ঢাকা     রোববার   ১০ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৭ ১৪৩৩ || ২২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ২ পুলিশ সদস্য ক্লোজ

দিনাজপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:১০, ১০ মে ২০২৬  
স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ২ পুলিশ সদস্য ক্লোজ

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় পাচারকারীর কাছ থেকে উদ্ধার করা স্বর্ণের বার হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে হিলি ও বিরামপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত দুজন হলেন— বিরামপুর থানার বেতার বার্তা অপারেটর কনস্টেবল রাশেদুজ্জামান এবং হাকিমপুর (হিলি) থানার কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গত বুধবার সকালে বিরামপুর উপজেলার কাটলা বাজার এলাকা থেকে বাইসাইকেলযোগে ভারতীয় সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন মো. জামিল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। এ সময় রামচন্দ্রপুর আদিবাসী পল্লির সামনে দুই পুলিশ সদস্য তার শরীর তল্লাশি করেন। একপর্যায়ে জামিলের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ধস্তাধস্তির সময় জামিল কৌশলে তার প্যান্টের পকেটে থাকা পাঁচটি সোনার বার পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেন। পরে পুলিশ তাকে হাতকড়া পরিয়ে আরো দুটি সোনার বার নিজেদের জিম্মায় নেয়। এর পর ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর জামিল পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করে পুনরায় পুকুরে নেমে ফেলে দেওয়া পাঁচটি সোনার বার উদ্ধার করে সেখান থেকে সটকে পড়েন বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হারেজ উদ্দিন এবং বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান। তারা ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিরামপুর থানার এক পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন, তদন্তের বিষয়টি জানতে পেরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকারের কাছে সোনার বার দুটি জমা দেন দুই কনস্টেবল। তবে, এ ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়েই ওসি তিন দিনের ছুটিতে চলে যান।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিরামপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হাকিমপুর (হিলি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেছেন, “বিরামপুরে সোনা নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে আমাদের থানায় কোনো অভিযোগ হয়নি। তবে, আমাদের থানার এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে তিনি বিরামপুর থানায় কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি তদন্তাধীন আছে এবং তাকে ক্লোজ করা হয়েছে।”

হিলি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ ন ম নিয়ামত উল্লাহ বলেছেন, “প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে দুই পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্সে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা/মোসলেম/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়