ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৩ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৮ ১৪৩২ || ১৩ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘আল্লাহর মাল আল্লাহ নিছেন, মামলা করব না’

রাজশাহী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৯, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫   আপডেট: ২২:৩১, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
‘আল্লাহর মাল আল্লাহ নিছেন, মামলা করব না’

রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে গভীর নলকূপের পরিত্যক্ত বোরহোলে পড়ে দুই বছরের শিশু সাজিদের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পুরো দেশ। যে ব্যক্তি বোরহোলটি খুঁড়েছিলেন, সেই কছির উদ্দিন ঘটনার পর থেকে পলাতক।

মাটির প্রায় ৫০ ফুট গভীর থেকে সাজিদের নিথর দেহ উদ্ধারের পর প্রথমে অবহেলার অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করলেও এখন মামলা করতে চান না শিশুটির বাবা রাকিবুল ইসলাম।

আরো পড়ুন:

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘‘আল্লাহর মাল আল্লাহ নিছেন। আমরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মামলা করব না।’’

তিনি জানান, পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগে অবহেলার অভিযোগ তুলে বিচার চাওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘‘সেটা বলেছিলাম গোটা দেশ যেন সতর্ক হয়। এই ভুলটা আর কেউ যেন না করে। আমার বাচ্চাটা যেভাবে গেছে, সবাই যদি আগে থেকে সচেতন হয়, তাহলে এমন ক্ষতি আর হবে না। আমার ঘটনার মধ্য দিয়ে যদি অন্যরা শিক্ষা পায়, সেটাই চাই।’’

মামলা না করতে কোনো ধরনের চাপ আছে কি না? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘আমার ওপর কোনো চাপ নেই। গোটা দেশ আমাদের পাশে আছে।’’

পলাতক কছির উদ্দিন এলাকায় ফিরে সহানুভূতি জানিয়েছেন কি না? জানতে চাইলে রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘‘না। উনি এখনো এলাকায় আসেননি। আমার সঙ্গে যোগাযোগও করেননি।’’

গত বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশেই কছির উদ্দিনের জমিতে থাকা গভীর নলকূপের ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের পরিত্যক্ত বোরহোলে পড়ে যায় শিশু সাজিদ। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ৩১ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর বৃহস্পতিবার রাতে মাটির ৫০ ফুট নিচ থেকে সাজিদের নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় সাজিদের মা রুনা খাতুন শুরু থেকেই বিচার দাবি করে আসছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘কছির উদ্দিন আমার বাড়ির পাশে তিন জায়গায় গর্ত করে ফেলে রেখেছে। কেন এভাবে ফেলে রাখল, গর্তগুলো কেন বন্ধ করল না? আমি বিচার চাই।’’ তবে তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম এখন মামলা করতে আগ্রহী নন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কছির উদ্দিন আগে বিদেশে ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি পানি ব্যবসা শুরু করেন এবং এলাকায় পাঁচটি অগভীর নলকূপ (সেমিডিপ) স্থাপন করেন। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে এসব সেমিডিপ চালানো হচ্ছে।

বছর খানেক আগে উপজেলা সেচ কমিটির অনুমোদন ছাড়াই আরো একটি সেমিডিপ বসাতে বোরহোল করান কছির উদ্দিন। মাটির প্রায় ৯০ ফুট গভীরে যাওয়ার পর পাথর উঠতে থাকায় তিনি পরপর তিনটি স্থানে বোরহোল করেন। তবু পানির সন্ধান না মেলায় সেখানে সেমিডিপ বসানো হয়নি। সেই পরিত্যক্ত বোরহোলগুলোর একটিতেই পড়ে যায় শিশু সাজিদ, যা তার করুণ মৃত্যুর কারণ হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান বলেন, ‘‘কছির উদ্দিনের অবহেলার কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ভিকটিমের পরিবার যেভাবে চাইবে, সেভাবেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’’

পদাধিকারবলে উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি হিসেবে ইউএনও জানান, কছির উদ্দিনের পাঁচটি সেমিডিপ বৈধ কি না, যাচাই করা হবে। তবে, যে বোরহোলে পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে; সেটির জন্য কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কছির উদ্দিন আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

ঢাকা/কেয়া/রাজীব

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়