ঢাকা     শুক্রবার   ০৮ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৫ ১৪৩৩ || ২০ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে উত্তর কোরিয়ার ২৩০০ সেনা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৫২, ৮ মে ২০২৬   আপডেট: ১৩:২৬, ৮ মে ২০২৬
রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে উত্তর কোরিয়ার ২৩০০ সেনা নিহত

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ উত্তর কোরীয় সেনা নিহত হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র এবং পিয়ংইয়ংয়ের একটি নতুন স্মৃতিস্তম্ভের সরকারি ছবির ওপর ভিত্তি করে বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে শুক্রবার (৮ মে) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার অনুমান, ২০২৪ সালের আগস্টে ইউক্রেন কুর্স্কে আকস্মিক অনুপ্রবেশ শুরু করার পর, পশ্চিম কুর্স্কের কিছু অংশ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার জন্য কমপক্ষে ১১ হাজার উত্তর কোরীয়কে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল।

আরো পড়ুন:

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এর আগেও যুদ্ধে নিহত সেনাদের প্রতি প্রকাশ্যে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ধারণা করা হয়, সেনা সরবরাহের বিনিময়ে পিয়ংইয়ং মস্কোর কাছ থেকে খাদ্য, অর্থ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা পেয়েছিল। উত্তর কোরিয়া কুর্স্ক অভিযানের নিহতের সংখ্যা কখনোই প্রকাশ করেনি।

২০২৫ সালের অক্টোবরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত সেনাদের সম্মান জানাতে পিয়ংইয়ংয়ের হোয়াসং জেলায় একটি জাদুঘর নির্মাণের নির্দেশ দেন।

মার্কিন ইমেজিং কোম্পানি প্ল্যানেট ল্যাবসের সরবরাহ করা স্যাটেলাইট চিত্রের ওপর বিবিসির এক বিশ্লেষণ অনুসারে, ওই মাসে একটি ঘন জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল।

ডিসেম্বরে ৫২ বর্গমিটারের এই কমপ্লেক্সটির একটি প্রাথমিক কাঠামো দেখা যাচ্ছিল। ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে, বাইরের বেশিরভাগ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে হয়। গত মাসে ভূদৃশ্য নির্মাণ এবং পার্শ্ববর্তী স্থাপনাগুলোর কাজ শেষ হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-এর মতে, ২৬ এপ্রিল উন্মোচিত ‘বিদেশে সামরিক অভিযানে বীরত্বের স্মারক জাদুঘর’-এর লক্ষ্য হলো ‘কুর্স্ক অঞ্চলকে মুক্ত করার’ অভিযানে মোতায়েন থাকাকালীন উত্তর কোরীয় সেনাদের ‘অতুলনীয় বীরত্ব’ তুলে ধরা।

এই স্মৃতিসৌধটিতে নাম খোদাই করা দুটি ৩০ মিটার (৯৮ ফুট) দীর্ঘ স্মৃতিপ্রাচীর, একটি ভবন এবং একটি কবরস্থান রয়েছে।

কেসিএনএ প্রকাশিত একাধিক ছবির ওপর বিবিসির একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিটি প্রাচীর প্রায় ১৪টি অংশে বিভক্ত, যেগুলোর উপরের অংশ ধূসর পাথরের রেখা চিহ্নিত। বিবিসির গণনা অনুসারে, এই অংশগুলোর মধ্যে নয়টিতে নাম খোদাই করা আছে এবং প্রতিটিতে প্রায় ১৬টি স্তম্ভ রয়েছে।

পূর্ব প্রাচীরের ক্লোজআপ ছবিতে দেখা যায়, একটি স্তম্ভে নিহত সেনাদের আটটি নাম খোদাই করা আছে। ১৬টি স্তম্ভ এবং নয়টি বিভাগ থাকায়, প্রতিটি দেয়ালে ১ হাজার ১৫২টি নাম খোদাই করা হবে। সেই হিসাবে দুটি স্মৃতিফলকজুড়ে মোট নামের সংখ্যা দাঁড়াবে ২ হাজার ৩০৪।
 

ঢাকা/শাহেদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়