দেশে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বন্দরের অদক্ষতা: বাণিজ্যমন্ত্রী
সিলেট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
সিলেট জেলা প্রশাসনের ন্যাচারাল পার্ক শুক্রবার সকালে পরিদর্শনে যান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, “দেশে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বন্দরের অদক্ষতা। বন্দরের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়ানো গেলে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় কমবে এবং বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
শুক্রবার (৮ মে) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে জেলা পরিষদের ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “বন্দরের এফিশিয়েন্সি বাড়ানো দরকার, এ বিষয়ে সরকার পুরোপুরি একমত। কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনা ও হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি ডেনিশ কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে লোডিং-আনলোডিং প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করা।”
তিনি বলেন, “মনে করেন, একটা জাহাজ আনলোড হতে যদি তিনদিন লাগে, সেই জায়গায় যদি তিন দিনে তিনটা জাহাজ আনলোড করা যায়, তাহলে এফিশিয়েন্সি বেড়ে যাবে। খরচও কমে আসবে। একটি জাহাজ দীর্ঘ সময় বন্দরে আটকে থাকলে তার অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। তাই দ্রুত পণ্য ওঠানামা নিশ্চিত করা গেলে ইউনিট প্রতি খরচ কমানো সম্ভব হবে।”
এ সময় সরকারি মালিকানাধীন শিল্পকারখানার বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “সরকারের কাজ ব্যবসা করা না। সরকার যেখানে ব্যবসা করতে গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ইনএফিশিয়েন্সির কারণে লোকসান হয়েছে। লোকসানি সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু রাখতে জনগণের করের টাকা ব্যয় হচ্ছে। অথচ অনেক কারখানাই ৫০-৬০ বছর আগের প্রযুক্তি ও চাহিদার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল, যা এখন আর বাস্তবসম্মত নয়।”
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “এসব প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা চাই, সেখানে নতুন মিল-ফ্যাক্টরি হোক, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক এবং সরকার রাজস্ব পাক। সরকারি মালিকানাধীন যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বা লোকসানে আছে, সেগুলোকে নতুনভাবে কার্যকর করার জন্য বড় পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।”
ঢাকা/রাহাত/মাসুদ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা