ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১৪ ১৪৩০

মুরগির দাম কিছুটা কমেছে

মেসবাহ য়াযাদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৪২, ২৭ মার্চ ২০২৩   আপডেট: ১৬:৪৪, ২৭ মার্চ ২০২৩
মুরগির দাম কিছুটা কমেছে

ফাইল ফটো

সপ্তাহখানেক ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকা মুরগির দাম অবশেষে কিছুটা কমেছে। তিন দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজিতে কমেছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। সোনালি (কক) মুরগির দাম কমেছে কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা।

সোমবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার, নিউ মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে। সোনালি (কক) বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকায়। লেয়ার মুরগির বাজার দর ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা। দেশি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৭০ টাকায়।

মুরগি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাস দুয়েক আগেও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৩০-১৪০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হতো ২৩০-২৪০ টাকায়। খাদ্যের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে রেকর্ড পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মুরগির দাম। চার-পাঁচ দিন আগেও ব্রয়লারের কেজি বিক্রি হয়েছে ২৭০-২৮০ টাকায়।

রাজধানীর নিউ মার্কেটের বিসমিল্লাহ চিকেন হাউজের গোলাম রাব্বানী বলেন, আমরা আড়ৎ থেকে বেশি দামে কিনলে কম দামে কীভাবে বিক্রি করব? এখন মোবাইল কোর্টের কারণে আড়তে দাম কমেছে, আমরাও কম দামে কিনেছি। তাই, আজ ব্রয়লার ২১০ টাকা আর কক ৩৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে পারছি। দুই দিন আগেও ব্রয়লার ২৭০ থেকে ২৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

রোজার এক দিন আগে থেকে মুরগির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজারে অভিযান চালায়। তারা দেশের কয়েকটি নাম করা ফার্ম মালিকের সঙ্গে আলোচনায় বসে। সেখানে হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে মুরগির দাম বাড়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় সভায় এফবিসিসিআই জানায়, ফার্ম মালিকরা দাম না কমালে ব্রয়লার মুরগি ও গরুর মাংস আমদানি করা হবে। একই কথা বলেছিল ভোক্তা অধিদপ্তরও।

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনকারী চার বড় কোম্পানি ভোক্তা অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৯০-১৯৫ টাকা পাইকারি দামে বিক্রির ঘোষণা দেয়। পরদিন (শুক্রবার) থেকে দাম কমার কথা জানালেও বাস্তবে গতকাল রোববার থেকে বাজারে সব ধরনের মুরগির দাম ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

এ বিষয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, শনিবার সারা দেশে ৫৬ বাজারে অভিযান চালানো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি পর্যায়ে ১৮৫-১৯০ টাকায় ব্রয়লারের কেজি বিক্রি হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ধারা চলতে থাকলে খুচরা বাজারে দাম ক্রমান্বয়ে আরও কমবে।

সোমবার (২৭ মার্চ) মুরগির আড়ত মালিকদের সিন্ডিকেট এবং খোলা বাজারে অব্যবস্থাপনা রোধে রাজধানীর কাপ্তান বাজারে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় ক্রয় ভাউচার দেখাতে না পারায় এক প্রতিষ্ঠানকে ১ হাজার টাকা জরিমানা এবং আরেকটি প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার।

অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ্রিংকালে মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, অভিযান চালাতে গিয়ে আমরা কিছু কিছু জায়গায় অনিয়ম দেখেছি। বাজারে সোনালি বা কক মুরগি বিক্রির ক্ষেত্রে অস্থিরতা আছে। আমরা অভিযানকালে আড়ত পর্যায়ে অনিয়ম পেয়েছি। ব্যাপারী এবং আড়ত মালিকদের কারসাজি আমাদের চোখে পড়েছে। তারা ক্রয় ভাউচার প্রদর্শন করছে না। কেউ যদি ক্রয় ভাউচার এবং বিক্রয় রশিদ সংগ্রহ না করে, তাহলে ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ভোক্তা অধিকারের অভিযান বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিউ মার্কেট ও হাতিরপুলের মুরগি ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, মোবাইল কোর্ট আসলে ওনারা আমাদের কোনো কথা শুনতে চান না। কেবল জরিমানা করেন। তারা (মোবাইল কোর্ট) বলেছেন, কেনা দামের চেয়ে ১০ টাকা লাভে বিক্রি করতে। কেনা দামের পর ক্যারিং খরচ, দোকান খরচ, নিজের খরচ, বিদ্যুৎ বিল এসব খরচ কী করে ১০ টাকা লাভে বিক্রি করে পোষাবো?

নিউমার্কেটে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মুরগির ব্যবসা করা জামান মিয়া বলেন, আমি কক ও দেশি মুরগি বিক্রি করি। দেশি মুরগি আজ কিনেছি ৬৫৫ টাকা করে, বিক্রি করছি ৬৭০ টাকায়। দুই দিন আগেও বিক্রি করেছি ৭০০ টাকায়। বেশি দরে কিনি বলে বেশি দামে বেচতে হচ্ছে। কেউ আসল জায়গায় ধরে না। আমাদের মতো গরিব আর খুচরা ব্যবসায়ীদের ধরে আর জরিমানা করে।

হাতিরপুল প্রোটিন হাউজের মনির হোসেন বলেন, মোবাইল কোর্টের ভয়ে আমরা কেনা দামের চেয়ে ১০ টাকা বেশিতে বিক্রি করছি। এতে গত দুই দিনে অন্তত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লস হয়েছে। মুরগি যেই দামে কিনি সেইটার রিসিট থাকে। এর বাইরে যে আনার গাড়ি ভাড়া, দোকান খরচ, বিদ্যুৎ খরচ—এসবের হিসাব ওনারা শুনতে চান না। কেনা দামের চেয়ে যদি ২০ টাকা লাভে বিক্রি করতে পারি, তাহলে আমরা কোনোভাবে বাঁচতে পারব, নইলে এই ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে।

আরেক ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, সরকার যদি এভাবে আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের ধরেন ও জরিমানা করেন, তাহলে আমাদের বাঁচতে হলে একটা কাজই করতে হবে—ওজনে কম দিতে হবে। কেজিতে ৮০০ গ্রাম দিলে আমাদের পোষাবে। নইলে ১০ টাকা লাভে বিক্রি করে টিকতে পারবে না কোনো ব্যবসায়ী। যারা সিন্ডিকেট করে মুরগি, ডিম এসবের দাম বাড়ায়, তাদের না ধরে সরকার আমাদের ধরলে কোনো লাভ হবে না।

য়াযাদ/রফিক

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়