ঢাকা     শুক্রবার   ৩১ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪৩১

রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা

এস আলী দুর্জয় || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১৫, ৮ এপ্রিল ২০২৪  
রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা

রমজানে একমাস সিয়াম সাধনার পরে প্রতিটি মুসলমানের জীবনে আনন্দের বার্তা নিয়ে আগমন হয় পবিত্র ইদুল ফিতরের। মুসলিমদের শ্রেষ্ঠ আনন্দ আয়োজন এ ঈদ উৎসব। ঈদ মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব হলেও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ এই উৎসবে শামিল হয়। সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে যে যার সাধ্যমতো খুশিতে মেতে ওঠে। আর এই ঈদ নিয়ে সবার রয়েছে শৈশবের ঈদ আনন্দ ও স্মৃতি। রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীরা সে ভাবনা তুলে ধরেছেন।

ঈদ বয়ে নিয়ে আসে অফুরান্ত আনন্দ

মুসলিমদের জীবনে আনন্দ উৎসব দুটি ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল- আযহা। দীর্ঘ এক মাস রমজান উপভোগ করার পর আসে ঈদ-উল-ফিতর। যা নিয়ে আসে ক্লান্ত অবিশ্রান্ত অপেক্ষার ফলাফল স্বরূপ সুন্দর একটি পরিপূর্ণ দিন। যদি অতীতে থেকে ভেবে দেখি সেই ছেলেবেলা আজ পর্যন্ত ঠিক একইভাবে প্রতিটা বছর আমরা সবাই এই দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকি। কবে আসবে রমজান মাস, আর কবেই বা আসবে সেই দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা ঈদের দিন। যখন ছেলেবেলার দিনগুলো মনে পড়ে তখন ইচ্ছে করে অতীতে ফিরে দিনগুলোর আনন্দ আবারও উপভোগ করি। সবাই মিলে তাল মিলিয়ে রমজান পালন, নতুন পোশাক কেনাকাটা,গাছ থেকে মেহেদী পাতা তুলে এক সাথে বসে মেহেদী বেটে ইচ্ছে মতো হাতে নকশাঁ দিয়ে হাত রাঙানো, মাঠে গিয়ে সকলে মিলে এক সাথে চাঁদ দেখা,ঈদের দিন নতুন পোশাক পরিধান করে সাজগোজ করে সবাই মিলে ঘুরাঘুরি করা, বড়দের থেকে সালামি পাওয়া এক অফুরান্ত আনন্দ। প্রতিটা মানুষের জীবনে সেই ছেলেবেলার আনন্দ আসে আবার সময়ের পালাবদলে চলেও যাই। যদিও এখন সেই ছোটবেলার ঈদের দিনগুলোর মতো আনন্দ হয় না। তবুও এখন যেমন আনন্দ উপভোগ করি, তা ছোটবেলার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। ঈদ যেভাবেই আসুক ঈদ সবার জন্য অফুরান্ত আনন্দই বয়ে নিয়ে আসে।
(লেখক: জুবাইদা আক্তার লাকী, শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ)

শৈশবের সঞ্চিত ঈদ স্মৃতি

ঈদুল ফিতর ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দুটি সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের একটি। মুসলমানদের কাছে ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য অনেক বেশি। দীর্ঘ এক মাস রোজা বা সিয়াম সাধনার পর ঈদ সবার মাঝে নিয়ে আসে আনন্দময় পরিবেশ। ছোটবেলা থেকেই রোজা রাখার চেষ্টা করতাম, মাঝেমধ্যে কষ্ট হতো কিন্তু এই কষ্টের মাঝেও ভালো লাগতো এবং মনে অন্যরকম এক শান্তি অনুভব হতো।

ঈদের সবচেয়ে লালিত দিক হল, এটি নিয়ে আসে একতার অনুভূতি। এটি এমন একটি সময় যখন পরিবারগুলো তাদের ব্যস্ত জীবনকে একপাশে সরিয়ে দেয় এবং বন্ধনকে শক্তিশালী করতে, স্মৃতি তৈরি করতে এবং একে অপরের প্রতি তাদের ভালবাসাকে পুনরায় নিশ্চিত করতে একত্রিত হয়। তা ভাগ করে নেওয়া খাবার, আন্তরিক কথোপকথন বা আনন্দময় হাসির মাধ্যমেই হোক না কেন, ঈদ হল পরিবার এবং সম্প্রদায়ের গুরুত্বের একটি অনুস্মারক।

অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তায় ভরা বিশ্বে ঈদ আশার আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে। বিশ্বাস, ভালবাসা এবং ঐক্যের শক্তির কথা মনে করিয়ে দেয়। আমরা যখন অন্য একটি ঈদকে বিদায় জানাই, তখন আমরা সামনের বছরগুলোতে যে স্মৃতিগুলি তৈরি করব, তার জন্য অপেক্ষা করছি।
(লেখক: ইউসুফ আলী, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ)

ঈদ আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সবার ঘরে

মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ঈদুল ফিতর। প্রতিবছর এ সময়টা সবার ঘরে নিয়ে আসে আনন্দের জোয়ার। এ ঈদকে ঘিরে নানা বয়সের নানা মানুষের থাকে হাজারো জল্পনা-কল্পনা। ঈদ শুধু একটি শব্দ নয়, এটি প্রত্যেক মুসলমানের স্মৃতি বিজড়িত ও আবেগঘন একটি উৎসব। জীবনের একেক ধাপে ঈদ আনন্দ হয়ে থাকে একেক রকম।

