ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৭ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৪ ১৪৩৩ || ১৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির খবর ‘ভুয়া’: গালিবাফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:১১, ৭ মে ২০২৬   আপডেট: ১১:১৭, ৭ মে ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির খবর ‘ভুয়া’: গালিবাফ

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান ও উপহাস করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি একে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের নিয়মিত অপপ্রচার হিসেবে অভিহিত করেছেন। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের।

ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, বুধবার (৬ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটিকে ব্যঙ্গ করে ‘অপারেশন ফক্সিওস’ অর্থাৎ ‘ভুয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আরো পড়ুন:

তিনি উপহাস করে লেখেন, “অপারেশন ট্রাস্ট মি ব্রো ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা ‘অপারেশন ফক্সিওস’ নিয়ে তাদের পুরোনো রুটিনে ফিরেছে।”

গালিবাফের মতে, নামহীন সূত্রের বরাত দিয়ে ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করা মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একটি নিয়মিত অভ্যাস, যা বারবার ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দাবি করেছিল যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি এক পাতার ১৪ দফা সম্বলিত খসড়া চুক্তি পর্যালোচনা করছে, যা কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যে ৩০ দিনের একটি বিশেষ আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে। চুক্তির শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে- ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখবে এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত অর্থ ছেড়ে দেবে। দুই দেশই পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমাতে এবং জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ শিথিল করতে কাজ করবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার মেয়াদ নিয়ে দরকষাকষি চলছে। ওয়াশিংটন ২০ বছর চাইলেও ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দিয়েছে। সম্ভবত এটি ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে মীমাংসা হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হরমুজ প্রণালিতে সামরিক তৎপরতা কমানোর সিদ্ধান্ত এই কূটনৈতিক অগ্রগতির কারণেই নেওয়া হয়েছে। এই কূটনীতির নেতৃত্বে রয়েছেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের নেতৃত্বের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ইরান কোন কোন বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। আগামী ৪৮ ঘণ্টাকে এই চুক্তির ক্ষেত্রে একটি সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তেহরানের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা বলা হয় যে, বর্তমান রূপরেখাটি উত্তেজনা কমানোর একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, যে কোনো সময় এই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

‘এক্সিওএস-এর প্রতিবেদনে সমঝোতার বিষয়ে এত বিস্তারিত তথ্য এলেও ইরানের প্রভাবশালী পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ প্রতিবেদনটিকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়