ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২০ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৬ ১৪৩১

বিচ্ছেদে নষ্ট হয় সন্তানের ভবিষ্যৎ

রুনা লায়লা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:২৩, ১৮ মে ২০২৪  
বিচ্ছেদে নষ্ট হয় সন্তানের ভবিষ্যৎ

দেশে বিবাহ ও বিচ্ছেদের হার দু’টোই বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি বিচ্ছেদ বৃদ্ধি পেয়েছে মুসলিমদের মধ্যে। তবে অন্যান্য ধর্মে‌ও কম নয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের নিয়ম না থাকলেও বর্তমানে সেখানেও প্রতিনিয়ত ঘটছে।

একটি জরিপে দেখা যায়, মুসলিমদের বিবাহ বিচ্ছেদের হার ২৬ শতাংশ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের হার ১৮ শতাংশের একটু বেশি। মুসলিমদের বিবাহ ও তালাকের ক্ষেত্রে যে নিয়মনীতি রয়েছে, তা পালন করে না আধুনিক সমাজ। একটু সমস্যা থেকেই তৈরি হয় আলাদা হওয়ার মন মানসিকতা। সেক্ষেত্রে সন্তানের কথাও ভাবা হয় না। শুধু বিবাহ বিচ্ছেদ ও পারিবারিক সমস্যার কারণে অনেক শিশুর কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন ভেঙ্গে যাচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে তাদের বেঁচে থাকার অপরিহার্য অবলম্বন।

একজন শিশুর বেড়ে ওঠার পেছনে বাবা-মা দুজনকেই প্রয়োজন হয়। অথচ পৃথিবীতে দুজনই বেঁচে থাকা সত্ত্বেও শিশুরা ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এমনকি অনেক শিশু অনাহারে, অর্ধাহারে ও নির্যাতনের শিকার হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এর মূল কারণ বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ। বাবা-মা’কে কাছে না পেয়ে শিশুরা হয়ে যাচ্ছে লক্ষ্যচ্যুত।

বিবাহ বিচ্ছেদ বৃদ্ধির কারণ
বিচ্ছেদের অন্যতম মূল কারণ হলো বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক। আজকাল বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিবাহ বিচ্ছেদের আরও অনেক কারণ রয়েছে। যেমন- যৌতুক প্রথা, বিবাহ সম্পর্ক পালনে অক্ষমতা, ভরণপোষণে অসামর্থ্য বা অসমর্থন, পারিবারিক চাপ ইত্যাদি।

একটি জরিপে দেখা গেছে, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারণে সবচেয়ে বেশি বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে ঢাকা বিভাগে এবং সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে। দাম্পত্য জীবন পালনে অক্ষমতায় সবচেয়ে বেশি বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে বরিশাল বিভাগে এবং সবচেয়ে কম সিলেটে। ভরণপোষণে অসামর্থ্যের কারণে সবচেয়ে বেশি বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে রাজশাহীতে এবং সবচেয়ে কম চট্টগ্রাম বিভাগে।

বিচ্ছেদের হার কমাতে করণীয়
বিশ্বে বিবাহ বিচ্ছেদের হার কমানো খুবই জরুরি। কেননা বিবাহ বিচ্ছেদের ফলে মানুষ বিভিন্ন অপরাধমূলক ও অনৈতিক সম্পর্কে‌ লিপ্ত হচ্ছে। বিচ্ছেদের হার কমাতে হলে সর্বপ্রথম বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক বাদ দিতে হবে। কোনো ধর্মেই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক সমর্থন করে না। তাছাড়া নারী-পুরুষ উভয়কে দাম্পত্য জীবনে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে।

বর্তমানে নারীরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে সন্তানের ভালো পথ নির্দেশক হন না। তারা নিজের দায়িত্ব নিজেই নিতে সক্ষম হওয়ায় সংসারে মানিয়ে নেওয়ার কথা কল্পনাও করেন না। নিজের দায়িত্ব নিজেই বহন করতে সক্ষম হওয়ায় একটু কিছু হলেই বিচ্ছেদের কথা চিন্তা করেন। অন্যদিকে পুরুষেরাও সংসারে শান্তি বজায় রাখতে পারেন না। একটু কিছু হলেই ভাবেন, চলে গেলে অন্য একজন আসবে। কিন্তু এতে একা হয়ে যায় ছেলেমেয়েরা। তারা না পায় বাবাকে, না পায় মাকে। ফলে হতাশা আর বিষন্নতায় কাটে তাদের জীবন।

বিবাহ বিচ্ছেদের আরেকটি কারণ পারিবারিক চাপ। অনেক সময় দেখা যায়, প্রেম ঘটিত বিবাহ পরিবার মেনে নেয় না। অনেক সময় বাড়িতে থাকতে দিলেও শ্বশুর-শাশুড়ির পক্ষ থেকে মেয়েদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।

কখনও কখনও দেখা যায়, স্বামীর আয় রোজগারে সন্তুষ্ট হন না মেয়ের বাবা-মা। সংসারে কাজ করতে মেয়ের সমস্যা না হলেও অতিরিক্ত ভালোবাসা দেখিয়ে সমস্যা তৈরি করে তার বাবা-মা। এই অতিরিক্ত ভালোবাসা দেখিয়ে মেয়েকে বেশিরভাগ সময় বিচ্ছেদ করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বা বিচ্ছেদ করিয়ে নেন। এসব অহরহ ঘটছে।

একটি বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে নারী-পুরুষ উভয়কে চেষ্টা করতে হবে। দাম্পত্য জীবনে মানিয়ে চলা ও গুছিয়ে চলা শিখতে হবে। রাগ মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। তাই রাগ থেকে দূরে থাকতে হবে। একটি বৈবাহিক সম্পর্ক টিকে গেলে বেঁচে যায় শিশুরা। হতাশা আর অবহেলায় কাটাতে হয় না তাদের।

বিবাহ বিচ্ছেদের ফলে বেড়ে যাচ্ছে আত্মহত্যার প্রকোপও। বিচ্ছেদের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই এ পথ বেছে নেন। সমাজকে আত্মহত্যার প্রকোপ থেকে বাঁচাতে বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা খুবই জরুরি।

লেখক: শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

/মেহেদী/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়