহাবুদ্দিন ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন হুমকি  দেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি আব্দুল জলিল নিখোঁজ হলে তার স্ত্রী হাতিরঝিল থানায় একটা জিডি করেন এবং পরে মামলা করেন।

অভিযুক্ত আসামীদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত অফিসার বলেন, এখনো বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রমাণ হাতে পাওয়া মাত্রই জানাবো।

/হারুন/হাসান/মেহেদী/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়