ঢাকা     সোমবার   ০৩ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৮ ১৪২৯ ||  ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

শরিকরা ইলেকশন অ্যালায়েন্স, আদর্শের বিষয় নয়: কাদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:১৫, ১১ আগস্ট ২০২২  
শরিকরা ইলেকশন অ্যালায়েন্স, আদর্শের বিষয় নয়: কাদের

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের বিরুদ্ধাচরণ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে মাথাব্যথা নেই বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘এই জোট তাদের নির্বাচনী অ্যালায়েন্স। কৌশলগত জোট। এখানে আদর্শের কোনও বিষয় নেই।’

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের এক জরুরি সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জোটের শরিকদের প্রতিবাদ কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, জোটের শরিকদের দলগতভাবে কর্মসূচি দেওয়ার অধিকার আছে। তারা করতে চাইলে করবে। এটা তো কোনও কথা না।

‘আমাদের জোট তো ইলেকশন অ্যালায়েন্স, সেটা তো কৌশলগত জোট। সেখানে আদর্শের কোনও বিষয় নেই। তাহলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আমরা কেন জোট করেছি? এসব ব্যাপার তো ভাবতে হবে।’

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আগে দলীয় পরিমণ্ডলে এ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়েছিল কিনা- এমন প্রশ্নে আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এটা সরকারের ব্যাপার। এসব দলীয় মিটিংয়ে আলোচনা হয় না। সরকারিভাবে এটা সিদ্ধান্ত হয় এবং এখানে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের হেড কিন্তু প্রধানমন্ত্রী।’

‘সারা দুনিয়ার পরিস্থিতি বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সবকিছু জেনেশুনে এটা করা হয়েছে...আগেই বলেছি, এটা আমরা বাধ্য হয়ে, নিরুপায় হয়ে করেছি। মানুষকে আমরা কষ্ট দিতে চাইনি। কিন্তু আমাদের সামনে অন্য কোনও বা বিকল্প পথ ছিল না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে ঠিক তখনই আমরা দাম কমাবো।’

আ.লীগ সরকার দেশে চার বার বিদ্যুতের দাম কমিয়েছে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘এমন উদাহরণ আর নেই। বিএনপি বড় বড় কথা বলে। তাদের সময় বিদ্যুৎ ছিল না। ছিল খাম্বা। সকাল-বিকেল নেই ১৩-১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং। এটা কি মিথ্যা? আজকে কোন মুখে তারা বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলে। বিদ্যুৎ আমরা শতভাগ দিয়েছি। আজকে বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে এই পরিস্থিতি হয়েছে। যখন স্বাভাবিক সময় আসবে তখন আমাদের প্রমিজ থেকে পিছিয়ে যাবো না।’

বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সংকট তৈরি হয়েছে সেটা যুদ্ধের কারণে এবং এটা বৈশ্বিক অভিহিত করে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। কিন্তু কোনও দেশে এজন্য সরকারকে দায়ী করা হচ্ছে না। শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানের বিষয় আলাদা। সেখানে একটা পট পরিবর্তন হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যা হচ্ছে সরকারকে দায়ী করে কোনও মিছিল কোনও দেশে হচ্ছে না।

‘ফ্রান্সে এত খারাপ অবস্থা, সেখানে নির্বাচনে ম্যাক্রো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিরোধী দল দিচ্ছে। বামপন্থী-ডানপন্থীরা একত্রিত হয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু তারা কোনও আন্দোলন করেছে বলে আমার জানা নেই। বাংলাদেশে শুধু ব্যতিক্রম মনে হচ্ছে। বাংলাদেশেরই আজকে যতো দোষ সব নন্দ ঘোষ সরকারের।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, যে সরকার বাংলাদেশকে উন্নয়ন-অর্জনের রোল মডেল হিসেবে সারা দুনিয়ার কাছে পরিচিত করেছে; যে সরকার করোনা, বন্যায় ভারসাম্যমূলক ব্যবস্থা নিয়ে সারা দুনিয়ার প্রশংসা অর্জন করেছে, বাংলাদেশে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রেখেছে- আজকে সেই সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে। সরকারে উৎখাতের চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে। তারা সরকারকে উৎখাত করবে। এই সংকটে সহযোগিতা করবে না। এটা তারা জানান দিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে। পরিষ্কারভাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে আমরাও সমন্বয় করবো। এটা বলার পরও আজকে বিএনপিসহ তাদের দোসররা মাঠে নেমেছে। সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার, বিষোদগার করছে। জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ে নানান কথা বলছে।

জ্বালানি তেলে সরকার ৮ হাজারেরও বেশি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, আর কত ভর্তুকি। তারপরও আমাদের নেত্রী বলেছেন, ‘আপনারা একটু ধৈর্য ধরুন। আমার তো মনে হয় এই ক্রাইসিস থেকে তিনি মুক্তি দিতে পারবেন। সেই আত্মবিশ্বাস আমাদের নেত্রীর রয়েছে। আজকের সংকট সাময়িক। এই সংকট কেটে যাবে।

‘তারপরও একটি মহল বিএনপি এবং তার দোসররা কান ঝালাপালা করে প্রতিদিন তারা যা বলে...প্রতিদিন অশ্রাব্য ভাষায় সরকার প্রধানকে গালিগালাজ করে। হত্যার হুমকি দেয়, বিষোদগার করে। তারপরও সবাই বক্তব্য-ভাষণ দিচ্ছে, কাউকে তো সরকার গ্রেপ্তার ও নিষেধ করেনি। আজকেও তারা সমাবেশে সবাই ভাষণ দিয়েছে। কিন্তু সরকার কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। আপনি যদি অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হন, তখন তারা কী করবে? তাদের আসল উদ্দেশ্যও এটা।’

জরুরি সভায় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পারভেজ/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়