মিষ্টির প্রতি অদম্য আকর্ষণ: শরীর কোন সংকেত দিচ্ছে?
মাঝেমধ্যে মিষ্টি খেতে ইচ্ছা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যদি প্রায় প্রতিটি খাবারের পরই মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা হয়, তাহলে তা শুধু স্বাদের ব্যাপার নয়—শরীরের ভেতরে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিতও হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ডা. বিজয় নেগালুরের মতে, অনেক সময় এটি শরীরে রক্তে শর্করা (ব্লাড সুগার), ইনসুলিনের কার্যক্রম বা খাবারের গঠন কীভাবে কাজ করছে তার সঙ্গে সম্পর্কিত। যদি মিষ্টির প্রতি আকাঙ্ক্ষা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসে বা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
কেন খাবারের পর মিষ্টি খেতে ইচ্ছা হয়?
পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ (refined carbohydrates) খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায় এবং কিছু সময় পর দ্রুত কমেও যায়। এই হঠাৎ পতনের ফলে শরীরে আবার ক্ষুধার সংকেত তৈরি হয়। মস্তিষ্ক তখন দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে চিনি বা মিষ্টির চাহিদা অনুভব করে। যাদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ডায়াবেটিসের প্রাথমিক ঝুঁকি আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ওঠানামা বেশি দেখা যায়। ফলে তাদের মধ্যে ঘন ঘন এবং তীব্র মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হতে পারে।
খাবারের ভারসাম্য কি গুরুত্বপূর্ণ?
যেসব খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, আঁশ (ফাইবার) বা স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে না, সেগুলো দ্রুত হজম হয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে না। তখন শরীর দ্রুত শক্তির জন্য চিনি খুঁজতে থাকে। তাই প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন, সবজি এবং সম্পূর্ণ শস্য (whole grains) যোগ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে এবং খাবারের পর মিষ্টি খাওয়ার তাড়না কমে।
মানসিক চাপ ও ঘুমের প্রভাব
মানসিক চাপের সময় শরীরে কর্টিসল নামে হরমোন বেড়ে যায়। এই হরমোন শরীরকে দ্রুত শক্তির উৎস খুঁজতে প্ররোচিত করে, ফলে মিষ্টি খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই যারা দীর্ঘদিন মানসিক চাপ বা ঘুমের অভাবে ভোগেন, তাদের মধ্যে খাবারের পর মিষ্টির প্রতি আকাঙ্ক্ষা বেশি দেখা যায়।
এটি কি ডায়াবেটিসের লক্ষণ?
সবসময় নয়। তবে যদি নিয়মিত মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা হয় এবং তার সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি, ক্লান্তি বা পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকে, তাহলে এটি শরীরে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।
তাহলে কি মিষ্টি পুরোপুরি বাদ দিতে হবে?
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা অনেক সময় উল্টো ফল দেয় এবং মিষ্টির প্রতি আকাঙ্ক্ষা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সচেতনভাবে মিষ্টি খাওয়া।
**প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি ফল খাওয়া।
**পরিমাণে কম রাখা।
**খাবারের পর অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় এড়িয়ে চলা।
এগুলো মেনে চললে মিষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব, আবার রক্তে শর্করার ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
**যদি মিষ্টির প্রতি আকাঙ্ক্ষা খুব বেশি হয় এবং এর সঙ্গে অতিরিক্ত তৃষ্ণা পায়।
**ঘন ঘন প্রস্রাব।
**অকারণে ক্লান্তি।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত বলে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞদের।
সূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস