ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৬ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

অভাবে-অনাহারে সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষ

সুজাউদ্দিন রুবেল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৫ ৫:৫৯:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৫ ৬:০৪:৩৫ পিএম

করোনাভাইরাসের প্রভাবে দুর্বিষহ সময় পার করছেন সেন্টমার্টিন দ্বীপের ১০ হাজারের বেশি মানুষ। পর্যটক নেই, তাই আয়-রোজগারের পথ বন্ধ।

দ্বীপের বাসিন্দারা জানান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সেন্টমার্টিন দ্বীপে এই দুর্যোগে সহায়তা না আসায় ভয়াবহ কষ্টে রয়েছেন তারা। এ অবস্থায় নৌবাহিনী জানিয়েছে, এখন থেকে দ্বীপের অসহায় মানুষদের নিয়মিত খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

দেশের সর্ব দক্ষিণের দ্বীপ সেন্টমার্টিন, এ সময় পর্যটকে ঠাসা থাকতো। কিন্তু চারদিকে এখন সুনসান নীরবতা। নেই কোনো পর্যটক। ঘাটে নোঙর করা আছে যাত্রীবাহী ও মাছ ধরার ট্রলারগুলো। বন্ধ রয়েছে হোটেল, রেস্তোরা ও বার্মিজ দোকানগুলো।

রেস্তোরা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ বলেন, ‘আমরা পুরো পর্যটন মৌসুম শেষ করতে পারিনি। মৌসুমের অর্ধেক সময়ে করোনার কারণে সব রেস্তোরা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এখন আমাদের জন্য খুবই সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। হয়তো সামনে মৌসুম না আসা পর্যন্ত আগামী ৮ মাস খেয়ে না খেয়ে চলতে হবে।’

হোটেল মালিক সমিতির মুখপাত্র খোরশেদ আলম বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে ১০৬টি হোটেল-মোটেল ও কটেজ রয়েছে। এছাড়াও ৫০টি রেস্তোরা আছে। করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ। এখানে সেন্টমার্টিন, টেকনাফ, কক্সবাজার কিংবা ঢাকার অনেকে এখানে ব্যবসা করতো। কিন্তু করোনার কারণে মৌসুমের অর্ধেকে সবকিছু বন্ধ করে সবাই চলে গেছে। ফলে, সেন্টমার্টিনবাসী এখন কষ্টে পড়ে গেছে।’

দ্বীপের বাসিন্দা, যাদের জীবিকা পর্যটক নির্ভর তাদের চোখে শুধুই হতাশার ছাপ। তারা বলছেন, করোনার প্রভাবে কাজ নেই তাই খেয়ে না খেয়ে চলছে আদের সংসার।

দ্বীপের ভ্যানচালক রহিম উদ্দিন বলেন, ‘এখন পর্যটক আসছে না, আয় হচ্ছে না। এখন অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রায় ২’শ ভ্যান চালক বেকার বসে আছি।’

বার্মিজ দোকানি সিরাজ বলেন, ‘আমাদের একেকটা দোকানে প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল রয়ে গেছে। অনেক টাকা ঋণ করে এসব দোকানে উঠিয়ে ছিলাম, পর্যটকদের কাছে বেচার জন্য। কিন্তু এখন ঋণের টাকা শোধ করতে পারেনি। সামনের দিনগুলো কীভাবে যাবে বুঝতে পারছি না।’

করোনার কারণে আগামী পর্যটন মৌসুম না আসা পর্যন্ত দ্বীপের মানুষকে অনেকটা কষ্টেই দিন কাটাতে হবে। তাই সরকারিভাবে দ্বীপের অসহায় মানুষদের খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন বলে জানালেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ।

তিনি বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা সম্পূর্ণ বেকার হয়ে গেছে। আগামী ৮ মাস খুবই দুর্ভোগে যাবে। তাই সরকারিভাবে আগামী ৮ মাস যাতে দ্বীপের গরীব অসহায় মানুষ খাদ্য সহায়তা পায়, এই অনুরোধ করব।’

আর এ ব্যাপারে নৌ-বাহিনীর বঙ্গবন্ধু বানৌজার অধিনায়ক ক্যাপ্টেন তানজিম ফারুক বলেন, ‘এখন থেকে দ্বীপের অসহায় মানুষদের নিয়মিত খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। আমরা শুরু করেছি, কোস্টগার্ড ও অতিদ্রুত শুরু করবে বলে আমরা আশা করছি। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনও খুব শিগগিরই এগিয়ে আসবে।’

উল্লেখ্য, সেন্টমার্টিন দ্বীপে ১৪’শ পরিবার থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে সহায়তা পেয়েছে মাত্র ২০০ হতদরিদ্র মানুষ।


কক্সবাজার/হাকিম মাহি

     
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : কক্সবাজার, চট্টগ্রাম বিভাগ