ইরানি হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলল কাতার, পাল্টা হামলার হুশিঁয়ারি
জাতিসংঘে কাতারের রাষ্ট্রদূত শেখা আলিয়া আহমেদ বিন সাইফ আল থানি
জাতিসংঘের মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো চিঠিতে কাতার তাদের ভূখণ্ড ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জনিয়েছে। কাতার এই ঘটনাকে ‘একটি অগ্রহণযোগ্য উত্তেজনা বৃদ্ধি, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে’ বলে অভিহিত করেছে। খবর আল-জাজিরার।
জাতিসংঘে কাতারের রাষ্ট্রদূত শেখা আলিয়া আহমেদ বিন সাইফ আল থানি এই চিঠিগুলো পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি আরো উল্লেখ করেন, কাতার এই হামলার জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।
তিনি বিস্তারিত জানিয়ে বলেন গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর, ইরান কাতারের দিকে ৮৩টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন নিক্ষেপ করে।
কাতার এর মধ্যে ৮১টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। তবে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হানে, যেখানে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া একটি ড্রোন একটি ‘আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ ব্যবস্থায় আঘাত করতে সক্ষম হয়। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রদূত চিঠিতে বলেন, “বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন বেসামরিক জনপদের ওপর দিয়ে প্রতিহত করা হয়েছে, যার মধ্যে ওয়েস্ট বে আবাসিক এলাকা এবং বারওয়া রেসিডেন্সিয়াল সিটি অন্তর্ভুক্ত।”
তিনি আরো যোগ করেন, রবিবার (১ মার্চ) সকাল নাগাদ সর্বমোট ‘৯২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৭টি ড্রোন’ শনাক্ত করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, “কাতার রাষ্ট্র যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার, আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার এবং যুক্তি ও বিচক্ষণতাকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করছে। সেইসাথে সংকট নিরসনে এমনভাবে প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানাচ্ছে যা অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষা করে, জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে এবং বড় ধরনের সংঘাতের দিকে ধাবিত হওয়া রোধ করে।”
ঢাকা/ফিরোজ