ঢাকা     শনিবার   ০৯ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৬ ১৪৩৩ || ২২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বাংলাদেশ বৈশ্বিকভাবে সম্মানজনক সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪৯, ৯ মে ২০২৬   আপডেট: ২১:৫০, ৯ মে ২০২৬
বাংলাদেশ বৈশ্বিকভাবে সম্মানজনক সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, “বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, ভারসাম্য ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতির ভিত্তিতে সরকার এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে, যা হবে বহুমাত্রিক, নমনীয় এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশকেন্দ্রিক নয়।”

আরো পড়ুন:

শনিবার (৯ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) আয়োজিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ : নতুন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, “বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একক শক্তির আধিপত্যের যুগ শেষের পথে এবং বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে নমনীয় ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তবে কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হবে না। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণই হবে সরকারের মূল লক্ষ্য।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “অর্থনৈতিক কূটনীতি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বৈচিত্র্যময় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে সরকার কাজ করবে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।”

হুমায়ুন কবির বলেন,“ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, উন্মুক্ত ও সহযোগিতামূলক অবস্থান সমর্থন করে। বাংলাদেশ কোনো পক্ষ নেবে না, তবে বাণিজ্য, সংযোগ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে।”

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ শুধু ক্ষতিগ্রস্ত দেশ নয়, বরং বৈশ্বিক জলবায়ু কূটনীতিতে নেতৃত্ব দিতে চায়। এ লক্ষ্যে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ন্যায্য অর্থায়নের পক্ষে বাংলাদেশ জোরাল ভূমিকা পালন করবে।”

তিনি বলেন, “একটি দেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা তার অভ্যন্তরীণ সুশাসন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের ওপর নির্ভর করে। তাই সরকার দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরাচার ও দুঃশাসনের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাবে না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যা হবে সার্বভৌম, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এবং বিশ্বব্যাপী সম্মানিত।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)-এর প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ. এন. এম মুনিরুজ্জামান।

এতে কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসসের।

ঢাকা/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়