ঢাকা     বুধবার   ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৯ ১৪২৯

কে হচ্ছেন স্বাস্থ্য’র পরবর্তী ডি‌জি

মেসবাহ য়াযাদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:০০, ৩০ ডিসেম্বর ২০২২   আপডেট: ২০:০৮, ৩০ ডিসেম্বর ২০২২
কে হচ্ছেন স্বাস্থ্য’র পরবর্তী ডি‌জি

আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, মীরজাদী সেব্রিনা এবং আহমেদুল কবীর

আগামী ৩১ ডি‌সেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক (ডি‌জি) আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাই, কে হ‌চ্ছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরবর্তী ডি‌জি, তা নিয়ে স্বাস্থ্য খাত সং‌শ্লিষ্ট মানুষ‌দের মধ্যে জোর আলোচনা চলছে।

অধিদপ্ত‌রের এক পক্ষ বলছে, বর্তমান ডি‌জি আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের মেয়াদ আবার বাড়তে পা‌রে। কারণ হি‌সে‌বে তা‌রা বল‌ছেন, নীতিনির্ধারকদের কারও কারও কাছে বর্তমান ডি‌জি বিশেষ পছন্দের এবং নির্ভর‌যোগ্য।

ত‌বে, এ বিষয়ে কা‌রো কা‌রো দ্বিমত আছে। তারা বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্ত‌রে কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে যোগ্য এবং সি‌নিয়র ক‌য়েকজন কর্মকর্তা আ‌ছেন। তাদের ম‌ধ্যে অতিরিক্ত মহাপরিচালক আছেন দুজন। একজন অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), অন্যজন অধ্যাপক আহমেদুল কবীর (প্রশাসন)।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকদের ম‌ধ্যে অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা সি‌নিয়র। য‌দিও দীর্ঘ‌দিন ধ‌রে তি‌নি সিঙ্গাপুরে চি‌কিৎসা নি‌চ্ছেন। ইতোম‌ধ্যে তিনি সুস্থ হয়েছেন। দু-এক‌দি‌নের ম‌ধ্যে তার দে‌শে ফেরার কথা আছে।

অপর‌দি‌কে, ডি‌জি হওয়ার ক্ষে‌ত্রে সা‌র্বিকভা‌বে এ‌গি‌য়ে থাক‌লেও অতিরিক্ত মহাপরিচালক আহমেদুল কবীরের চে‌য়েও সি‌নিয়র কর্মকর্তা আ‌ছেন ক‌য়েকজন।

স্বাস্থ্য বি‌শেষজ্ঞ‌দের ম‌তে, স্বাস্থ্য ডি‌জির পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক‌রোনা মহামারিসহ বি‌ভিন্ন কার‌ণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডি‌জি‌কে অ‌নেক বে‌শি গণমাধ্যমের সাম‌নে কথা বল‌তে হয়। এত বে‌শি উপস্থিতি সরকারের আর কোনো অধিদপ্তরের ডি‌জির ক্ষেত্রে ঘটে না।

যেকো‌নো ডি‌জি‌কে একা‌ধিকবার দা‌য়িত্ব দেওয়া হ‌লে অন্য সি‌নিয়র কর্মকর্তারা বঞ্চিত হন। পাশাপা‌শি মাঠপর্যায় থেকে যারা প্রমোশন পে‌য়ে ওপরে উঠে আসার কথা, তারা উঠ‌তে না পে‌রে হতোদ্যম হয়ে পড়েন।

উল্লেখ্য, বছর তিনেক আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভেঙে দু‌টো অ‌ধিদপ্তর করা হয়। একটি স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর এবং অপর‌টি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। করোনা মহামারির সময় স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের ডি‌জি ছিলেন আবুল কালাম আজাদ। নিয়মিত মেয়াদ শেষে তার চাকরির মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হয়েছিল।

দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্ম হয় ২০২০ সালের মাঝামাঝি সম‌য়ে। করোনা মহামারিতে দেশের অবস্থা যখন খুব খারাপ যা‌চ্ছিল, ঠিক তখন স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর দুর্নীতিতে ছে‌য়ে যায়। তা জে‌নে সারা দেশের মানুষ অবাক হন।

মহামারির মধ্যে দুর্নীতির অপবাদ নিয়ে আবুল কালাম আজাদকে ২০২০ সালের ২৩ জুলাই ডি‌জির পদ ছাড়তে হয়। ‌সে বছর ২৬ জুলাই ডি‌জি করা হয় আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে।

আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের চাকরির নিয়মিত মেয়াদ শেষ হবার কথা ছিল ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর। তাকে ডি‌জি করার পর তার চাক‌রির মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হয়। সেই বাড়‌তি দুই বছর মেয়াদও শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২২।

এর আগের ডি‌জি আবুল কালাম আজাদের চাকরির মেয়াদ বাড়া‌নোর কারণে সি‌রিয়া‌লে থাকা অন্যদের মহাপরিচালক হওয়া আর হয়ে ওঠেনি। একইভাবে বর্তমান ডি‌জি আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের প্রথম দুই বছর মেয়াদ বাড়া‌নোর কারণে যোগ্যতা থাকার পরও কেউ কেউ স্বাস্থ্যের ডি‌জি পদে যেতে পারেননি।

তাই, বর্তমা‌নে কে হ‌চ্ছেন স্বা‌স্থ্যের নতুন ডি‌জি, সে ব্যাপা‌রে জল্পনা-কল্পনা চল‌ছে। খুব দ্রুতই এর মীমাংসা হ‌বে ব‌লে ম‌নে ক‌রেন স্বাস্থ্য সং‌শ্লিষ্টরা। কারণ, বর্তমান ডি‌জির মেয়াদ আর এক দিন পর শেষ হ‌চ্ছে। আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম আবার ডি‌জি হবেন, নাকি সি‌নিয়‌রি‌টি‌তে এগি‌য়ে থাকা অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা কিংবা আহমেদুল কবীর হবেন, জানা যাবে শিগগির।

মেয়া/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়