ঢাকা     সোমবার   ১৭ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৩ ১৪৩১

১৯ এ পা দিলো লালমাটির সবুজ ক্যাম্পাস

কুবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:০৬, ২৮ মে ২০২৪  
১৯ এ পা দিলো লালমাটির সবুজ ক্যাম্পাস

পাহাড়, অরণ্য ও লালমাটির সবুজ ক্যাম্পাস খ্যাত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন আজ। ২০০৬ সালের ২৮ মে শালবন বিহারের কোল ঘেঁষে দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। আজ মঙ্গলবার ১৯ এ পা রাখল কুবি।

এই দীর্ঘ সময়ে নানা অর্জন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, জ্ঞান-বিজ্ঞানে অবদানের মাধ্যমে গৌরবোজ্জ্বলভাবে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে এ বিদ্যাপীঠ। কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। এটি ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহার সংলগ্ন এবং চৌধুরীখল্লায় ২৪৫ একর জায়গা জুড়ে নির্মিত।

খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে রাজা দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব কুমিল্লার ময়নামতির কোলে শালবন বিহার নির্মাণ করেন। যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় নামে বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়ে থাকেন। ৬৩৮ সালে বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং শালবন বিহারে আসেন। তখন বিহারে ৪ হাজার ভিক্ষু (ছাত্র) তিনি দেখতে পান। হিউয়েন সাং ময়নামতি অঞ্চলে ৩৫টি বিহার (শিক্ষাকেন্দ্র) দেখেছেন বলে তার গ্রন্থে উল্লেখ করেন। তিনি তৎকালীন সমতটবাসীকে (বর্তমানে কুমিল্লাবাসী) শিক্ষানুরাগী হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

এরই প্রেক্ষিতে ষাটের দশকে কুমিল্লা অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন জোরদার হয়। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে কুমিল্লা জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোর দাবি ওঠে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামে। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে, ২০০৪ সালের ১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ২০০৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। একই বছরের ৮ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়। ২০০৭ সালের ২৮ মে প্রথম আবর্তনে ৭টি বিভাগে ৩০০ শিক্ষার্থী ও ১৫ জন শিক্ষক দিয়ে এর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়টির ছয়টি অনুষদ ও ১৯টি বিভাগ রয়েছে। 

আত্মউন্নয়ন ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য কুবিতে আছে বেশ কিছু সংগঠন। এসব সংগঠন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। ফলে শিক্ষার্থীরা সাংগঠনিকভাবে দক্ষ হয়ে উঠছে। 

এছাড়া কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পাশে শিল্পী হাশেম খান ও পরবর্তীতে শিল্পী রবিউল হোসাইনের যৌথক্রমে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের পাশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যসহ কুবিতে নানা স্থাপনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে নিয়মিত দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এখানে ঘুরতে আসেন। বিভিন্ন ঋতুতে মনোমুগ্ধকর রূপ ধারণ করে ক্যাম্পাসটি। ক্যাসিয়া জাভানিকা বা লাল সোনাইল, স্বর্ণাভ সোনালু, বেগুনি রঙের জারুল, রক্তিম কৃষ্ণচূড়া যেন সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন।

প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকেই সামনের দিকে তাকালে দেখা যাবে গ্রীষ্মের খরতাপে ডালে ডালে যেন আগুন লেগেছে। কৃষ্ণচূড়ার গাছ লাল লাল ফুলে ছেয়ে গেছে। যেদিকে চোখ যায় যেন সবুজের মাঝে লালের মূর্ছনা। মূল ফটকের প্রবেশ পথে লালচে গোলাপি ও সাদা বর্ণের পাপড়িতে আবৃত ক্যাসিয়া জাভানিকা বা লাল সোনাইল নামের ফুল সকলের মনে দোলা দেয়।

মুক্তমঞ্চ থেকে ক্যাফেটেরিয়া যাওয়ার পথে চোখে পড়ে জারুলের সারি। জারুলের বেগুনি দৃশ্য দেখতে দেখতে পথ ধরে এগুতেই ক্যাফেটেরিয়ার সামনে এসে নজরে পড়বে সোনালু। স্বর্ণাভ সোনালু দেখে মনে হবে যেন প্রেমিকার কানের দুল হয়ে দুলছে। শরতের ঈষৎ বাতাসে সাদা কাশফুলের দল তার প্রেমিকদের বিমোহিত করে। সাপ ও সরীসৃপ ছাড়াও নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। এছাড়াও, বিভিন্ন রকমের মৌসুমি ফলের মৌ মৌ ঘ্রাণে জ্যৈষ্ঠ মাস হয়ে উঠে মধুময়। 

/এমদাদুল/মেহেদী/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়