ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৮ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪৩১

হাবিপ্রবিতে মুকুলে ছেয়ে গেছে লিচু বাগান

নাঈম ইসলাম সংগ্রাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৩১, ৬ এপ্রিল ২০২৪   আপডেট: ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪
হাবিপ্রবিতে মুকুলে ছেয়ে গেছে লিচু বাগান

ঋতুরাজ বসন্তে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) লিচু বাগান ভরে গেছে মুকুলে মুকুলে। বোম্বে, মাদ্রাজ, চায়না, বেদানা জাতের অসংখ্য গাছ রয়েছে এই বাগানটিতে। হাবিপ্রবির ভেটেরিনারি অনুষদ ভবন সংশ্লিষ্ট লিচু বাগানের প্রতিটি গাছে এবার মুকুল এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লিচুর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বাগানটি থেকে।

বসন্তের হাওয়ায় সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দেওয়া লিচুর মুকুল ৮৫ একরের এই ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে। বিকেল বেলায় লিচু বাগানের সুশীতল ছায়ায় যে কারোরই বসে থাকতে মন চাইবে। লিচুর মুকুলের সুমিষ্ট ঘ্রাণ আপনার মস্তিষ্কে যোগাবে এক অন্যরকম অনূভুতি।

সারাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েগুলোর মধ্যে হাবিপ্রবির লিচু বাগান সব থেকে বড়। কেনই বা বড় হবে না এই ক্যাম্পাসটির লিচু বাগান? দেশসেরা লিচু জন্মেই তো দিনাজপুরে। দিনাজপুরের লিচুর খ্যাতি রয়েছে পুরো দেশব্যাপী। শুধু দেশ নয়, দেশের গন্ডি পেরিয়ে এ লিচু রপ্তানি হয় বিদেশেও। দিনাজপুরের প্রতিটি অঞ্চলেই চোখে পড়ে লিচু বাগানের আধিক্য। তারই সামান্যতম অংশ হাবিপ্রবির এই লিচু বাগান।

প্রতি বছরই বাগানটিতে কমবেশি লিচু জন্মে। বাগানের এই লিচুগুলো ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারিরা খেয়ে থাকেন। তবে কিছুটা আক্ষেপের বিষয় হলো, লিচুগুলো পরিপক্ব হওয়ার আগেই খেয়ে ফেলা হয়। যার কারণে ভোক্তারা লিচুর প্রকৃত পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হন।

ভোক্তারা যদি পরিপক্ব হওয়ার পরে এসব লিচু ভোগ করে, তাহলে রসালো, সুমিষ্ট ফলটি সবার তৃপ্তি নিয়ে আসবে প্রকৃতির নিয়মে অনুযায়ি।

হাবিপ্রবির মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শহিদুজ্জামান বলেন, হাবিপ্রবির লিচু শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের কাছে এক অন্যরকম আবেগের নাম। এই লিচু গ্রীষ্মের দাবদাহের সময়ে আমাদের মাঝে উৎসবের আমেজ নিয়ে হাজির হয়। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় লিচু বাগান নিয়ে অনন্য এক পরিচিতি লাভ করেছে আমাদের ক্যাম্পাস। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমরা আমাদের এই গর্বের ধনকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি না। লিচু পরিপক্ব হওয়ার আগেই আমরা হামলে পড়ি লিচু বাগানে। শুরু করে দেই কাঁচা লিচুকে বোঁটাচ্যুত করার এবং ডাল ভাঙার এক নিকৃষ্ট মহাযজ্ঞ।

তিনি বলেন, এত সুবিশাল লিচু বাগান থাকা সত্ত্বেও পরিপক্ব লিচুর স্বাদ আস্বাদন করার সৌভাগ্য আমাদের হয়ে ওঠে না।
তাই আসুন আমরা আমাদের অতীত ইতিহাস মুছে ফেলে নব উদ্দ্যোমে জেগে উঠি। প্রতিজ্ঞা করি কাঁচা লিচুতে হাত না দেওয়ার। তাহলে আমাদের গর্বের ধন দু’হাত ভরে যা দান করবে, তাতে আমাদের জিহ্বার স্বাদগ্রন্থিকে নিঃসন্দেহে পরিতৃপ্ত হবে।

/মেহেদী/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়