তবে যে বয়সেই হোক না কেন পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের ঘিরেই বিরাজ করে ঈদ আনন্দ। সবার সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া, একে অপরের বাড়িতে যাওয়া, নানা ধরনের খাবার খাওয়া, আড্ডা দেওয়া, পরিবারের বড় সদস্যরা ছোটদেরকে ভালোবেসে সালামি দেওয়া- এসব কিছুতেই এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। আর এই ছোট ছোট ভালো লাগাগুলোর মাধ্যমে উপভোগ করা হয় ঈদের আনন্দ।

ঈদের আনন্দ শুধু ব্যক্তি বা পরিবার কেন্দ্রীক নয়, সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করার মাধ্যমে প্রকৃত আনন্দ বা সুখ পাওয়া যায়। তাই আমাদের উচিত, চারপাশের নিম্নবিত্ত বা সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সঙ্গে নিয়ে দিনটি উদযাপন করা।
(লেখক: ফারজানা ইসলাম, শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ)

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ

এক মাস সিয়াম সাধনা ও আত্মত্যাগের পরে আমাদের কাছে ধরা দেয় ঈদুল ফিতর। ঈদ মানেই আমার কাছে ত্যাগ ও সাধনার ফলস্বরূপ, সীমাহীন আনন্দও উৎসবের মাহেন্দ্রক্ষণ।

আনন্দ শুধু ঈদের দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, রোজা শুরুর আগে থেকেই উদ্দীপনা ও কৌতুহল আমার আপাদমস্তক বিরাজ করে। কবে কলেজ ছুটি হবে? কবে রোজা শেষ হবে? কবে মামা লাচ্চা সেমাই, ইয়া বড় মোরগ নিয়ে আমাদের বাসায় আসবে? কবে নানা-বাড়ি যাবো? নানা বাড়ি ঈদের দিন যাব না ঈদ পরদিন যাব? এসব নানান আজগুবি কৌতুহল মনের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। সাত কি.মি দূরে নানা বাড়ি। নানা বাড়ি যেতে হতো কিছুটা পথ পায়ে হেটে আর বাকি পথ ভ্যানে। আমার জন্মের বহু বছর পূর্বেই নানা-নানি আল্লার ডাকে সাড়া দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগের সৌভাগ্য হয়নি।
(লেখক: রাইসুল ইসলাম আসাদ, শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ)

ছোটবেলার ঈদকেই বেশি ভালোবাসি

ছোটবেলার সবকিছু ছিল আজকের এ সময়ের তুলনায় অন্যরকম মজার। বিশেষ করে ঈদ মানে তো অন্যরকম এক আনন্দ। এখনো যদি কেও জিজ্ঞেস করে বলবো ছোটবেলার ঈদকেই বেশি ভালোবাসি। যদি বলে কি চাও? আবেগে আপ্লূত হয়ে হয়তো বলবো ছোটবেলার সেই ঈদ টাকে চাই। ছোটবেলার ঈদ আনন্দটা ছিলো আসলে অন্যরকম। তখন ঈদ বলতে নতুন জামা,ঈদের সালামি,হাতে মেহেদী আর বেড়াতে যাওয়াকেই বুঝতাম। নতুন জামার বায়না ধরাটা যেন ঈদের একটা অংশ ছিল।ছোটবেলার ঈদের আনন্দ মূলত চাঁদ রাত থেকেই বেশি। আরও একটা মজার বিষয় ছিল, সেটা হলো বাজি ফাটানো।

ঈদের দিন সেই ভোরবেলা উঠতাম, আম্মার পিঠা বানানো দেখতাম। সবার বাসায় যেতাম, সবার বাসায় কেমন যেন খাবারের গন্ধে মৌ মৌ করে। সবচেয়ে বেশি মজার ছিলো ঈদের সালামি। কে কতো টাকা দিলো সেটা বড় বিষয় না, ঈদ সালামি পেয়েছি এতেই যেন আনন্দের বাধ মানা যেত না।
(লেখক: রাবেয়া খাতুন, শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ)

এখন মোবাইলে সেলফি তুলে আনন্দ করি

ছোটবেলায় ঈদ আনন্দ ছিল সীমাহীন। মা-বাবার সঙ্গে কেনাকাটা করার মজা ছিল আলাদা। ২৯ রমজান ছিল যেন চাঁদ ছোয়ার আবেগি মুহূর্ত। তার সঙ্গে ছিল চাঁদ উঠবে কিনা তা নিয়ে সংশয়। চাঁদ রাতে আতশবাজি করতাম বন্ধুরা মিলে। নতুন পোশাকের কথা ভেবে রাতে বিছানায় গেলে চোখের পলক পড়তো না। এখন আনন্দ পাই ছোটদের সালামি দিয়ে তাদের আনন্দ বাড়িয়ে দিতে। এখন ঈদে আমরা বন্ধুরা মিলে ঘুরতে যায় এবং মোবাইলে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড দিয়ে একে অন্যের আনন্দের মুহূর্ত ভাগাভাগি করি।
(লেখক: মুক্তাদির মাহমুদ, শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ)

/মেহেদী/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়