ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৬ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘৮০ শতাংশ বৃদ্ধি নয়, যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করেছে সরকার’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-৩১ ৩:৩৩:৫৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-৩১ ৭:১৮:৫৬ পিএম

গণপরিবহনে ৮০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি জনসাধারণের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে, এ কথা চিন্তা করে সরকার ভাড়ার যৌক্তিক হার নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রোববার (৩১ মে) রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় সরকারি বাসভবন থেকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করার সময় এ কথা জানান সেতুমন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন দেশ সংকটকাল অতিক্রম করছে। আপনারা জানেন, গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি বা সমন্বয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। শনিবার বিআরটিএ-তে কমিটি সুপারিশ করেছে। যেহেতু অর্ধেক যাত্রী নিয়ে পরিবহন চলবে, সেজন্য জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ‌্য বিবেচনায় তারপর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নানান দিক পর্যালোচনা করে এ কমিটি শুধু করোনাকালের জন্য ৮০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করে সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটা দেশের জনগণের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করবে। সরকারকে যেমন যাত্রীর স্বার্থ দেখতে হবে, তেমনই পরিবহন খাতকেও সহযোগিতা করতে হবে। জনগণ তথা যাত্রীদের এই মুহূর্তে আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব যেটা ৮০ ভাগ করা হয়েছে, সেটা কমিয়ে যুক্তিসঙ্গত একটি হার নির্ধারণ করা হয়েছে মন্ত্রণালয় হতে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গণপরিবহনে ভাড়া সমন্বয়ের যে প্রস্তাব বিআরটিএ স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করেছে, তার জনপ্রতিক্রিয়া কিন্তু নেতিবাচক।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মালিক সমিতি এবং শ্রমিক নেতাদের সাথে কথা বলে সমাধানে আসার চেষ্টা করি। এ সকল বিষয়ে পলিসি সাপোর্ট আপনাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করি।’

মন্ত্রণালয় কিছুক্ষণ পর সেই ভাড়ার হার প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করবে, জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করছি, মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো দেশ ও জাতির এই সংকটে সিদ্ধান্ত মেনে নেবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামীকাল থেকে সরকার গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সীমিত আকারে এবং স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বাস মালিকরা সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সরকারকে। শর্ত অনুযায়ী বাসের অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহন করা হবে। অর্ধেক আসন খালি থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘এটা সত্য যে পরিবহনসমূহ দুই মাসের অধিক বন্ধ ছিল। দেশের অন্যান্য সকল খাতের সাথে এ এই খাতও ক্ষতিগ্রস্ত। সর্বশেষ ২০১৬ সালের মে মাসে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলমান বাস-মিনিবাসের ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। সরকার জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে মালিকদের দাবি সত্ত্বেও ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দেয়নি। যদিও ২০১৯ সালে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি হয়ে অপেক্ষমাণ রয়েছে, সেটা আমরা পরে দেখব, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে।’

‘এখন যে ভাড়া সমন্বয় করা হচ্ছে, এটা নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে। আমি মনে করি, এই বিষয়ে পরবর্তীতে যখন পরিস্থিতি বদলাবে, তখন এ বিষয়টা পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এটা নিয়ে মানুষের সমালোচনা আছে যে, ভাড়া আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে কি না। সে সন্দেহ অবশ্যই দূর করতে হবে,’ বলেন ওবায়দুল কাদের।


ঢাকা/পারভেজ/রফিক