ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৮ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ৫ ১৪৩১

‘স্নাতক পাস করার চেয়ে সনদ উত্তোলন বেশি কষ্টকর’

ইবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:০৮, ৩ মার্চ ২০২৪  
‘স্নাতক পাস করার চেয়ে সনদ উত্তোলন বেশি কষ্টকর’

‘চার বছরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করতে যা কষ্ট হয়েছে, তার চেয়ে সনদ উত্তোলন বেশি কষ্টকর মনে হয়েছে। সেখানে দায়িত্বরত কর্মচারীদের ব্যবহার এতো বাজে। মাঝে মাঝে ধমক দেয়, কিছু বলার থাকে না।’

সনদ উত্তোলনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এমনটাই বলছিলেন হারুন অর রশিদ। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক শেষ করেছেন। স্নাতকের সনদ উত্তোলন করতে গেলে তিনি এ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি ফি তিনগুণ বাড়িয়েছিল। কিন্তু পরে ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ একত্রে এই বর্ধিত ফি কমাতে আন্দোলন করি। এ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন উপাচার্য ২০% ফি কমানোর আশ্বাস দেন। পরবর্তী প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে বাড়তি টাকা সমন্বয় করা হবে বলে জানায়। কিন্তু স্নাতক শেষে সনদ উত্তোলন করতে গেলে শুনি আমার ১৬০০ টাকা ফি বকেয়া রয়েছে। এই ফি পরিশোধ না করা পর্যন্ত সনদ উত্তোলন করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তারা। ফলে ১৬০০ টাকা অতিরিক্ত দিয়ে সনদ উত্তোলন করতে হয়েছে আমাকে।

তিনি আরও বলেন, সনদ উত্তোলন করতে একবার ফর্ম জমা দিয়ে এসে আবার ১৫ দিন পর যেতে হয়। তারপরও কাজ শেষ হয় না। নিজেকেই সবকিছু খুঁজে বের করতে হয়। পড়াশোনা শেষ করে ব্যস্ততম কর্মজীবনে পদার্পণ করেছি। এখন যদি সনদ উত্তোলনের জন্য ১৫ দিন ধরে দৌঁড়াদৌঁড়ি করা লাগে, তাহলে এর থেকে কষ্টের আর কি থাকে। এছাড়াও রয়েছে নানা দুর্ভোগ।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সনদ উত্তোলন একটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এটা হাতে লিখতে হয়। চাইলেও একদিনে এটা দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে অটোমেশন হয়ে গেলে দিনের দিন দেওয়া সম্ভব হবে। এরপরও জরুরি ফি প্রদানের মাধ্যমে আবেদন করলে পাঁচদিনের মধ্যে আমরা দেওয়ার চেষ্টা করি। আর স্বাভাবিকভাবে এটি ১৫ দিন সময় লাগে।’

কর্মচারীদের বাজে আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি কোন কর্মচারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে, তাহলে ওই কর্মচারীকে চিহ্নিত করে লিখিত দিতে হবে। অভিযোগ পেল আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিব।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘ফি সমন্বয়ের বিষয়টা যদি লিখিত কোন প্রজ্ঞাপন থাকে, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এক বর্ষের জমাকৃত টাকা অন্য বর্ষে সমন্বয় করা কঠিন। কারণ ফি’র টাকা ওই সময়ই সরকারের কাছে চলে যায়।’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ফি কমানোর দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ২০ শতাংশ ফি কমানোর আশ্বাস দেন তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যেসব শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে ফি দিয়েছে পরবর্তীতে তাদের ফি সমন্বয় করা হবে বলেও জানানো হয়। সে হিসেবেই শিক্ষার্থীরা ফি জমা দেন। তবুও স্নাতক (সম্মান) শেষে কাগজপত্র উত্তোলনের সময় অ্যাকাডেমিক শাখা তাদের ফি বকেয়া রয়েছে উল্রেখ করে পরিশোধ না করা পর্যন্ত কাগজপত্র দেওয়া হবে না বলে জানান।

/ইদুল/মেহেদী/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়