ঢাকা     শনিবার   ১৫ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ১ ১৪৩১

সোহরাওয়ার্দী কলেজ

ভর্তি ফি’র পূর্ণাঙ্গ বিবরণ চান শিক্ষার্থীরা, দিতে নারাজ অধ্যক্ষ

সোহরাওয়ার্দী কলেজ সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:০৩, ১৯ মে ২০২৪   আপডেট: ১২:২৫, ২০ মে ২০২৪
ভর্তি ফি’র পূর্ণাঙ্গ বিবরণ চান শিক্ষার্থীরা, দিতে নারাজ অধ্যক্ষ

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। গত ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত হয়। এরপর থেকে ঢাবির নিয়মেই কলেজটিতে সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে কলেজ প্রশাসন কোনো খাত উল্লেখ না করেই ফি বাবদ সরাসরি টাকার অংক বসিয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

কলেজ থেকে দেওয়া সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে দেখা গেছে,  শিক্ষার্থীদের এমএ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ৪ হাজার ২৪০ টাকা এবং এমএসসি'তে ভর্তির জন্য ৪ হাজার ৪৯০ টাকা অনলাইনে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এভাবে খাত উল্লেখ না করে টাকা নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। অন্যান্য কলেজ যদি খাতের কথা উল্লেখ করতে পারে, তাহলে আমাদের কলেজ প্রশাসনের সমস্যা কোথায়? এখানে দুর্নীতিও হতে পারে। তাছাড়া আমাদের জানার অধিকার রয়েছে, কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে। 

এ বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী তৌফিকুল হাসান শুভ বলেন, আমি আমার অর্থ ভর্তির নামে কোন কোন খাতে দিচ্ছি, সেটা জানার অধিকার আমার আছে। সেক্ষেত্রে আমি অবশ্যই চাইবো, কলেজেও পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করা হোক। অন্যান্য কলেজ পারলে, আমাদের কলেজ প্রশাসন কেনো পারবে না? আর পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ না করাকে আমি নিন্দনীয় কাজ বলবো। কারণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ সূচি না থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কখনই জানতে পারবেন না তাদের টাকা কি কি খাতে যাচ্ছে। আর এটা তো একজন শিক্ষার্থীর গণতান্ত্রিক অধিকার।

বৃষ্টি নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, যেখানে অন্যান্য কলেজ থেকে আমাদের কলেজ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত, সেখানে এতো টাকা ফি কোন খাতের জন্য নিচ্ছে, সেটা জানার অধিকার আমাদের রয়েছে। টাকা নেওয়ার সয়ম অন্যান্য কলেজকে অনুসরণ করতে পারে, কিন্তু সেবার বেলায় কেনো পারে না?

এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহসীন কবির বলেন, খাত উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক না। তবে কোনো শিক্ষার্থী চাইলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবে, আমি দেখিয়ে দিব।

অন্যান্য কলেজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কলেজে কি অন্যান্য কলেজ থেকে টাকার অংক কম আছে নাকি বেশি আছে? বরং কমই আছে। তাছাড়া আমাদের যে বিবরণ আছে, সেখানে এক পৃষ্ঠায় জায়াগা হয় না। ফলে খাত উল্লেখ করে নোটিশ দেওয়া হয় না।

এটা অনলাইনে দেওয়া যায় কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটার দরকার পড়ে না। কারণ আমাদের অধিভুক্ত সাত কলেজে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে কোনো ফি নেওয়া হয় না। তাছাড়া অন্যান্য কলেজ থেকে আমাদের কলেজে ফি সবচেয়ে কম।

/ইয়াছিন/মেহেদী/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়