ঢাকা     সোমবার   ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৩ ১৪২৮ ||  ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা চূড়ান্ত হয়েছে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

সচিবালয় প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:০২, ৫ ডিসেম্বর ২০২১  
স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা চূড়ান্ত হয়েছে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে। খুব শিগগির তা মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উত্থাপন করা হবে।

রোববার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস উপলক্ষে ইউএন ভলান্টিয়ার বাংলাদেশ, ইউএনএফপিএ, ওয়াটার এইড আয়োজিত ‘বাংলাদেশের কমিউনিটির উন্নয়নে স্বেচ্ছাসেবার অবদান' শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী জানান, জাতিসংঘ ভলান্টিয়ারের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিলে তারা জানান যে, বাংলাদেশে কোনো স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা নেই। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা প্রণয়নের অনুরোধ জানালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি নিয়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেন। ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করে অনেকগুলো সভা এবং তৃণমূল ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে এই নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তা মন্ত্রিপরিষদে উত্থাপন করা হবে।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া ও স্বেচ্ছাসেবীদের স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে অন্যদের উৎসাহ দিতে হবে, যাতে সৃজনশীল ও পরকল্যাণমূলক জাতি হিসেবে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও বাড়ে। এ নীতিমালা স্বেচ্ছাসেবা চর্চাকে আরও গতিশীল করবে।’ 

মন্ত্রী বলেন, ‘করোনা মহামারির মধ্যেও জনপ্রতিনিধি, ছাত্র-শিক্ষক, এনজিওকর্মী এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ অনেকেই স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। অনেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ, অক্সিজেন, খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। অনেকে হাসপাতালে রোগী পৌঁছাতে সহযোগিতা করেছেন। জাতীয় নীতিমালা প্রণীত হলে যেকোনো দুর্যোগে, বিপদে-আপদে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বীকৃতি পাবে।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন, ইউএনভি এশিয়া ও প্যাসিফিকের রিজিওনাল ম্যানেজার সেলিনা মিয়া, ইউএনএফপিএর রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. একো নারিতা, বাংলাদেশ নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক তুয়োমো পৌতিয়াইনেন।

বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার সচিব মো. নুরে আলম সিদ্দিকী, ইউএনভি বাংলাদেশের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. আকতার উদ্দিন, ভিএসও বাংলাদেশ বিসনেস পারস্যুইট লিড সালাউদ্দিন আহমেদ এবং ওয়াটার এইড বাংলাদেশের পলিসি ও অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর পার্থ হেফাজ শাইখ।

অনুষ্ঠানে সরকারি নানা সংস্থা এবং এনজিওর প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক ও সামাজিক সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবক দল অংশ নেয়।

এ বছর স্বেচ্ছাসেবক দিবসের প্রতিপাদ্য—ভলান্টিয়ার নাউ ফর আওয়ার কমন ফিউচার।
উল্লেখ্য, কমিউনিটির উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় ইউএনডিপি এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এ বছর প্রথমবারের মতো ২০ জন স্বেচ্ছাসেবককে সম্মাননা জানানো হয়।  

আসাদ/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়